somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রক্তাক্ত কারাগার, ৩ নভেম্বর'৭৫

০৩ রা নভেম্বর, ২০১৩ সকাল ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে সংঘটিত হয়ে গেলো ২/৩ নভেম্বর রাতে রক্তাক্ত এক কুখ্যাত জেলহত্যাকান্ড। মুজিব খুনি মেজর ফারুকের বিশ্বস্ত রিসালাদার মোসলেমউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দলকে তারা(ফারুক,রশিদ,মোশতাক) পাঠান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে। দলবল নিয়ে গভীর রাতে জেলে পৌছে আওয়ামীলীগ নেতাদের হত্যা করতে চাইলে জেলের আইজি, ডিআইজি এবং জেলার হতবম্ব হয়ে পড়েন। জেলে এই সময় ফোন আসে বঙ্গভবন থেকে। আরেক খুনি মেজর রশিদ এর আগেই আইজি প্রিজন নুরুজ্জামানকে জানিয়েছিলেন মোসলেমউদ্দিনের জেলে আসবার কথা।

ফোন করে মেজর রশিদ জিজ্ঞাসা করেনঃ- মোসলেমউদ্দিন কি পৌঁছেছে?
নুরুজ্জামান বলেন, জী পৌঁছেছেন কিন্তু আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।
রশিদঃ আপনি প্রেসিডেন্টের(মোশতাক) সাথে কথা বলেন ।
মোশতাক ফোন ধরলে নুরুজ্জামান বলেন স্যার মোসলেমউদ্দিন সাহেব তো বন্দিদের গুলি করার কথা বলছেন।
মোশতাকঃ সে যা বলছে তাই হবে। ....এই বলে মোশতাক ফোন রেখে দেন।

এই কথা শুনে আইজি প্রিজন নুরুজ্জামান সহ জেলার, ডিআইজি সবাই নিস্তব্ধ হয়ে পড়েন, উদভ্রান্তের মতো মোসলেমউদ্দিন তার দলবল নিয়ে ঢুকে পড়েন জেলে। জেলের পাগলা ঘন্টা বেজে ওঠে। ১নং সেলে থাকা তাজউদ্দীন এবং সৈয়দ নজরুল, পাশের সেলে থাকা মনসুর আলী এবং কামরুজ্জামান, পাগলা ঘণ্টার শব্দে ঘুম থেকে জেগে উঠে। তারা বন্দুকের মুখে উপস্থিত কর্মকর্তাদের বন্দিদের কাছে নিয়ে যেতে বলেন। হতবম্ব আইজি,ডিআইজি জেলার বন্দুকের মুখে প্রানের ভয়ে তাদের নিয়ে যান বন্দিদের সেলের দিকে।

চারজনকেই আনা হয় ১নং সেলে। সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড় করানো হয় তাদের। খুব কাছ থেকে অতি অল্প সময়ে স্বয়ংক্রিয় অস্র দিয়ে গুলি চালান মোসলেমউদ্দিন। সৈয়দ নজরুল, মুনসুর আলী, কামরুজ্জামান তৎক্ষণাৎ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন, তাজউদ্দীন তখনও বেঁচে চিলেন, ওনার পায়ে ও হাঁটুতে গুলি লাগে, প্রচণ্ড রক্তক্ষরণে ধীরে ধীরে তিনি মারা যান, মরার সময় তিনি পানি....পানি....পানি.....!! বলে কাৎরাচ্ছিলেন, কিন্তু ভীত বিহ্বল পরিবেশে কেও এক ফোঁটা পানি এগিয়ে দিতে সাহস পায়নি। ঘাতক দলের আরেকজন এসে বেয়োনেট চার্জ করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়, কারাগারের ভিতরে নিরস্র বন্দিদের হত্যা করার এক বিরল নজির স্থাপন করেন ঘাতকরা । কারাগারের রক্তাক্ত মেঝেতে ঢলে পরলো চারটি তাজা প্রান। খসে পড়ে কয়েকটি নক্ষত্র।

ঘটনাটি এতোই বর্বরোচিত ছিল যে কেও মুখ খুলে কিছু বলতে সাহস পায়নি। মোসলেমউদ্দিনের খুন করার কোন প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন ছিল মোশতাকের। কোন কারনে যদি তার বিরুদ্ধে পাল্টা অভ্যুথান ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, তাহলে সতর্কতামুলক ব্যবস্থা হিসেবে তার প্রতিপক্ষ গুরুত্বপুর্ন ব্যক্তিদের প্রথম আভাসেই নির্মুল করে খুনি মোশতাক।

উল্লেখ্য...বাংলাদেশের প্রথম সরকার

রাষ্ট্রপতিঃ শেখ মুজিবুর রহমান
অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও উপ-রাষ্ট্রপতিঃ সৈয়দ নজরুল ইসলাম
প্রধানমন্ত্রীঃ তাজউদ্দীন আহমদ
অর্থ মন্ত্রীঃ এম.মনসুর আলী
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীঃ এ.আইচ.এম কামরুজ্জামান
পররাষ্ট্র মন্ত্রীঃ খন্দকার মোশতাক(খুনি)

এই গুরুত্ব পুর্ন ৬ জন ব্যক্তিই আওয়ামীলীগের লোক, কিন্তু এই ৬ জনের মধ্যে ১ জন মানুষ নামে দানব যে লুকিয়ে ছিল তা হয় তো কেও জানতো না। ৬ জনের মধ্যে ৫ জনেরই হত্যার সাথে যুক্ত মাস্টার মোশতাক। এখানে থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট যে ক্ষমতার লোভ এতোই প্রকট যে তার জন্য যাকে ইচ্ছে তাকেই খুন করার প্রয়োজন পড়ে। আর এটাই মনে হয় খমতাকেন্দ্রিক বর্জোয়া ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট, যার ফলাফল বাংলাদেশের মানুষ এখনো দেখে যাচ্ছে, ক্ষমতার জন্য মানুষের জীবন বলি দিতে হচ্ছে। এই ব্যবস্থা যতদিন থাকবে তত দিন মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এমন কি রাষ্ট্রপতিও সামান্য কয়েকজন সেনাঅফিসারের হাতে খুন হবে। তাই এই ব্যবস্থা অভিলম্বে সমাজ থেকে উচ্ছেদ হোক আজকের দিনে এটাই প্রত্যাশা।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

I Have a plan / মুচলেকা দিয়ে যাওয়া এবং মুচলেকা দিয়ে ফেরত আসা সরকারের রাষ্ট্র ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬





ওয়াশিংটন – যদিও তিনি এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন যার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, এবং শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় যাদের হস্তক্ষেপ কখনোই সন্দেহের বাইরে ছিল না, তারেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতের প্রলোভন!

লিখেছেন শাহাবুিদ্দন শুভ, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ওয়েবসাইটের প্রচার দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রথম আলোর আদলে তৈরি একটি ডিজাইন ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এমনকি তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানের ফটোকার্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×