somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কার্ডিং অথবা ফ্রড ট্রানজেকশন থেকে সাবধানতার কিছু উপায়

১৬ ই মার্চ, ২০১৬ সকাল ১০:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ একটি অনলাইন পত্রিকাতে "কার্ডিং" নিয়ে একটি আর্টিকেল পরলাম। আর্টিকেলটি পরে অনেক কিছু জানতে পারলাম।
আগে বলে নেই সেই আর্টিকেল এ "কার্ডিং" আসলে কি সেটি সুন্দর করে বোঝানো হয়েছে , নিচে সেটি তুলে ধরলাম :

কার্ডিং কি?

"কার্ডিং শব্দটা অনেকের কাছে নতুন মনে হতে পারে। আসলে কার্ডিং একটা প্রচলিত শব্দ। আপনি কোনো অভিধানে এই শব্দ পাবেন না। এই শব্দটা সাধারণত ব্যবহার হয় অনলাইন ফ্রড ট্রানজেকশন-এর বিকল্প হিসাবে। কারণ যারা ফ্রড ট্রানজেকশন করে তারা আপনার কার্ডের ইনফরমেশন চুরি করে বিভিন্ন অনলাইন স্টোরের মাধ্যমে পণ্য কিনে আপনার টাকা তার নিজের মনে করে ব্যবহার করে।
অর্থাৎ আপনার ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ডের তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে আপনার টাকা হাতিয়ে নেওয়াকে কার্ডিং বলে। কার্ডিং শব্দটা সাধারণত ব্যবহৃত হয় যারা এই কাজ করে তাদের মধ্যে সাংকেতিক ভাষা হিসাবে। আমাদের প্রচলিত ভাষায় ‘ফ্রড ট্রানজেকশন’।"


আর্টিকেলটিতে এটিও উল্লেখ ছিল যে :

"বাংলাদেশে সম্প্রতি যে সকল এটিএম কার্ডের মাধ্যমে টাকা চুরির কেলেংকারি হয়েছে তা ফিজিক্যাল সিকিউরিটির অভাবে। মানে একজন এসে এটিএম বুথে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে গেল আর আপনি দেখলেন না, এটা তো একেবারেই বাচ্চাদের মতো কাজ। তাই সার্ভারের নিরাপত্তার জন্য ফিজিক্যাল সিকিউরিটি ও সফটওয়্যার সিকিউরিটি সমান গুরুত্বপূর্ণ। "

এত কিছু বলার পেছনে কারণটি আমি এখন উল্লেখ করছি :
কিছুদিন আগেও বুথ থেকে টাকা ওঠাতে যেয়ে আমি লক্ষ্য করলাম একজন বুথ এ ওনার কার্ড এন্ট্রি করার পর ওনার কার্ডের গোপন পিন নম্বরটি এমন ভাবে সবার সামনে এন্ট্রি করলেন সবাই সেই পিন নম্বরটি দেখতে পেয়েসিলো (কারণ আমি ওনার একটু দুরেই দাড়িয়ে ছিলাম) অথচ দুইদিন আগে থেকেই খবরে বুথ থেকে টাকা চুরির বেপার এ সতর্ক করে দেয়া হয়ে আসছিল। এত কিছু ঘটে যাওয়ার পরেউ উনি একবারও ভেবে দেখলেননা যে ওনার টাকাও চুরি হতে পারে।

আসলে আমাদের মাঝে সচেতনতার অনেক অভাব। আজই যদি ওনার টাকা চুরি হয়ে যায় তবে কোনকিছু না ভেবেই উনি নিশ্চিন্তে ব্যাঙ্ককে দোষ দিয়ে দিবেন।

ওপরে উল্লেখ করেছি কার্ডিং এর ক্ষেত্রে ফিজিক্যাল সিকিউরিটি ও একটি বড় বেপার।

আমি মনে করি কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে আমরা এই কেলেংকারী থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পেতে পারি।

আমি মনে করি নিম্ন লিখিত কিছু টিপস ফলো করলে কিছুটা হলেও আমরা সেভ থাকলে পারব।

১. কার্ড বুথ এ এন্ট্রি করার পর পিন কোড দেয়ার সময় আমরা আমাদের বাম হাত নম্বর প্যাড এর উপর দিয়ে ডান হাত দিয়ে পিন কোড টাইপ করতে পারি। তাহলে নম্বর প্যাড এর উপর কোনো ডিভাইস থাকলে সেটি আমাদের দেয়া পিন নম্বর টি ট্রেস করতে পারবেনা।

২. আমরা বুথ থেকে টাকা ওঠানোর ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাঙ্কিং ব্যবহার করতে পারি।
আগে জানাই দেয়া ভালো মোবাইল ব্যাঙ্কিং প্রসেস।
(আপনার যদি কোনো ব্যাংকার মোবাইল ব্যাঙ্কিং একাউন্ট থেকে থাকে তবে আপনি বুথ থেকে সে একাউন্ট ব্যবহার করে টাকা বের করে নিতে পারবেন। )
i . প্রথমে বুথ এ যেয়ে আপনি আপনার মোবাইল একাউন্ট নম্বরটি বুথে এন্ট্রি করুন।
ii. এরপর টাকার পরিমান বুথ এ এন্ট্রি করুন।
iii . এবার আপনার মোবাইল এ কম্পিউটার থেকে একটি কল আসবে। কলটি রিসিভ করার পর আপনার মোবাইল ব্যাঙ্কিং এর পিন কোড আপনার মোবাইল এ ডায়াল প্যাড এ টাইপ করুন।
Iv. যদি পিন কোডটি সঠিক হয় তবে বুথে এন্ট্রি করা অর্থ বুথ থেকে বেরিয়ে আসবে।

এখন কথা হচ্ছে আপনি চাইলেই আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্ট এর সাথে আপনার মোবাইল ব্যাঙ্কিং একাউন্ট কানেক্ট করে নিতে পারবেন। এজন্যে আপনাকে শুধু ব্যাঙ্ক এ যেয়ে একটি ফর্ম ফিল করতে হবে।

যদি আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্ট আপনার মোবাইল একাউন্ট এর সাথে কানেক্ট করা থাকে তবে আপনি চাইলেই মোবাইল এর মাধ্যমে ব্যাঙ্ক একাউন্ট থেকে অর্থ মোবাইল ব্যাঙ্কিং এ ট্রান্সফার করে নিতে পারবেন।

এ ক্ষেত্রে সুবিধা গুলি হচ্ছে :
i . বুথ থেকে টাকা ওঠানোর ক্ষেত্রে কার্ড এর দরকার পরবেনা।
ii . মোবাইল একাউন্ট এর পিন কোড যেহেতু আপনার মোবাইল ডায়াল প্যাডএ এট্রি করতে হয় সুতরাং বুথ এ কোনো ডিভাইস লাগানো থাকলেও সেটি আপনার পিক কোড জানতে পারবেনা।

ব্যাঙ্ক গুলিও একটি সুন্দর ব্যবস্তা নিতে পারেন বলে আমি মনে করি। সেটি হল :

১. যদি নম্বর প্যাড গুলিতে ফিঙ্গার প্রিন্ট বসানো থাকে এবং পিন নম্বর টাইপ করার সময় গ্রাহকের আঙ্গুলের ছাপ প্রতি ক্লিককে যাচাই করে দেখে তবে একটু হলেও এই সমস্যাটি দূর করা সম্ভব হতে পারে।

আমি শুধু নিজের মতটিই তুলে ধরলাম নিজেদের সতর্কতার জন্যে।
ধন্যবাদ।

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০১৬ সকাল ১০:৩৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×