somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

fakebook

১০ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০০৮ এর দিকের ঘটনা। আমাকে অবাক করে দিয়ে সুন্দরী এক অচেনা মেয়ে ফেসবুকে মেসেজ দেয় সে নাকি আমার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করতে আগ্রহী সাথে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। তাঁর ইনফো ঘুরে দেখলাম নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটি এর ফেসবুক নেটওয়ার্কে জয়েন করা । এত সুন্দরী আবার নর্থ সাউথের পড়ে। একসেপ্ট না করে কি আর পারা যায় ? একসেপ্ট করলাম। ওইদিকে মেসেজবক্সে অনেক মেসেজ আদান প্রদান হল। একদিন সাহস করে চ্যাটে হাই ও দিয়ে ফেললাম । সেই থেকে শুরু... কিন্তু কোথায় জানি একটা খটকা লাগে মনের মধ্য । তাকে সন্দেহ হয়, যখন তাকে এনএসইউ নিয়ে কিছু প্রশ্ন করি। যার উত্তর তাঁর জানা অবশ্যই উচিৎ ছিল কিন্তু সে কিছুই উত্তর দিতে পারে না। একদিন বললাম ফোন নাম্বার দিতে। সে রাজী না। কারন তাঁর মোবাইলে নাকি ব্যালেন্স নাই। আমি বললাম ওকে আমিই ফোন দিব। তাও সে রাজী হল না। একসময় বলল সে একটা নাম্বার(০১৭১৭-১০০***) দিয়ে বলল এতে ২০০টাকা ফ্লেক্সি পাঠাতে তাঁর খুব দরকার। আমি বললাম তাঁর সাথে কথা না বলে আমি কিছু পাঠাতে পারব না। একসময় যখন সে বুঝতে পারল আমি টাকা দিব না। তখন সে নিজের মুখোশ খুলে বেড়িয়ে আমাকে ইচ্ছামত গালি দিল। আমিও নিজের বোকামি বুঝতে পেরে তাকে ভালো হয়ে যাবার উপদেশ দিয়ে একটা মেসেজ দিয়ে ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে রিমুভ করলাম । আমি এত অবাক হয়েছিলাম একটা ছেলে কতটুকু নিচে নামলে মেয়েদের মত আচরণ করতে পারে। এরপর থেকে ফেইক আইডি গুলো নিয়ে একটা গবেষণা করি(অকাজে সময় নষ্ট )। দেখলাম ফেসবুকে ম্যাক্সিমাম ফেইক আইডি ইউজাররা নির্দিষ্ট কয়েকটা প্রোফাইল পিকচার ব্যাবহার করে। এছাড়াও আরও কিছু আছে যেগুলো এগুলোর মত এত ব্যাপকহারে ব্যাবহার হয় না। কেন মানুষ ফেইক আইডি ইউজ করে? আমি এই প্রশ্নটা অনেকের কাছেই করেছি। অনেক ফেইক আইডিকে সরাসরি এই প্রশ্ন করেছি। আবার অনেক ফেইক আইডির ফেসবুক একটিভিটি খুজে খুজে বুঝার চেষ্টা করেছি। সাধারণত ৪ ধরনের কাজের জন্য ফেইক আইডি ইউজ করে মানুষ। এর বাইরেও কিছু আছে। কিন্তু খুচরা জিনিস নিয়ে আলোচনা বাইরে রাখছি। ১. কাউকের সামাজিক ভাবে হেয় করার জন্যঃ সাধারণত প্রেমে ব্যর্থ হয়ে বা ছ্যাকা খেয়ে অনেকে এই কাজটি করে। প্রেম করার সময় নিজেদের কিছু অন্তরঙ্গ ছবি প্রকাশ করার জন্য ফেসবুককে বেছে নেয়। মোবাইল নাম্বার ছড়িয়ে দেওয়া হয় মূলত এই পদ্ধতিতে। চাইলেই একটা আইডি খুলে ইনফোতে মোবাইল নাম্বার দিয়ে তা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয় ফেইক আইডি ইউজাররা। অনেক সময় পারিবারিক/ব্যাক্তিগত শত্রুতার বশবর্তী হয়ে অনেকে এই কাজটি করে থাকে। ২. বিকৃত মানসিকতার প্রভাবেঃ অনেক ফেইক আইডি ইউজারদের এই সমস্যা থাকে। তাঁরা সাধারণত মেয়ে সেজে বিভিন্ন ছেলের সাথে চ্যাঁট/মেসেজ আদান প্রদান করে। কিছুদিন যাবার পর এরা কিছু যৌন রগরগে ব্যাপার নিয়ে আলাপ শুরু করে। সাধারণ ফেসবুকাররা যারা ব্যাপারটা বুঝতে পারে না তারা এই ধরনের চ্যাট উপভোগ করতে থাকে আর আস্তে আস্তে ফেইক আইডি এর ফাদে পারা দেয়। সাধারণত সমকামীরাই এই ধরনের কাজের জন্য ফেইক আইডি চালায়। ৩. ব্যাক্তিগত স্বার্থের জন্যঃ পিটিসি,গুগল এডের লিঙ্ক,নিজের ওয়েবসাইট/পেইজের প্রচারনার জন্য, ফ্লেক্সি/i-topup চাওয়া ইত্যাদি কাজের জন্য এরা ফেসবুকে ফেইক আইডি চালায়। আমি মূলত এই ধরনের ফেইক আইডি এর শিকার হয়েছিলাম। সাধারণ এই ক্যাটাগরির ফেইক আইডি ইউজাররা অদক্ষ হয় তাদের আসল পরিচয়/উদ্দেশ্য ঢেকে রাখতে। কিছুদিনের মধ্য তাদের আসল পরিচয় বের হয়ে আসলে তারা আইডি চেঞ্জ করে ফেলে। ফেসবুকের সেলিব্রিটিদের ফেইক আইডি গুলা মূলত এরাই চালায়। ৪. রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্যঃ ২০০৯ এর মার্চের দিকে এধরনের একটি ফেইক আইডি আমার প্রথম নজরে আসে। আমার একটি ফেসবুক পেইজে সে প্রায়ই বিভিন্ন জ্বালাময়ী কমেন্ট পোস্ট করত। আমি প্রথমে অবাক গিয়েছিলাম AIUBতে পড়ুয়া এই মেয়ে বিএসএফ হত্যাকাণ্ড, বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে এত এগ্রেসিভ কমেন্ট আর ছবি(পেইন্টে গিয়ে বাংলায় নিজের বক্তব্য লিখে jpeg ফরমেটে সেভ করা) পোস্ট করা দেখে। সাধারণত দেশের ২ রাজনৈতিক দল বিভিন্ন নামে এই সব কাজ করে বেড়ায়। এছাড়াও রাজনৈতিক ভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়া একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরাও খুব একটিভ এই কাজে। গেঞ্জি পড়া একটি মেয়ে সাইদি এর মুক্তির দাবী জানিয়ে/ নেতা কর্মীদের মারধর এর প্রতিবাদে স্ট্যাটাস/কমেন্ট করলে তা অবশ্যই একটু অস্বাভাবিক লাগে। এছাড়াও আছে একটি কমন প্রোফাইল পিকচার এর মেয়ে ফেইক আইডি। যাদের প্রোফাইলে একটিই ছবি দেখা যায় তা হল 'দাজ্জাল কে নাকি খুজে পাওয়া গেছে'। এদের সবারই প্রোফাইল ঘাটলে হিজবুত তাহরীর এর ওয়েবসাইটের লিঙ্ক পাওয়া যায়। যেখানে গিয়ে আরও বিস্তারিত জানার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। সব ফেইক আইডি যে মেয়েদের প্রোফাইল ইউজ করে এমন নয়। FAKE ID dekhle ফেসবুকের রিপোর্ট অপশনে গিয়ে This profile is pretending to be someone or is fake অপশন ক্লিক করে does not represent a real person এই কারন উল্লেখ করে দিয়ে আসবেন।

collected

৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

চর্যাপদঃ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য

লিখেছেন কিরকুট, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০৮

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হলেও, এর ভাষা ও উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই পদগুলি আবিষ্কার করেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×