somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দাগগল্প: ঊনশাপ

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বন্ধু পৃথকের মুখে তার কথা আমি প্রথম শুনেছিলাম। মেয়েটি নাকি ভবিষ্যৎ দেখতে পারে। প্রথমবার শুনে আমিও ভেবেছিলাম জোচ্চুরি।
'ছাড়তো ওসব'
'না না। সত্যিই।'
'কি দেখে সে?'
'অন্ধকার'
'তুমি না বললে ভবিষ্যৎ দেখে?'
'হ্যাঁ'
'ভবিষ্যৎ না অন্ধকার?'
'দুটোই'। পৃথক সেদিন অনেকটা সময় আমার ঘরে উদাস ভঙ্গিতে চুপচাপ বসে থেকে একসময় উঠে দাঁড়িয়েছিলো। 'যাই'।

পরে শুনেছিলাম, কোনো এক ভ্রমরসন্ধ্যায় মেয়েটিকে খুবলে খেয়েছিলো শকুন; শকুনেরা। অথচ একটি সাদামাটা আকাশের নিচে দাঁড়ানো বড় সাধারণ মেয়ে ছিলো সে। চারটে শকুনকে বাঁধা দিতে পারেনি- এতগুলো লোকের বিরুদ্ধে একটি মেয়ের কতটুকুইবা ক্ষমতা। ইরেজার ঘষে ঘষে তাকে মুছে দেয় তারা। অন্ধকার খামচে ধরে সে যন্ত্রণায় ধীরে ধীরে তলিয়ে যেতে থাকে।

সেই সন্ধ্যেটা মেয়েটিকে নিজের অতীত ভুলিয়েছে, দিয়েছে ভবিষ্যৎ দেখার অসামান্য ক্ষমতা। এখন সে একজন নিঁখুত ভবিষ্যতদ্রষ্টা- বসে বসে নিঃসীম অদ্ভুত আঁধার দেখে। একটি গাঢ় কালো রাত দেখে, যার পাঁজরে শকুনদের অবিরাম ডানা ঝাপটানোর শব্দ। এটিই নাকি তার ভবিষ্যৎ।

সেদিন অনেক রাতে তাকে খুঁজে পেয়েছিলো উদ্ধারকারীরা। কয়েকজন শৃঙ্খলাকর্মী, কিছু মানুষ, দুটি কুকুর, অনেকজন উৎসাহী। একটা নির্মাণাধীন ভবনের নোংরা মেঝেতে বাসি ফুলের মতো পড়েছিলো সে। রক্তস্নাত ও অচেতন। জনতার মধ্য থেকে একজন এগিয়ে এসে নিঃশব্দে নিজের পরনের কাপড়খানা খুলে মেয়েটির নগ্ন শরীরে জড়িয়ে দিলো। কেউ কিছু বললো না। শুধু মেয়েটি জ্ঞান ফিরে নগ্ন শরীরের মানুষটাকে হঠাৎ দেখে একটু চমকে উঠেছিলো।

পৃথক মাঝে মাঝেই সেই অভিজ্ঞতার কথা বলে ফ্যাকাসে ভঙ্গিতে হাসতো। সেই প্রথম তাদের পরিচয়। তারপর শুনতাম মেয়েটি ইদানিং একটা নকশী কাঁথা সেলাই করছে। কখনো কখনো জানালার ফাঁক বেয়ে তাতে চাঁদের আলো পড়লে ছায়াকদম ফোটে। কাঁথার কাজ শেষ হলেই নাকি শামিয়ানার মতো টাঙ্গিয়ে দেবে- তার নিজের হাতে বোনা একখন্ড সাধারণ আকাশ।

বিয়ের আগেরদিন পৃথককে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম,
'সত্যি ভালোবাসো?'
সে কিছু না বলে মাথা নিচু করে রইলো। আর আমি সেই প্রথম তার চোখে জল দেখলাম। চোখের গাল ধরে চিকচিক করছে। তারপর যেন অনন্তকাল পর তার মৃদু আর ভাঙ্গা কণ্ঠ উঁকি দেয়,
'ও জানে না। আমিই ছিলাম চতুর্থজন।'
ঠিক সেই মুহূর্তে চাঁদটা মেঘের আড়ালে হারিয়ে গেলে আমাদের গিলে নেয় আরেকটি আঁধার। বড় করুণ, বড় শীতল সে অনুভূতি।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০১৭ রাত ১:৩৯
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাতার পাখা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:২৮

পাতার পাখা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

নারকেল গাছের পাতা ছিঁড়ে
পাতার শলা আলাদা করে
দুই পাতা সমান করে কেটে
বানাতাম চার ডানার একটি পাখা
খেজুর গাছের কাঁটা ছিঁড়ে
সে কাঁটা পাখার মাঝখান বরাবর গেঁথে
দখিনা বাতাসের মুখামুখি ধরলেই
শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে মিছিল কেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২১


ঢাকার রাজপথে আজ এক নতুন কুশীলবের আবির্ভাব ঘটলো। নাম তার ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’। এই নামের কোনো রাজনৈতিক অস্তিত্বের কথা দেশের আমজনতা না জানলেও, হঠাৎ এক রাতে তারা ‘অবৈধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যদি কামের কাম না হয়, সংখ্যা দেখলে বিগাড় ওঠে

লিখেছেন অপলক , ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২২



বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল বর্তমানে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট। এতেই রুগিরা সেবা পায়না, অপরিচ্ছন্ন, লোকবল নেই, যন্ত্রাংশ নষ্ট, ওষূধ নেই, ১৫০০ শষ্যাবিশিষ্ট করে লাভ কি? সেবা নিশ্চিত হবে না...

এখন ডাক্তাররা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×