সামওয়া আমেরিকার একটি সুন্দর মোনরম দ্বীপ , যেখানে অমুক তমুক এই সেই ইত্যকার বিষয়াদি থাকে তাতে আমার কি ??? হুম আমার কি ?
আমি কোন দিন এদ্বীপের নামো শুনি নি গুনও শুনিনি এমন কি আমার চৌদ্দ গুষ্টির মধ্যে কেউ শুনেছে কি না তা আমার অজানা । আমি শুনতেও চাই নি । সামওয়া কোনো দ্বীপের নাম হোক না কোন এটম বোমের নাম তাতে আমার বা আমার পৃথিবীর কারো কোন কিছু যাইও না আসেও না ।
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফেরার পথে চড়ে বসলাম বিকল্পের ৩৬ নম্বর বাসে যার বর্তমান নাম ই১৯ ,ঠাঁয় মিলল শেষের পঞ্চসীটে । এগিয়ে গিয়ে দেখি এক বিদেশীনি আর এক বাংলা মাতার সন্তান বসে আছে । বাসের সীট তৈরি বঙ্গমাতার সন্তানদের মাপে , স্বাভাবিক ভাবেই বিদেশীনির উচ্চতায় সমস্যা আর তাই আমাকে জায়গা দিতে সামনের সীটের সাথে তার পা ঠেকলো , আমারও হয় এমনটা কিন্তু এডযাস্ট নামক জিনিসের সাহায্যে মানিয়ে নিই । কিন্তু উনার তো সে জিনিস নেই তাই তাঁর সরূ নাক আরো সরূ করে অজানা ভাষায় বঙ্গ মাতার সন্তান কে যেন কি বললেন আমি গা এড়িয়ে গিয়ে বসলাম সর্ব বামে, কোন বিদেশীনীর বসতে সমস্যা হবে বলে বাস তো খালি যেতে পারে না তাই ঊঠানো হল আরো দুই মহিলাকে , তাঁরা ঠাঁয় নিলেন আমার ডানের দুই সিটে । আর এদিকে মহান জ্যামের কারনে বাস যাচ্ছে ধীরে কখনো ব্রেকে ব্রেকে থেমে থেমে । যা আমাদের নিত্য দিনের চলাচল কোন সমস্যা নেই । কিন্তু কিছু ভীন দেশী কথার আওয়াজ পেলাম যা আগের শুনেছিলা কিন্তু এবার বাচ্চা স্বরে !! একটূ সামনে চোখ মেলে দেখি একটী সাত আট বছরের শিশু অগ্নি মুর্তিতে ! সে পিছনে ঘুরে সে বিদেশীনির সাথে কি যেন বলছেন আমার পাশের দুই মহিলাকে দেখিয়ে , দৃষ্টি আরো জিজ্ঞাসু হোলঃ পাশের সিটে বসা অতিসয় ভদ্রেয়ারা বললেন তাদের কোন দোষ নেই দোষ চালকের সে জোড়ে ব্রেক না কোশলে নাকি মেয়েটি ব্যাথা পেত না । তখন ব্যাপারটা বাতাসের মত সর্বগামী সহজ হল তাদের সীটে বসার আগের জোর ব্রেকের কারনে তাদের কারো পায়ের দ্বারা শিশুটি ব্যাথিত, আর ভদ্রেয়াগনও ব্যাথা মোচনে কাতর নয়নে ক্ষমা চাইছে হাতো জোড় করছে । কিন্তু অগ্নী মুর্তি বালিকা মা কালীর রুপ ধরেছে সে কিছুতেই শুনছে না কথা ,না বিদেশীনির না তার পাশে বঙ্গ পুরুষের। তার ভাবে ভঙ্গীতে এতো মারমুখী সে জুতা খুলে হাতে নিয়েছে , বুঝলাম না কেন ,পদুকা পেটা করে ব্যাথার প্রতি ব্যাথা জানাতে যায়,না ব্যাথার স্থান দেখাচ্ছে । কিন্তু ততক্ষনে আশে পাশের সবাই দেখছে বিচিত্র ভাষার প্রতিবাদী শিশুটিকে । বাঙ্গালী মন দমাতে না পেরে সেই পুরুষ টিকে জিজ্ঞেস করলাম সে কি বলছে ? কিন্তু সেতো পড়েছে মাইঙ্কা চিপায় স্বলজ্জ বদনে বললেন সে ব্যাথা পেয়েছে এটাই বলছে , কিন্তু সে কি বলছে তা না বলে এড়িয়ে গেলেন । মানে বুঝলাম যা বলছে তা বলার মত না । তাই আর তাঁকে ঘাটতে গেলাম না । শুধালাম অন্য কথা , কে এই মেয়ে ? উত্তরে জানালেন অগ্নিমুর্তি কন্যা তার মেয়ে আর পাশের বিদেশীনি বউ, ছুটিতে দেশে বেড়াতে এসেছে । বাঙ্গালী স্বভাবের দোষ এক প্রশ্নে মোন ভরে না এটা ওটা প্রশ্ন করছি, তার সাথে জানতে চাইলাম অগ্নীবালিকার নাম ? জানালেন তার নাম সামওয়া ।
আমেরিকার কোণ এক মনোরম দ্বীপের নামে রাখা যেখানে তারা হানিমুনে গিয়ে ছিল ।
বিধিরবাম এবার আমিই পরলাম তার অগ্নিনজরে , এবার সে আমার উপর ক্রুব্ধ !! আমাকে উদেশ্য করে অজানা ভাষায় কি যেন বলছে আর তার পিতামাতা তা থামাতে ব্যাস্ত । সে থামাল তার কথার তরি কিন্তু চোখের অগ্নিবান বর্ষন কিছুতেই থামে না । আমাকে চোখ বাঁকিয়ে মুখ ভেংচিতে শাসনে রাখল । কিছুতেই নিস্তার নেই দেখে তার পিতা কে বললাম সে কি আমার কথা বুঝবে যদি তাকে আমি কিছু বলতে চাই , কিন্তু স্বহাস্য বদনে উত্তর করলেন না। সে বাংলা কিছু বোঝে যা না বোঝার নামান্তর যা হ্যাঁ আর না’র চলাচল, আর পারে শুধু ইটালীয় ভাষা যাতে সে এতক্ষন আমাদের শাসিয়ে যাচ্ছিল । হাল ছেড়ে আমি হলাম চুপ কিন্তু সে না ।মনে মনেই বললাম মাতামহের রক্তে আছে উপেনিবেশের জিন তোমাদের কজন মাতামহ শাসন করেছে পুরো পৃথিবী আর আমি কোন ছার ।আমরা তো স্বাধীন জাতি সেই উপনিবেশিক মাতামহের নাতনির চোখ শাসানি মানবো না আমরা যে এখন তোমার দেশ সম্পর্কিয় কাকা ,নাই বা হোল তোমার মা বাংলাদেশি বৌ কি আসে যায়? তবে তোমার বাবা তো বঙ্গিয় রক্তের ভাই। আমরা আক্রমন কারী নই তাই বলে কি প্রতিরোধ থাকবেনা ,ছেড়ে দেব এমনি !! তাই আমিও দিলাম ভেংচি ,দেখলাম কাজ হয়েছে প্রিথিবীর সব ভেংচিই এক রকম যার কোন ভূগোল নেই ।
তার পিতার সাথে আমার সেই বাঙ্গালী খাজুরে আলাপ তখনো চলছিল। কথার বিষয় সেই মেয়ে ! সে নাকি মহা বিরক্ত এদেশীয় ট্রাফিক জ্যাম মানুষের আচাল পেচাল গ্যাঞ্জামে , তবে সে স্বভাবে মুখড়া হলেও খান্ডার নয় একেবারেই যা এখানে তাকে দেখাচ্ছে । একটূ দৃষ্টি প্রসারন হতেই দেখলাম তাঁর স্ত্রীও সুখি নয় তাঁর স্বামীর এহেন পেচাল আমার সাথে যেমন তার মেয়ে খুশি নয় তাই চুপ মেরে গেলাম , আর আমাদের কথার ফাঁকে মেয়েটির ছবি তুলতে চাইলে সে এক বিশ্ব বিখ্যাত শিশু পোজ দিলো যা ছবিতে দেখতেই পাচ্ছেন ।
আমার এই পেচাল কথন শুধু এই বঙ্গ শুক্রনূর আশ্রয় পাওয়া ইটালিয় গর্ভের জন্ম শিশু সামওয়ার জন্য নয় , এই মহান যাত্রার শেষে যে প্রশ্ন এসেছিল বাংলা ঘিলুতে তার জন্য, ঘিলুর যত্রনা ছিল এই শিশু যার নাম সামওয়া যে এসেছে পিতার জন্মভূমি দেখতে মায়ের সাথে, যে পিতৃভুমীর জন্য ভালবাসা রাখেনা যে সবাইকে দেখছে নিচু চোখে আর তার সাথে তাঁর পিতা কেউ ।যে কারনে সহযাত্রির সবাই তাকে বাঁকা চোখে দেখছিল ,সে দোষ কি এই শিশুর যে এদেশের আচাল কেচাল অব্যাবস্থা , সিটিং বাসে ফিটীং টাইট যাত্রির ঘাম গন্ধ সহ্য করবে না বলে বিরক্ত ,নাকি তাঁর যে তার পায়ের ব্যাথার জন্য যে মহিলা ক্ষমা চাইল, নাকি আমার যে তার পিতার সাথে খাজুড়ে প্যাচাল জুড়েছিল?
আমাদের দেশের এই মহা অব্যাবস্থা তার জন্য দোষ কাকে দিব। দেশে মহান শাসক শোষক জ্ঞানি গুনি রথি মহারিথিরাকথা বলছেন রাজাকার যুদ্ধপরাধীর বিচার নিয়ে কথা বলছেন আগামী নির্বাচনে ত্বত্যাবধায়ক সরকার থাকবে কি না তা নিয়ে , কথা হচ্ছে ইত্যকার মহা দেশিয় অন্তঃজাতিক সম্পর্ক নিয়ে , কিন্তু তাতে ফল কি হচ্ছে ?বক্র দৃষ্টি কি থেমেছে কোন ? কেউ বলবেন আমি হতাশাদের দলে কিন্তু আজ বাসে আমাদেরই রক্তের সন্তান আমাদের অব্যাবস্থাপুর্ন রাষ্টের মুখে তার মাতামহের ভাষায় বকে গেল নিচু চোখের দৃষ্টিতে? তাতে দেশের একজন হয়ে আঘাত পেয়েছি বুকে কষ্ট লেগেছে ,বুঝেছি এখনো ঘুমিয়ে আমি ,আমার সমাজে ।না জাগাতে পেরেছি নাগরিককে না জেগেছি নিজে ।আর কতকাল গেলে শেষ হবে এই ঘুমের মহা যাত্রা শেষ হবে রক্তের সাথে রক্তের অভিসপ্ত দৃষ্টিপাত,মুছে যাবে সব দাগ ,শুরু হবে বাঙ্গালী বাংলাদেশি গৌরবময় পদযাত্রা , ভুলে যাব বুকে হাঁটার ইতিহাস ? আমিত জানি এই জাতিকে- তাদের অতীতের জাগার ইতিহাস কিন্তু শেষ হবে কবে এই আবার ঘুমিয়ে পড়ার মনবিত্তি ।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ২:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


