somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কণিকাকে বাঁচাতে লড়াই: আপনাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি

১০ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ১০:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কণিকা আক্তার কাস থ্রি তে পড়ে। সে টাঙ্গাইলের আইডিয়াল প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষর্থী। মেধাবী, উচ্ছল, প্রাণবন্ত এই মেয়েটির বয়স মাত্র আট বছর। কিন্তু অকালেই ছোট্ট এই সোনামনির দেহে বাসা বেঁধেছে ঘাতক ব্যাধি থ্যালাসেমিয়া। প্রতি মাসে ওর আধ ব্যাগ ‘বি পজিটিভ’ রক্ত দরকার হয়। ‘বি পজিটিভ’ রক্ত তুলনামূলক সহজলভ্য রক্ত। আর ট্রান্সফিউশনের জন্য লাগছে খুবই সামান্য টাকা --মাত্র এক হাজার টাকা। কিন্তু এই সহজলভ্যতা আর সামান্য ক’টা টাকার কাছেই যেন হার মানতে বসেছে এই ছোট্ট শিশুটির অসীম জীবনী শক্তি আর সমস্ত প্রাণচঞ্চলতা। কারণ কণিকার বাবা টাঙ্গাইল শহরের পার্কের বাজারে দিনমজুরির ভিত্তিতে কসাইয়ের কাজ করে আর মা গৃহপরিচারিকার কাজ করে। দুজনের মোট মাসিক আয় সাকুল্যে গড়ে চার হাজার টাকা। এর মধ্যে খাওয়া দাওয়া বাবদই মোটা একটা অঙ্ক চলে যায় তাদের। তাতে এ সংসারে আসলে নূন আনতে পান্থা ফুরোয়। এ পরিস্থিতিতে প্রতি মাসে এক হাজার টাকা আর রক্ত কেনা এ অভাগা বাবা মা’র পক্ষে দূরুহ ব্যাপার। কণিকা ফ্যাল ফ্যাল করে ওর বন্ধুদের উচ্ছাস, চঞ্চলতা দেখে এখন। আর সে নিস্তব্ধ বসে থাকে স্কুলের মাঠের পাকুড় গাছের নিচে। সে কী বাঁচবে? কণিকা আমাকে জিজ্ঞেস করে ‘ভাইয়া আমার জন্ডিস (ও ওর রোগটার নাম জানে না), রক্ত নেওন লাগে প্রত্যেক মাসে। আমি কী মরে যামু?’ ছোট্ট কোমল এই শিশুর মুখে মৃত্যুর কথা শুনে আমার বুকের ভেতর খা খা করে ওঠে। কান্নায় গলাটা ব্যাথা করে। আমি অন্য দিকে তাকাই, স্বান্ত্বনা আমি দিতে জানি না। আমার শুধু কান্না পায়। কণিকার মা বলেন, ‘আমি জানি না এখন কী করব। আমার এ কলিজার টুকরা, বুকের ধনকে আমি কী আর রাখতে পারব?’ এক অসীম শূণ্যতা তখন কণিকার মায়ের চোখে, মৃত্যুর কাছে অসহায় এক স্নেহময়ী মা। কণিকার বাবার চোখে শুধু পানি, তার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে বলে সে কিছুই বলতে পারে না। কণিকার বাড়িতে দাঁড়ালে মনে হয় মৃত্যুর কাছে অসহায় হয়ে মানুষগুলো সব নিথর হয়ে গেছে।

আমরা কি পারি না এ অকাল মৃত্যুটাকে ঠেকিয়ে দিতে? আমরা কি পারি না মৃত্যুর মুখ থেকে এ নিষ্পাপ শিশুটিকে ছিনিয়ে আনতে? জানি না। তবে দৃপ্ত প্রতিজ্ঞা করেছি এ লড়াইটা আমরা লড়ব। সব মানুষ মিলে অকাল মৃত্যুর বিরুদ্ধে আমরা লড়ব; যেমন মানুষ লড়েছে সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই। শেষ পর্যন্ত যে ইতিহাসে মানুষই জয়ী, সেই ইতিহাসের চাকাই আমরা ঘুরিয়ে যাব। তাই শপথ নিয়ে এগিয়ে এসেছে টাঙ্গাইলেরই কিছু তরুণ তরুণী, তারা নিজের তাজা খুন দিয়ে বাঁচাতে চায় কণিকাকে।

টাঙ্গাইলে মোট সাতজন তরুণ-তরুণী যাদের রক্তের গ্র“প ‘বি পজেটিভ’ তারা প্রতিমাসে চাক্রাকারে কণিকাকে স্বেচ্ছায় রক্ত দেবে, যতদিন প্রয়োজন ততদিন। এখন আমাদের দরকার কিছু টাকা। যদি সব মানুষ সামান্য কিছু করে টাকা দান করেন এই ছোট্ট মেয়েটির জন্য; তবে এ লড়াইটা দুর্বার হবে। এবার রুখে দেব আমরা অকাল প্রাণের য়। আপনাদের কাছে কণিকার আকুল আবেদন সামান্য কিছু টাকা দান করে ওকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইটা করুন।



কণিকাকে বাঁচানোর লড়াইতে আর্থিক সাহায্য পাঠানোর অনলাইন ব্যাংক একাউন্ট নম্বর: সেভিংস একাউন্ট, রুমা আক্তার, ১৯৬.১০১.৪৪২৯১, ডাচ বাংলা ব্যাংক। [রুমা আক্তার কণিকার মায়ের নাম]

বিস্তারিত জানার জন্য ফোন করুন: মোঃ ইমরান খান ০১৯১৭১৯৩৩১০, আইরীন পারভীন ০১৯১৫৩৪১৪৬৭

ইমেইল ঠিকানা: [email protected]
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×