শিল্পে অনগ্রসর বাংলাদেশে গার্মেন্টসহ হল সবচেয়ে বড় শিল্পখাত। এই খাত থেকে সিংহভাগ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। সর্বাধিক সংখ্যক শ্রমিকও এই খাতেই নিয়োজিত। গার্মেন্টস শিল্পের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হল এই শিল্পে প্রধানত নারী শ্রমিকরাই কাজ করে। নারীদের ৰমতায়নে এই শিল্পের অবদান অনস্বীকার্য। স্বাধীনতাপূর্বকালে এদেশে শিল্পের যে বিকাশ ঘটেছিল তা জাতীয়করণসহ বিভিন্ন ধরনের ভুল রাষ্ট্রীয় নীতির ফলে রম্নদ্ধ হয়ে যায়। ধ্বংস হয়ে যায় পাট, বস্ত্র, চিনি ও কাগজসহ নানা ধরনের শিল্প। বিপুল লোকসানের বোঝা বহনে অৰম সরকার শেষ পর্যনত্দ এদেশের গর্ব আদমজী জুট মিলটিও বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। এর মধ্যদিয়ে অবসান ঘটল পাকিসত্দান আমলে গৃহীত শিল্পোদ্যোগের।
1971 -এর 16 ডিসেম্বর পাকিসত্দান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে যে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উদ্ভব হয় তাতে দৃশ্যমান কোন উদ্যোক্তা শ্রেণী ছিলো না। ছিলো না বিনিয়োগ করার মত পুঁজি। অথচ এই শূন্যতার মধ্যেই গড়ে উঠল একটি ধনাঢ্য শ্রেণী এবং তাদের হাতে পুঞ্জিভূত হতে থাকল বিনিয়োগযোগ্য পুঁজি। দুনিয়ার অগ্রসর ধনী দেশগুলোর মতোই বাংলাদেশে পুঁজি গঠনের ইতিহাস নীতি-নৈতিকতার পথ ধরে এগোয়নি। রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা থেকে পুঁজি ছিনতাই, বেআইনি ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ নিয়ে মুনাফার পাহাড় গড়া, ঘুষ-দুনর্ীতির মাধ্যমে অর্থবিত্ত সংগ্রহ করা, বড়-বড় রাষ্ট্রীয় কেনাকাটায় কমিশন আত্মসাৎ করা, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করা, রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য ভোগ করাসহ নানাবিধ অবৈধ পন্থায় এদেশে একশ্রেণীর মানুষের হাতে পুঁজির পুঞ্জিভবন ঘটেছে। যারা অবৈধ পন্থায় ধন-সম্পদের মালিক হয়েছে তারা নিঃসন্দেহে সমাজের অন্যান্য সৎ ও নিরীহ গোষ্ঠীগুলোর তুলনায় অনেক বেশি চতুর এবং বলা যায় দুঃসাহসীও বটে। ইংল্যান্ডের মত দেশে যেভাবে পুঁজির সঞ্চয়ন ঘটেছিল সেরকম সুযোগ বাংলাদেশে ছিলো না। উপনিবেশ থেকে সম্পদ লুণ্ঠন করে পুঁজি গঠনের অবস্থা বাংলাদেশের নেই। তদুপরি শিল্প বিপস্নবের প্রথম যুগে যত তীব্র শ্রমিক শোষণ সম্ভব ছিল সেটাও গত দু'শ বছরে বিশ্ব সমাজের যে অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশে তার ফলে সেটাও সম্ভব নয়। শিল্প বিপস্নবের প্রথম যুগে শ্রমিক শোষণ সম্বন্ধে ফ্রেডারিক এঙ্গেলস একটি মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। গ্রন্থটির নাম ঞযব পড়হফরঃরড়হং ড়ভ ড়িৎশরহম পষধংং রহ ঊহমষধহফ'' এঙ্গেলস এই গ্রন্থে যেসব তথ্যের সনি্নবেশ ঘটিয়েছিলেন তার বেশিরভাগই তিনি পেয়েছিলেন তৎকালীন ইংল্যান্ডের ফ্যাক্টরী ইন্সপেক্টরদের রিপোর্ট থেকে। এই ফ্যাক্টরী ইন্সপেক্টররা শ্রমিকদের প্রতি বেশ সহানুভূতিশীল ছিল। বাংলাদেশে পুঁজি গঠনের আরো কিছু আদি উৎস আছে। যেমন মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যাংক লুটের টাকা ও দেশ স্বাধীন হওয়ার অব্যবহিত পর অবাঙালিদের ঘরবাড়ি ও অর্থ সম্পদ দখল করা। প্রাথমিকভাবে এ রকম অবৈধ ছাড়া পুঁজি গঠন বাংলাদেশের মত দেশে প্রায় অসম্ভব বললে বাড়িয়ে বলা হবে না।
পুঁজি গঠনের আদি ইতিবৃত্ত যতই ক্লেদাক্ত হোক না কেন যদি সেই পুঁজি উৎপাদনে বিনিয়োজিত হয়, বিনিয়োজিত পুঁজি থেকে অর্জিত মুনাফা যদি উত্তরোত্তর বিনিয়োগ হয়, দেশে কর্মসংস্থানের পরিসর বৃদ্ধি করে, বিনিয়োগকারীরা যদি নিয়োগকৃত শ্রমিকদের প্রতি মানবিক আচরণ করে এবং বিনিয়োগকারীরা যদি রাষ্ট্রকে প্রদেয় কর পরিশোধ করে তাহলে পুঁজিবাদী উন্নয়ন কৌশলের আওতায় এই প্রক্রিয়াকে বিগর্হিত মনে হলেও বলতে হবে অবশ্যম্ভাবী। এসব নিয়ে ৰোভ প্রকাশ করা যায়, কিন্তু এড়ানো যায় না। বাংলাদেশের গার্মেন্টসের আদি পুঁজি কোথা থেকে এসেছে সেটা আজকের আলোচনার বিবেচ্য বিষয় নয়। তবে স্বাধীনতার পর পর যে বা যারা গার্মেন্টসকে একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন তাদের প্রশংসা না করে পারা যায় না। 'যে দেশে উদ্যোগের অতীত ইতিহাস বলতে তেমন কিছু নেই সেই দেশে যারা প্রথম দিকে এই শিল্পটি গড়ার কাজে উদ্যোগী হয়েছিলেন তাদের সুদূর প্রসারী দৃষ্টি যে ছিল তা স্বীকার কতেই হয়। হাঁটি হাঁটি পা- পা করে এই শিল্পটি অনেক পথ পাড়ি দিয়েছে। 2005 এ কোটা ব্যবস্থা বিলুপ্ত হবার পর এই শিল্প প্রবল সংকটের মুখোমুখি হবে বলে দাতাসংস্থাসহ দেশের অনেকেই আশংকা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু বাসত্দব অভিজ্ঞতা তার বিপরীতটিই প্রমাণ করেছে। বাং-লাদেশের গার্মেন্টস বিশ্ববাজারে তার উপস্থিতি সংহত ও সম্প্রসারিত করতে পেরেছে। স্বীকার করতে হবে গার্মেন্টস কেন্দ্রিক এই বিকাশ ঝুঁকিপূর্ণ থেকে গেছে- কারণ একটি দেশের শিল্পখাত যদি খুবই সীমাবদ্ধ থাকে তাহলে একটি ঝুড়িতে সব ডিম রাখার মত বিপত্তিকর হতে পারে। বাংলাদেশ সেই বিপদ থেকে মুক্ত নয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গার্মেন্টসে পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প হিসেবে বস্ত্র শিল্পে খাতও বিকশিত হয়েছে। এটা শুভ লৰণ। যেদিন গার্মেন্টস শিল্প-কেন্দ্রিক মুনাফা আরো বিচিত্র ধরনের শিল্প গড়ার কাজে দৰভাবে ব্যবহৃত হতে শুরম্ন করবে সেদিন আমরা দাবী করতে পারব বাংলাদেশের শিল্পখাত একটি শক্ত বুনিয়াদের উপর দাঁড়াতে পেরেছে।
এই যে গার্মেন্টস খাত যা আমাদের জাতীয় গর্বের ধনও বটে সেই খাতের জন্য কৃষ্ণদিবসটি ছিল গত 23 মে মঙ্গলবার। এইদিন ও তার আগের দিন ভাঙ্গচুর ও অগি্নসংযোগের কবলে পড়েছে প্রায় 300 গার্মেন্টস কারখানা। মঙ্গলবারের ধ্বংসাত্মক ঘটনা সম্পর্কে একটি দৈনিক দৃষ্টি আকর্ষণীয় মূলক ছক প্রকাশ করেছে। এই ছক থেকে দেখা যায়।
তেজগাঁও 11 গার্মেন্টস, 17 ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও 32 গাড়ি ভাঙচুর, অগি্নসংযোগ, সড়ক অবরোধ হয়েছে, মিরপুর, পলস্নবী ও কাফরম্নলে 100 গার্মেন্টস, 300 ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও 50 গাড়ি ভাঙচুর, অগি্নসংযোগ সড়ক অবরোধ হয়েছে, সাভারে 45 গার্মেন্টস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, অগি্নসংযোগ ও সড়ক অবরোধ হয়েছে, টঙ্গীতে 4 গার্মেন্টস, 10 ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও 500 গাড়ি ভাঙচুর, অগি্নসংযোগ সড়ক অবরোধ হয়েছে, গাজীপুরে 100 গার্মেন্টস, 100 ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, 200 গাড়ি ভাঙচুর, অগি্নসংযোগ হয়েছে এবং রূপগঞ্জে 5 গার্মেন্টস, 1 শিল্প প্রতিষ্ঠান ও গাড়ি ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধ হয়েছে। এককথায় বিশাল এলাকা জুড়ে ঘটানো হয়েছে ধ্বংসের তান্ডব। ৰতির পরিমাণ এক হিসেব মতে 1000 কোটি টাকা। যারা এই ধ্বংসযজ্ঞে অংশগ্রহণ করেছে তারা যে অত্যনত্দ সংগঠিত এবং একটি কেন্দ্র থেকে সুপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়েছে তা মনে করা অবানত্দর নয়। এই ধ্বংসযজ্ঞে ৰতিগ্রসত্দ হল গার্মেন্টস শিল্প এবং সেই সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি। বিদেশী ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে ভবিষ্যতে গার্মেন্ট সামগ্রী ক্রয় করতে দ্বিধান্বিত হবেন এই আশংকা একেবারে অমূলক হবে না। গার্মেন্টসে এই যে ধ্বংসযজ্ঞ সংঘটিত হল এই সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। কেউ-কেউ মনে করেন দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের উপর যে অমানবিক নিষ্ঠুর ও বলগ্াহীন শোষণ চলে আসছে তারই বিস্ফোরণোন্মুখ প্রতিক্রিয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। অপরদিকে গার্মেন্টস মালিকরা মনে করেন বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংস করার জন্যই বিদেশী ইন্ধনে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনের নিজস্ব কিছু ব্যাকরণ আছে। শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করতে পারেন, ধর্মঘট করতে পারেন, কাজের গতি মন্থর করে দিতে পারেন, কিন্তু যে কারখানা তাদের রম্নটি-রম্নজির উৎস তা ধ্বংস করতে পারেন না। কিংবা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতে পারেন না। এদেশে অতীতে একাধিক জঙ্গি, গণআন্দোলন, গণবিৰোভ ও গণঅভু ত্থান হয়েছে। 1969 -এর গণঅভু্যত্থান ছিল ব্যাপকতা ও গণজঙ্গিত্বে সবচাইতে প্রবল। সেই আন্দোলনের এক পর্যায়ে শ্রমিকরা তাদের দাবী-দাওয়া আদায়ের জন্য মালিকদের ঘেরাও করতে শুরম্ন করে। এইসব ঘেরাও-এর সময় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা হিসেবে আমাকেও শ্রমিক ও মালিক পৰের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা নিতে হয়েছে। কিন্তু সেদিনও কোন মিল-কারখানা ধ্বংসের ঘটনা ঘটেনি। ইংল্যান্ডে শিল্প বিপস্নবের সূচনা হয়েছিল যন্ত্রায়নের মাধ্যমে। বাষ্পীয় ইঞ্জিন ও স্পিনিং জিনি আবিষ্কারের কথা আমরা জানি। যন্ত্রায়নের ফলে ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও শিল্পীরা কর্মচু্যত হয়ে বেকার হয়ে যাবে এরকম আশঙ্কার পরিপ্রেৰিতে লুডাইড আন্দোলনের সূচনা হয়। উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে এই আন্দোলন ব্যাপক দাঙ্গা ও ধ্বংসযজ্ঞের রূপ লাভ করে। এই আন্দোলন ইউরোপের মূল ভূখন্ডেও ছড়িয়ে পড়েছিল। অনেক ৰেত্রে শ্রমিকরা কারখানা আক্রমণ করে মেশিনপত্র ভেঙ্গে তছনছ করে দিত। নতুন গড়ে ওঠা বস্ত্র কারখানাগুলো ছিল লুডাইডদের আক্রমণের লৰ্যবসত্দ। লুডাইডরা তাদের নামকরণ অর্জন করেছিল নেডলুড নামক এক কিংবদনত্দীর নায়কের নামানুসারে। এই নেডলুড ছিল অনেকটা রবিনহুডের মত। 1820 সাল নাগাদ লুডাইড আন্দোলন সত্দিমিত হয়ে যায়। শ্রমিকরাও উপলব্ধি করতে শুরম্ন করে মেশিন ধ্বংস করা কোন সমাধান দেয় না। সেই থেকে আজ পর্যনত্দ দুনিয়ার দেশে-দেশে শ্রমিক আন্দোলনে কারখানা ধ্বংস করা সম্পূর্ণ পরিত্যাজ্য। লুডাইড আন্দোলনের প্রাণবনত্দ চালচিত্র পাওয়া যাবে ঊ.ঢ় ঞঐঙগচঝঙঘ প্রণীত কদণ বটপধভথ মত ঞযব সধশরহম ড়ভ ঃযব বহমষরংয ড়িৎশরহম পষধংং' গ্রন্থে।
গার্মেন্টসগুলোর উপর কারা আক্রমণ করেছে? বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে জানা যায়, হেলমেট ও টি-শার্ট পরা একদল তরম্নণ এই আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছে। তাদের পরিচয় উদ্ঘাটিত হওয়া উচিত। গার্মেন্টস সেক্টরে দু' লাখের মত বিদেশী নাগরিক কর্মরত আছে। এদের বেশির ভাগই ভারতীয়। এ ছাড়াও রয়েছে চীনা ও কোরিয়ানরা। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে এদের সম্পর্কের বিষয়টিও উদ্ঘাটিত হওয়া দরকার। ঢাকা ইপিজেডে ভারতীয় মালিকানাধীন কোন গার্মেন্টস কারখানাকে কেন টার্গেট করা হলো না সেটাও জানা দরকার। বেশকিছু ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকরা হামলাকারীদের প্রতিহত করতে চেয়েও প্রতিহত করতে পারেনি। কারণ, হামলাকরীরা ঝটিকা আক্রমণের কৌশল প্রয়োগ করেছিল। এ বছর জার্মানিতে ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ার্ল্ড কাপের জন্য জার্মানি 21 লৰ টি শার্টের অর্ডার দিয়েছিল। এই টি শার্ট প্রস্তুতকারী গাজীপুরের একটি গার্মেন্টস কারখানা থেকে হামলাকারীরা কয়েক লৰ টি শার্ট লুট করে নেয়। ঘটনাটি ঘটল এমন এক সময় যখন আরেকটি শার্ট কেনার আলাপ-আলোচনার জন্য একটি জার্মান ব্যবসায়ী টীম রাজধানীতে অবস্থান করছিল। গার্মেন্টসের এই নাশকতা 100 কোটি ডলার মূল্যের অর্ডার সাপস্নাইয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশকে বিশ্ব বাজার থেকে বিতাড়িত করতেই প্রতিযোগিরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
গার্মেন্টস শ্রমিকরা আমাদের দেশে ভীষণভাবে শোষিত ও বঞ্চিত এ কথা অস্বীকার করবার উপায় নেই। তারা সনত্দোষজনক মুজরি থেকে বঞ্চিত। তাদের কাজের ঘন্টারও কোন সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তাদের দেয়া হয় না। নিয়োগপত্র। মামুলি অজুহাতে অনেকসময় শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়। ছাঁটাইকালে অগ্রিম বেতন পরিশোধের নিয়মও মানা হয় না। শ্রমিকরা আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্রও পায় না। যে শিল্পটি বিশ্ববাজারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত এবং এই মর্যাদায় অভিষিক্ত হতে শ্রমিকদের যে অবদান তার প্রতি অব্যাহত তাচ্ছিল্য শিল্পের জন্য কখনোই মঙ্গলজনক হতে পারে না। তাই গার্মেন্টস শিল্পে শ্রমিক-মালিক সু-সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা আজ সময়ের দাবী। মনে রাখতে হবে, সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত শ্রমিক কেবল মালিকের খরচের বোঝাই বাড়ায় না, তাদের সন্তুষ্টি ও তৃপ্তি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিরও সহায়ক। তবে রহস্যের বিষয় হল মঙ্গলবারের ঝটিকা আক্রমণে শ্রমমান অনুসরণকারী গার্মেন্টস কারখানাগুলোও রেহাই পায়নি, এ থেকে সন্দেহ ঘনীভূত হয়।
বাংলাদেশকে ঘিরে একটি বড় প্রতিবেশী দেশের ষড়যন্ত্রের জাল বিসত্দারের প্রয়াস আছে বলে অনেকেই মনে করেন। বাংলাদেশকে নিরনত্দর অসত্দিতিশীলতার মধ্যে গলধঘর্ম করে ফায়দা লোটাই এই ষড়যন্ত্রের আসল লৰ্য। ব্যাপারটি যদি এরকম হয়, তাহলে বলতে হবে এরকম ঘটনা আরো ঘটতে থাকবে। নিজেদের দূর্বলতার সুড়ঙ্গ পথেই বিদেশীরা ষড়যন্ত্রের জাল বিসত্দার করে। সুতরাং বিদেশীদের অস্থিরতা সৃষ্টির কোন সুযোগই দেয়া যাবে না। এজন্য কালবিলম্ব না করে গার্মেন্টস শিল্পে বিদ্যমান অসঙ্গতিগুলো নিরসনে সরকার, মালিক ও শ্রমিক পৰকে এগিয়ে আসতে হবে। মালিকদের মনে রাখতে হবে শ্রমিক শোষণের পথে আনত্দর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগী থাকার কৌশল শেষ বিচারে আত্মবিনাশী হয়ে যেতে পারে। সংবাদপত্র থেকে জানা যায় গোয়েন্দা সূত্রগুলো আগাম বিপদ সংকেত দিয়েছিল। গার্মেন্টস আক্রমণে কারা কুশীলবের ভূমিকা পালন করেছে সেটাও তারা অনেকটুকুই উদ্ঘাটনে সৰম হয়েছে। এখন সরকারের দায়িত্ব হল পুরো বিষয়টি সম্পর্কে খোলামেলা তথ্য পরিবেশন করে জনগণকে জানানো। সম্মানিত বিরোধীদলীয় নেত্রী ঘটনা সম্পর্কে তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে এর জন্য সরকারের উপর দোষ চাপিয়েছেন। দোষারোপের রাজনীতি দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। আমরা আশা করেছিলাম তিনি সর্বাগ্রে হামলাকারীদের এবং এই ধ্বংসাত্মক ঘটনার দ্ব্যর্থ্যহীন নিন্দা জানাবেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। এতে বিশৃঙ্খলাকারীরা প্রশয় পেয়েছে। মনে রাখতে হবে দেশের স্বার্থ সরকার ও বিরোধী দল উভয়েকেই সম্মিলিতভাবেই রৰা করতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই।
[ড. মাহ্বুব উলস্নাহ্্ ঃ প্রফেসর, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়]
ঃঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ 30.05.2006 ঃঃ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



