
চিত্র: ওভার ব্রীজ থেকে কমলাপুর রেল স্টেশন এর ছবি।
ঢাকা থেকে সান্তাহার: এক রেলযাত্রার অভিজ্ঞতাঃ
গতকাল আমি একটি রেল ভ্রমণে বেরিয়েছিলাম। গন্তব্য ছিল ঢাকা থেকে সান্তাহার, বগুড়া। যাত্রার সময় ছিল বিকেল ৫টা, কিন্তু ট্রেনটি যাত্রা শুরু করেছিল রাত ৭টা ৪০ মিনিটে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ট্রেনে উঠলাম, এবং আমার যাত্রা শুরু হলো।
সান্তাহার রেল স্টেশন থেকে নওগাঁর পথে যেতে যেতে ফজরের আযান শুনতে পেলাম। এই রেলযাত্রা আমার কাছে ছিল কিছুটা আলাদা এবং বিশেষ।
সহযাত্রী হিসেবে পছন্দঃ
রেলযাত্রায় সহযাত্রী হিসেবে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের সঙ্গ আমার কাছে বেশি পছন্দনীয়। ছেলেদের সাথে থাকলে তেমন ভদ্রতা বজায় রাখার চিন্তা করতে হয় না, তবে সাথে মহিলা থাকলে তার সাচ্ছন্দ্যের জন্য অতিরিক্ত ভদ্রতা বজায় রাখতে হয়। এ কারণে, সহযাত্রী হিসেবে ছেলেদের সঙ্গ আমাকে বেশি স্বস্তি দেয়।
এসি বনাম নন-এসিঃ
ট্রেনে আমি সাধারণত এসি টিকেট কাটার চেষ্টা করি, তবে নন-এসি বগি আমার বেশি ভালো লাগে। নন-এসি বগিতে হকার আসে, তাদের কাছ থেকে চানাচুর, সিঙ্গারা, কলা ও অন্যান্য জিনিস ক্রয় করা যায়। এসি বগিতে তেমন সুযোগ থাকে না। এছাড়া, এসি বগিতে সহযাত্রীদের সাথে কথা বলতে সংকোচ বোধ হয়, যেখানে নন-এসি বগির যাত্রীদের সাথে মন খুলে কথা বলা যায়।
নন-এসি বগির একটা অন্যরকম মজা আছে। হকারদের হাঁক-ডাক, বিভিন্ন খাবার কেনার মজা, যাত্রীদের সাথে সহজে আলাপচারিতা—সব মিলিয়ে নন-এসি বগি যেন একটা ক্ষুদ্র সমাজ।
একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতাঃ
এই রেল ভ্রমণটি আমার জন্য ছিল একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। ঢাকার ব্যস্ত জীবন থেকে বেরিয়ে এসে সান্তাহারের পথে এই যাত্রা ছিল শান্তিময়। রেলগাড়ির জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখতে দেখতে সময় কেটে যাচ্ছিল। রাতের আঁধারে ট্রেনের কু ঝিক ঝিক শব্দে এক অন্যরকম শান্তি অনুভব করছিলাম।
সর্বোপরি, ট্রেন যাত্রা সবসময়ই একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। এটি শুধু একটি স্থান থেকে আরেকটি স্থানে যাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি বিভিন্ন মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার, নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের এবং নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার একটি সুযোগ।
আপনারাও সময় পেলে এমন একটি রেল যাত্রায় বেরিয়ে পড়ুন। জীবনকে নতুনভাবে অনুভব করুন, নতুন মানুষের সাথে মিশুন, আর নিজের ভেতরের মানুষটাকে নতুন করে চিনুন।


সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০২৪ রাত ১০:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



