somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বাধীনতা ও পরাধীনতা

২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সময় ১৯৭১, দেশ স্বাধীনের প্রাককাল। ব্রাহ্মনবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত গেরিলারা নামছে। রাত নয়টা। ঝিরঝির বৃষ্টি হচ্ছে। মিশন- ঢাকার সাথে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা।

আব্দুল আউওয়াল মাস্টার(আমার চাচা)। যুদ্ধের সময়টাতে অনেকে রাজাকারও বলতো। পাক শাসনকালে উনি পড়াশুনার সময় বেশ কিছু উর্দূও আয়ত্ত করেছিলো। যার জন্যে যুদ্ধের সময় পাকিস্থানিদের সাথে বেশ খাতির জমিয়েছিলেন উনি। বিশেষ করে কয়েকজন মেজরের সাথেও নিয়মিত উঠা বসা ছিলো তার। তাদের মধ্যে কয়েকজন বাড়িতে এসে দাওয়াত খেয়ে গেছে বলেও শুনেছি। আমার চাচার এইরকম আধিপত্যের কারনে আমাদের গ্রামের কেউ নির্যাতনের শিকার হয়নি। এমনকি আমাদের গ্রাম দিয়ে কোন মুক্তিবাহিনি গেরিলা ইন্ডিয়া থেকে নেমে আসে কিনা সেটার দায়িত্বও পরেছিলো আমার চাচার উপর। মধ্যরাত, উত্তরপাড়া দিয়ে গেরিলারা যাচ্ছে, আমার চাচাও পাহারাতে। মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার চাচার কানের সামনে এসে ফিসফিস করে করে বললেন আজকে একটা ব্রীজ ডিনামাইট মেরে উড়িয়ে দেওয়া হবে। তাই হলো, পাক গাড়িসহ ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হলো। পরদিন রাত নয়টা, আমার চাচা আবারও পাহারাতে, ঝিরঝির বৃষ্টি হচ্ছে, উত্তরপাড়া দিয়ে আবারও গেরিলারা নামছে ভারী অস্র নিয়ে। এর আগের রাতে ব্রীজ গাড়িসহ উড়িয়ে দেবার ঘটনায় পাক বাহিনীও বেশ সতর্ক। হটাত পাক বাহিনীর একটি দল আমাদের গ্রামে ঢুকে পড়ে। আমার চাচা টের পেয়ে মুক্তিবাহিনীকে জানিয়ে দেয়, এবং কিছু মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র রেখেই প্রানভয়ে চলে যায়। আমার চাচাকে সম্পূর্ন একা অবস্থায় পেয়ে ধরে নিয়ে যায় পাক বাহিনী। সারারাত ভর টর্চার চলে। কেউ চিন্তাও করেন নাই যে উনি আবার বেঁচে ফিরে আসবেন। উনার সারা গায়ে রক্তের ছোপ। বুটের লাত্থিতে শরীর অনেক জায়গা ফেটেও গেছিলো। ( বিঃদ্রঃ উনি কিভাবে ফিরে আসছিলেন আমি এইটা জানিনা)

১৬ই ডিসেম্বর বিজয় ঘোষনার পর, আমাদের ফ্যামিলির অনেকেই ভেবছিলো আমার চাচাকে মেরে ফেলবে মুক্তিবাহিনী।(যারা রাজাকার তাদের অনেককেই যুদ্ধের সময় এবং তার পরবর্তীকালে মারা হয়েছিলো)। কিন্তু চাচাকে কোনভাবেই আটকে রাখা যাচ্ছিলোনা। উনি জয় বাংলা, জয় বংগবন্ধু বলে দৌড়ে বের হয়ে গেছিলেন মুক্তিবাহিনীর মিছিলে। কিন্তু কাহিনী হয়ে গেলো উলটো মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার আর কয়েকজন মিলে আমার চাচাকে কাধেঁ তুলে নাঁচতে লাগলেন বিজয়ের জয়ধ্বনিতে।

মুক্তিযোদ্ধের সময়কালীন কেউ জানতোনা আমার চাঁচার ভূমিকা আসলে কি ছিলো। এমনকি পরিবারের মানুষেরাও বুঝতে পারে নাই। যুদ্ধের পরবর্তীকালীন সবাই বুঝতে পেরেছে সে আসলেই দেশের জন্যে কি করেছিলো! নিজের জীবন বাজি রেখে গেরিলাদের ইন্ডিয়া থেকে নেমে আসার সুযোগ করে দিয়েছিলো!
মুক্তিযোদ্দ্বাদের নিবন্ধনের সময়--- যে যেভাবে পারে নিবন্ধিত হচ্ছে। কিছু রাজাকারও প্রানের ভয়ে নিবন্ধন করছে। আমার চাচাকে বলা হয়েছিলো নিবন্ধন করাতে-- উনি বলেছিলেন "সার্টিফিকেট দিয়ে কি হবে? দেশ স্বাধীন হইছে, স্বাধীন দেশে বাস করবো। আমার দেশ, সবকিছুই ত আমার, এর থেকে বড় পাওনা কি হতে পারে?"

এইরকম করে অনেক মুক্তিযোদ্ধাই স্বাধীন দেশে বুক ফুলিয়ে চলার স্বপ্নে--- পাকিস্থানের পরাধীনতার শিকল ভেংগে মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেটও নেননি বা প্রয়োজনবোধ করেননি। তাদের অনেকেই হইতো মারা গেছেন অথবা বেঁচে থেকেও আবারো পরাধীনতার শিকলে জড়িয়েছেন। শ্রদ্ধাবোধ হয় সেসব দেশপ্রেমীদের জন্যে যারা দেশের জন্যে নিজেদের বিলিয়ে দিয়েছেন। আর ঘৃনা হয় তাদের জন্যে যারা স্বাধীন দেশের স্বপ্ন দেখিয়ে আবার পরাধীনতার শিকল পড়িয়েছেন।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×