somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতির ঝলক: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনুভূতি এবং মনের শান্তির খোঁজে

২০ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সরল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সংমিশ্রণে একটি ঘূর্ণায়মান পথ জুড়ে ঘুরে বেড়ানোর অবস্থানে আমি খুব শান্তি অনুভব করি। নদীর জল ছুঁয়ে পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের সঙ্গে এক আন্তরিক সংযোগ অনুভব করি। প্রাকৃতিক গোধূলিতে এই জায়গাটির অসীম শান্তি আমার মনের মধ্যে থাকে এবং এটি আমাকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অমূল্য মূল্যের কথা মনে করিয়ে দেয়।

এই ছবিটি চুয়াডাঙ্গার এক ভাই প্রকাশ করেছেন। এই যে তার ফেসবুক আইডি। ধন্যবাদ ভাই কে এমন ছবি ফেসবুকে আপলোড করার জন্য।

ছবিটি দেখে আমার ২০০৯ সালের ঘটনা মনে পড়ে গেলো। সে সময় আমাদের নানার বাড়ি এমন সুন্দর ছিলো। পাশে রসুলপুর ঘাট। এমন একটি খাল রাস্তার পাশে বয়ে গেছে। রাস্তার দুই ধারে কড়ুই গাছ। মেঘলা আবহাওয়া। আহা কি সুন্দর! সে সময় মানুষ সহজ সরল থেকে কুটিল হতে শুরু করেছিলো। এখনকার মানুষ প্রচন্ড কুটিল। শয়তানও এখন মানুষকে দেখে ভয় পায়।

আমি ২০১১ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ইন্টারে ওঠলাম। আমি এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি নানা বাড়ি থেকে। আমার নানার বাড়ি সাতকাহনিয়া গ্রাম, ডাকঘর: ভবেরচর, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ। আমাদের উপজেলা একটি দ্বীপ জাতীয় উপজেলা। মানে আমাদের গজারিয়া উপজেলা নদী দিয়ে বেষ্টিত। আমাদের উপজেলার উত্তরে নারায়নগঞ্জ এর সোনারগাওঁ উপজেলা, দক্ষিনে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলা। দাউদকান্দি আমার সাবেক স্ত্রী এর বাসা। পূর্বে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা। পশ্চিমে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা।

২০১১ সালে আমি এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে হবিগঞ্জ এ গিয়েছিলাম। আমার আব্বু সেখানে চাকরি করতেন। তখন আমার মন রঙ্গ রসে ভরা ছিলো। এসএসসি পরীক্ষার ছুটির পর মামা আমাদের হবিগঞ্জের সরকারি কোয়ার্টরে বেড়াতে আসেন। আর একটি মাইক্রো বাস ভাড়া করেন। আর আমারা মৌলভি বাজার এর বিভিন্ন চা বাগান ও পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েছিলাম।




স্থান: মৌলভীবাজার এর কোন এক পাহাড়।

ছবিটি তুলেছিলাম নকিয়া ৫১৩০ মোবাইল দিয়ে। যদিও এটা কোন স্মার্ট ফোন ছিলো না। তবে এর ফাংশাং কোন অংশে এন্ডোয়েট এর থেকে কম ছিলো না। এটা ছিলো সে সময়কার স্মার্ট ফোন। অপেরা মিনি দিয়ে ইন্টারনেট ব্লাউজিং, গান শোনা, এফএম রেডিও তে ভূত এফ এম শুনা ছিলো আমার নিয়তিম অভ্যাস।

২০১১ সালে রেডিও ছিলো জনপ্রিয় বিনোদন এর মাধ্যম। সে সময় সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিলো ভূত এফএম। যেটি রেডিও ফূর্তিতে বৃহস্পতিবারে রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে প্রচারিত হতো। তখন ইউটুব এর প্রচলন তেমন ছিলো না। তাই রেডিও তে এই অনুষ্ঠান শুনতাম। বর্ষার রিমিঝিমি বৃষ্টির শব্দে ভূত এফএম শুনতে ভালো লাগতো। আর ভালো লাগতো শীতে লেপের নিচে গিয়ে ভূত এফ এম শুনতে। আমি আমার মেমরি কার্ড এর শুধু কিছু সিলেকটিভ গান রাখতাম। যেসব গান ভালো লাগতো সেগুলো রাখতাম। যেগুলো গান কম্পিউটারের দোকানে পাওয়া যেতো না সেগুলো ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে নিতাম।

২০১১ সালে আমি ‍জুন মাসে কলেজে ভর্তি হই। কারন সে সময় এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে, রেজাল্ট বাহির হতে হতে মে মাস এসে যেতো। আর জুনে কলেজ ভর্তি নিতো। কোন এক বৃষ্টির দিনে আমি কলেজে প্রথম ক্লাস করেছিলাম। আর কোন এক মেঘলা ‍দুপরে ভবেরচর বাস স্ট্যান্ড থেকে বই কিনে বাসায় আসি। সে সময় ভবেরচর বাস স্ট্যান্ড থেকে বাসায় আসার পথটি প্রায় এমন ছিলো।

আজ এই ছবিটি দেখে আমার পুরানো দিনের কথা মনে পড়ে গেলো। সে সময় আমার মনে প্রেম ছিলো, ভালোবাসা ছিলো, মনে রং ছিলো। আজ বিভিন্ন দায়িত্বের চাপে মনের সব রং কই যেন হারিয়ে গেলো।


চুয়াডাঙ্গা ভাই এর সেই ছবিটি। লিংকে ঢুকে দেখতে পারেন।


শেষের ছবিটি আমাদের সাতকাহনিয়া গ্রামের।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১:০২
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফিরে দেখা - ২৭ মে

লিখেছেন জোবাইর, ২৭ শে মে, ২০২৪ রাত ৯:০৪

২৭ মে, ২০১৩


ইন্টারপোলে পরোয়ানা
খালেদা জিয়ার বড় ছেলে, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বেনজীর আহমেদ ও আমাদের পুলিশ প্রশাসন

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২৭ শে মে, ২০২৪ রাত ৯:৪২



বৃষ্টিস্নাত এই সন্ধ্যায় ব্লগে যদি একবার লগইন না করি তাহলে তা যেন এক অপরাধের পর্যায়েই পরবে, যেহেতু দীর্ঘদিন পর এই স্বস্তির বৃষ্টির কারণে আমার আজ সারাদিন মাটি হয়েছে তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

**অপূরণীয় যোগাযোগ*

লিখেছেন কৃষ্ণচূড়া লাল রঙ, ২৮ শে মে, ২০২৪ ভোর ৫:১৯

তাদের সম্পর্কটা শুরু হয়েছিল ৬ বছর আগে, হঠাৎ করেই। প্রথমে ছিল শুধু বন্ধুত্ব, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তা গভীর হয়ে উঠেছিল। সে ডিভোর্সি ছিল, এবং তার জীবনের অনেক কষ্ট ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাজার যুদ্ধ কতদিন চলবে?

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ২৮ শে মে, ২০২৪ সকাল ১০:২৩

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার আগে মহাবিপদে ছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু৷ এক বছর ধরে ইসরায়েলিরা তার পদত্যাগের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন৷ আন্দোলনে তার সরকারের অবস্থা টালমাটাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রায় ১০ বছর পর হাতে নিলাম কলম

লিখেছেন হিমচরি, ২৮ শে মে, ২০২৪ দুপুর ১:৩১

জুলাই ২০১৪ সালে লাস্ট ব্লগ লিখেছিলাম!
প্রায় ১০ বছর পর আজ আপনাদের মাঝে আবার যোগ দিলাম। খুব মিস করেছি, এই সামুকে!! ইতিমধ্যে অনেক চড়াই উৎরায় পার হয়েছে! আশা করি, সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×