somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মার্টনেস (একটি সচেতনমূলক পোস্ট):|:|:|:|:|:|

২৪ শে আগস্ট, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্মার্টনেস বলতে মুলত মানুষের রুচিবোধকে বুজায়। একটা মানুষ কতটা রুচিশীল এবং আত্মমনা সেটাই প্রকাশ পায় স্মার্টনেস এ। আমি জানি সবাই আমার সাথেই বলবেন যে স্মার্টনেজ আসলে এইটাই। কিন্তু এইটা কি পুরোটা সত্য?? এখন যদি একটা বস্তির ছেলেকে অথবা মেয়েকে বলা হয় তুমি খুব স্মার্ট, একটু পর দেখবেন সে ইংরেজি বলা শুরু করে দিছে- ( মিস ইউ, ফিলিং লোনলি, গুড, থ্যাংকস গড ইত্যাদি)। আসলে দুঃখের সাথে বলতে হয় প্রকৃতপক্ষে কিন্তু আমরা স্মার্টনেস বলতে কে কতটা পাশ্চাত্য সংস্কৃতি অনুসরন করলো সেইটাকে বুঝি। এতে করে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সমাজের, দেশীয় সংস্কৃতির, শিক্ষাগন থেকে শুরু করে ফ্যামিলি পর্যন্ত। একটু পার্কে গেলে নেহাত বুঝতে পারবেন সমাজ কতটা পাশ্চাতের স্মার্টনেসের কারনের অসুস্থ।


একটু ভালো করে লক্ষ্য করুন তো- ছেলেমেয়ের যে পর্নোম্যানিয়াতে ধরেছে এইটা পাশ্চাত্যের সংস্কৃতি কিনা। ২০১১ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায় ৮৬% ছেলেমেয়ে ক্লাস এইট থেকে পর্নম্যানিয়াতে আক্রান্ত। বিদেশি চ্যানেলের কথা না হয় বাদই দিলাম। দেশীয় ক্যাবল টিভিগুলোতেও পাশ্চাত্যের অসুখ খুব ভালো ধরেছে। ইদানিং নাটক সিনেমা, বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড ছাড়া হয়ই নাহ!! অচিরেই বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড শব্দটি সবার কাছে স্থান করে নিয়েছে!! সে সাথে পর্নোম্যানিয়াতে আক্রান্ত ছেলেমেয়ে সুযোগ পাচ্ছে একজন আরেকজনের সাথে মিশার। মনের মত বানিয়ে নিচ্ছে বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড। অবাধ মেলামেশায় আছন্নও হয়ে পড়ছে! পার্কের চিপা চাপার দিকে চোখ পড়লেই বুঝতে পারবেন বিষয়টা কোথায় গিয়ে দাড়াচ্ছে। মুরুব্বিরা দেখছেন কিন্তু কেওই মুখ খুলছেন নাহ :(। অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে চলে এসেছে এখন স্মার্টনেস বলতে কার কতটা গার্লফ্রেন্ড অথবা বয়ফ্রেন্ড আছে সেইটাকে বুঝা হয়। এখনকার প্রত্যেক ছেলেমেয়েই চায় তার গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ড একটু বেশি স্মার্ট হোক মানে একটু বেশি পাশ্চাত্য অনুসরন করুক। সেই জন্যেই কুদ্দুস মিয়ারেও দেখা যায় তার গার্লফ্রেন্ডের লগে ইংলিশ ছাড়তাছে। মাঝে মধ্যে বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড যদি তাদের সংগির চেয়ে স্মার্ট ছেলে পায় তখন রিলেশন ব্রেকআপ করটা এখন খুবই নরমাল বিষয়। এতে করে ভালোবাসার মত পবিত্র জিনিসটা যেমন হয়েছে তুচ্ছ, তেমনি সংস্কৃতি হয়ে উঠেছে কুরুচিপূর্ন।

আন্টিরাও সিরিয়ালম্যানিয়াতে আক্রান্ত, সিরিয়ালগুলাতে কয়েকটা জিনিস খুব ভালো করে লক্ষ করা যায়- একে অন্যের বদনাম করা, কে কতটা বড় হতে পারল সেটা প্রকাশ করানো, বউ-শাশুরী দন্ধ, বউ-ননদ কুন্দল। এইসব জিনিস সকল সিরিয়ালেই দেখায়, আর আমাদের আন্টিগন একটার পর একটা সিরিয়াল ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়া দেখতে থাকে!! এতে করে বাড়ছে দাম্পত্য কলহ ও সম্পর্ক ভাংগার সম্ভবনা। মজার কথা হইলেও সত্য, কয়েকদিন আগে একজন আন্টি বলতেছিল- আমি হইলাম রাশির শাশুরী ( জি-বাংলার একটি গাধামার্কা সিরিয়াল), কত ধানে কত চাল সেটা আমি বুজাই দিব!! কে কতটা স্মার্ট দেখানোর জন্যে এক আন্টি পাশের বাড়ির আন্টির সাথে কম্পিটিশনে জড়িত, গহনা, চুরি, শাড়ি এইসব নিয়া, যেগুলা নিয়া সাধারনত সিরিয়ালেও ঝগড়া হয়। আন্টির স্বামী পাশের বাড়ির আন্টির সাথে ফষ্টিনষ্টি করার পিছনে এই সিরিয়ালেরই হাত।


আচ্ছা এতক্ষন যে শুধুই বক বক করলাম, আপনিই বলুনতো এই কাজগুলা কি সুরুচির কুনো মানুষের?? এইগুলা কি স্মার্টনেসের কাতারে পড়ে?? তাইলে আর দেরি কেন? আসুন আসল স্মার্ট হয়ে নিজেকে মুসলীম বলে গর্ববোধ করি আর পরবর্তী জেনারেশনকেও রক্ষা করি :)

নতুন পুলা মাইয়াগো কিছু না কইয়া পারতেছি নাহ :D
গোটা কয়েক ইংলিশ মুখস্ত কইরা ইংলিশ ছাইড়ো নাহ, ইংলিশে ব্যাপক পরিমানে ভুল থাকে।
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×