গতকাল পুরনো ঢাকার লালবাগে ছাত্রীর যৌন নির্যাতনের ঘটনা চরম দুঃখজনক এবং আমাদের নীতিনৈতিকতা কতটা নিচে নেমেছে তা স্মরণ করিয়ে দেয় ভারতের রাজপথে সেই ঘৃণ্য যৌন নির্যাতনের ঘটনাকে৷ তবে মেয়েদেরও এবিষয়ে যথেষ্ট সচেতন হওয়া কর্তব্য৷
নির্যাতনের ঘটনা পড়ে মনে হল মেয়েটি যথেষ্ট সচেতন না থাকায় নির্যাতনকারীদেরকে কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে৷ মেয়েটির বাড়ি বরিশালের মুলাদীতে৷ থাকে মিরপুরের একটি মেসে৷ পড়ে নবম শ্রেণীতে৷ ঘটনার দিন বিকালে বেড়াতে গিয়েছিল পুরানো ঢাকায় বন্ধুর বাড়িতে৷ রাতে সেখান থেকে ছেলেটির এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়৷ সেখান থেকে রাত ১টার দিকে তারা তাদের আরেক বন্ধুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়৷ এসময় শহীদ নগর লোহার ব্রিজের পাশে দাড়িয়ে রেখে বন্ধু পানি আনতে যায়৷ তখন তিন যুবক এসে মেয়েটিকে ধরে নিয়ে যায়৷
ঘটনার সব কিছুই যেন গোলমেলে৷ ঐসময়ে নিরাপদ না জেনেও একটি মেয়ের এভাবে দাড়িয়ে থাকা কতটা যুক্তিযুক্ত? অপরাধীরা অন্যায় করেছে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়৷ তাই বলে এত রাতে কিভাবে নির্বোধের মত একটি মেয়েকে একাকী রাস্তায় দাড় করিয়ে রেখে তার বন্ধু চলে যায়? আমাদের সমাজব্যবস্থা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার যে অবস্থা, তাতে নিজেকেও যথাসম্ভব নিরাপদে রাখা উচিত৷ আমি একজন ছেলে হয়েও এত রাতে নির্জন স্থানে চলাফেরা করতে ভয় পাই৷ অথচ একটি মেয়ে কেন সেখানে যাবে?
মেয়েটি নাকি বলেছে তারা খুব শীঘ্রই বিয়ের পরিকল্পনা করছিল৷ নবম শ্রেণীর একজন ছাত্রী কিভাবে বিয়ে করবে? সে তো এখনও শিশু৷ নারীবাদীরা ১৮ বছরের নিচে বিয়ের আইন তৈরিতে কোন অবস্থায়ই রাজি নয়৷ তাহলে এক্ষেত্রে কি হবে? আমাদের নৈতিক অবক্ষয় ছেলেমেয়ে সবার ক্ষেত্রেই মারাত্মকভাবে ঘটেছে৷
আমি শুধু মেয়েটিরই দোষ দিচ্ছি না৷ অপরাধীদের সঠিক শাস্তি হোক সেই দাবী করছি৷ তবে আমাদের প্রত্যেকেরই নিজেকে নিরাপদ রাখা ও নীতিনৈতিকতা ঠিক রাখা অতি জরুরী৷
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১২:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




