somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৃত্যাল্পনা

১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

.
যখন আমি অসুস্থ বিছানায় শুয়ে থাকি চুপচাপ, নিজেকে অন্ধকার ঘরের অন্যপ্রান্তে বসে থাকা টেবিলের মতো মনে হয়। সস্তা অথচ পুরু একটা কাঠের টেবিল, এখন তার তেমন কোনো ব্যবহার নেই, কাজে আসে না। কয়েকটি অর্ধপুরনো বই, একটি জলহীন জলের গ্লাস, অপরিচ্ছন্ন মশার কয়েল- এগুলো মাথায় নিয়ে বসে থাকাটাই যেন তার এখনকার জীবনের স্বার্থকতা।

অনেকদিন পর বিছানার পাশে মৃত্যুভয় এসে মাথায় হাত বুলিয়ে গেলো। ভয় নয়, একটা ভালোলাগায় আচ্ছন্ন হলাম- বেঁচে আছি। টেবিলটাও কি আমার মতো মৃত্যুভয় নিয়ে বেঁচে আছে? একটা কাঠপোকা তার শরীর খুঁড়ে যাচ্ছে কবে থেকে। অথচ মৃত্যুভয় নেই দেখে টেবিলটা জানে না- সে বেঁচে আছে।

একসময় মৃত্যুকে ভয় পেতাম। এখন আর পাচ্ছি না দেখে ভয় লাগে। এবার বুঝি সবই হারালাম।

মৃত্যুশয্যায় শুয়ে শুয়ে এসব ভাবতে একধরণের হাহাকার হয়। সেই হাহাকারের শব্দ প্রতিধ্বনির মতো, একবার শুনলে বারবার শুনতে ইচ্ছা করে। আর কে না জানে- মৃত্যুর আগের প্রতিটা শয্যাই একেকটি মৃত্যুশয্যা


.
তার এপিটাফে কি লেখা থাকবে, তা নিয়ে সারাসন্ধ্যা সে ভেবেছিলো।

এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। চট করে সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব না। তাই সে বেশ সময় নিয়ে ভাবতে চাইছিলো। খুব সুন্দর কিছু লেখা থাকা উচিৎ তার শেষ স্মৃতিফলকে। এটাই তার শেষ জীবন্ত চাওয়া। অথচ এই অন্তিম সময়ে কিছুই মাথায় আসছে না।

ভাবতে ভাবতে তার চুল ছেঁড়ার মতো অবস্থা। একসময় জ্বরের ঘোরে তার চোখ হলো টকটকে আর মাথার দপদপ করা শিরা বেয়ে কয়েকটা এলোমেলো বাক্য নেমে এলো যেন।

'আসতে হবে বলে এসেছিলাম। কিন্তু বিদায়ের উপর হাত ছিলো না। তবু বিদায় নিতে পেরে আনন্দিত ও নিজের অকৃতজ্ঞতার কথা ভেবে দুঃখিত।'

বাহ। সুন্দরতো। সে মনে মনে একটা তৃপ্তি অনুভব করে।

অথচ আজ তার এপিটাফটা বড্ড সাধারণ- নাম আর জন্ম-মৃত্যু বাদে কিছু লেখা নেই। ঐ রাতে মৃত্যুর আগে এপিটাফের কথাগুলো সে কাউকে বলে যেতে পারেনি বলে তার সর্বশেষ সঙ্গী শূন্যতাটুকুই তার ফলকের গায়ে অনাদর ও গভীর মমতায় লেপ্টে থাকে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:২৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইউনূস স্যার ক্ষমতায় থাকলে রোহিঙ্গারা এই বছর ঈদ করত মিয়ানমারে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৭


সেদিন উখিয়ার তপ্ত বালুর ওপর দাঁড়িয়ে প্রফেসর ইউনূস যখন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক টানে ঘোষণা করলেন—"তোয়ারা আগামী ইঁদত নিজর দেশত ফিরি যাইবা", তখন মনে হচ্ছিল মুহূর্তের জন্য পুরো বিশ্বটা বুঝি স্ট্যাচু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সজিব কখনো তারেক নয়॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে।এর মধ্যে একটি বহুল আলোচিত মিথ্যা প্রোপাগান্ডা হচ্ছে - সজীব ওয়াজেদ জয় কি সার্চ ইঞ্জিন আবিষ্কার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার কি ভালো লাগে, ভূত না জ্বীন?

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



হ্যা ভূতের গল্প ভালো লাগে।
নলে অবাক হবেন, আমি নিজেও ভূতের কবলে পড়েছি অনেকবার। অথচ জ্ঞানীগুণীরা বলেন, ভূত বলতে কিছু নেই। এই আধুনিক যুগে আমি নিজেও বিশ্বাস করি ভূত... ...বাকিটুকু পড়ুন

শামস সুমন: এক মধ্যবিত্ত অভিনেতার নিঃশব্দ রুচিকর প্রস্থান

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭

শামস সুমন বিষয়ক সংবাদটি যখন স্ক্রীণে পৌছালো ততক্ষণে আমরা ঋদ্ধি ক্যাফেতে, মিরপুর। বসে আছি মাঝখানের টেবিলে। আমি দরজামুখি, ওপাশে রমিন এবং তার পাশে আরো দশ মিনিট পরে এসে বসবে ফরহাদ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার একটু ঘুম দরকার

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৭


আমার একটু ঘুম দরকার—
শান্তির, স্বস্তির গভীর এক ঘুম।
গা এলিয়ে, পা ছড়িয়ে দিয়ে
নিবিড়, নির্বিঘ্ন এমন এক ঘুম;
যে ঘুম পশুপাখির ডাক, মেঘের গর্জন,
বা বাঁশির সুরেও কখনও ভাঙবে না।

প্রভাত থেকে নিশীথ—বিরামহীন পথচলা,
ভাবনারা অহর্নিশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×