somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার নানা বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ মালেক ঢালী এর স্মরণে

১২ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ রাত ৮:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার নানার নাম আঃ মালেক ঢালী। মৃত্যু ১২-ডিসেম্বর-২০১০। তাহার গেজেট নং 348। লাল মুক্তিবার্তা নং ০১০৩০২০০১০।

তিনি ১৯৭১ সালে যুবক। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ এর ভাষণ শ্রবণ করার পর থেকে তিনি কোন কিছুর জন্য প্রস্ততি নিচ্ছিলেন। ২৬ শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা পাবার পর থেকেই তিনি ভারতে যাবার জন্য পরিকল্পনা করছিলেন। সে সময় মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার হোগলাকান্দি গ্রাম ছিলো হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। সে সময় কিছু হিন্দু ভারতে চলে যাচ্ছিলেন, রাজনৈতিক আশ্রয় এর জন্য। আমার নানা তাদের সাথে যোগ দেন। এবং ভারত থেকে ট্রেনিং নিয়ে আসেন। আমার নানা যখন মারা যান, তখন আমি কিশোর। সে বছর আমি এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। যার জন্য তার অপারেশন, তিনি কার নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছেন, কত নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন, বিভিন্ন ইনফরমেশন আমার মাথায় আসে নি। এখন উনি জীবিত থাকলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন ইনফরমেশন, বিভিন্ন সত্য ঘটনা শুনতে পারতাম।

তবে যতটুকু শুনেছি ততটুকু বলছি।

মুক্তিযুদ্ধের জন্য ট্রেনিং করার সময়, একটি দল গজারিয়া তে পাঠায়। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অস্ত্র সাপ্লাই। গজারিয়া কালিপুরা ঘাটে সব সময়, রাজাকারদের ডিউটি পড়ে। সেদিন পাক মিলিটারি সেই ঘাটে ডিউটি করছিলেন। রাতের আধার। নৌকা বোঝাই অস্ত্র। নৌকার ইনচার্জ রাতের অন্ধকারে, নৌকাতে সিগারেট উপভোগ করছিলেন। পাকিস্তানের আর্মিরা সিগারেট এর আলো কে নিশানা করে গুলি ছুরে। শহীদ হয় একজন মুক্তিযোদ্ধা।

এই খবর আবার আমার নানার ট্রেনিং সেন্টারে আসেন। এবং আমার নানা যার কাছে ট্রেনিং করতেন, সেই ট্রেইনার কে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করলেন। ট্রেইনার ছিলেন একজন শিক। তিনি বললেন “সেদিন সেখানে কোন রাজাকার ডিউটিতে ছিলেন না। সেখানে পাকিস্তানের ট্রেনিং প্রাপ্ত সৈন্যদল ডিউটি করছিলেন। যেহেতু তারা সৈনিক, সেহেতু তারা ট্রেনিং প্রাপ্ত। তাই এমন নিখুত নিশানা করেছেন। আর তারা হয়তো এই অস্ত্রের চালান এর খবর আগে থেকে জানতেন। তাই সেদিন রাজাকারদের ডিউটি না দিয়ে নিজেরা ডিউটি করেছেন”



ট্রেনিং শেষ হবার পর যশোর হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। প্রথম বা দ্বীতিয় অপারেশন এর সময় নানা জঙ্গলে লুকিয়ে ছিলেন। হঠৎ এক সাপ নানাকে কামড় দেয়। স্থানীয় কবিরাজ প্রাথমিক চিকিৎসা করার পর, গজ্ঞের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই যাত্রায় নানা বেচে যান।

নানা আফসোস করে বলতেন “অস্ত্র জামা দেওয়ার আগে কিছু রাজাকারদের গুলি করে মারার দরকার ছিলো।” তবে অন্যান মুক্তিযোদ্ধারা কিছু রাজাকারদের অপহরন করেন। বস্তার ভিতর ঢুকিয়ে নদীতে ফেলাইয়া দেয়।

বানান ভুল হলে মাফ করবেন।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ রাত ৮:১১
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×