somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দৈনিক আজাদী ৫০ বছর পূর্তি উৎসবে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস

১৩ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দৈনিক আজাদী ৫০ বছর পূর্তি উৎসবে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস
১৩ নভেম্বর ২০১০, চট্টগ্রাম ক্লাব টেনিস কোর্ট

পঞ্চাশ বছর পূর্তির এই অনুষ্ঠানটা খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছিলাম, খুব আগ্রহের সঙ্গে শুনছিলাম। এতজনের বক্তব্য সাধারণত বিরক্তি উৎপাদন করার কথা। কিন্তু আমার নিজের তো কোন বিরক্তি আসেনি বরং মনে হচ্ছে যাঁরা উপস্থিত আছেন আজকের সবাই সমপরিমাণ আগ্রহ তাদের বক্তব্য শুনছিলেন_ যেহেতু তাঁরা সবাই আমাদের নিজের মনের কথাগুলোই বলছিলেন। আজকে এটা অদভূত একটা অনুষ্ঠান। একটা পত্রিকার_ আজাদী পাঠকদের পত্রিকা_ পাঠকদের মতামত, পাঠকদের প্রতিক্রিয়া। এ ৫০ বছরের জীবনে যত রকমের পাঠক_ পত্রিকা পেয়েছে তাদের একটা ক্লিপ চেহারা দেখতে পেলাম তাঁদের বক্তব্য শুনে। সবচেয়ে ভাল লাগল আজকের এ অনুষ্ঠানে আমরা যারা উপস্থিত আছি সেটা দেখে। এটা ৫০ বছর পূর্তির চাইতে বড় জিনিস। আমার কাছে মন হচ্ছে, এটা একটা মিলনমেলা, মহা মিলনমেলা। সমগ্র চট্টগ্রামকে এই পত্রিকা কিভাবে একত্রিত করেছে দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে_ এটা তাঁর প্রতিচ্ছবি এবং মনের আকুতি না থাকলে এতৰণ ধরে এই পত্রিকার এ উৎসবে শরীক হওয়া যেতনা। এই পত্রিকা মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছে। কিভাবে নিজের ৰেত্র তৈরী করে নিয়েছে এটা আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো। কাজে এটা নিছক একটা বর্ষপূর্তি, এটা বিশেষ করে অর্ধ শতাব্দীপূরণ করেছে সেটা বড় কথা নয়। এ পত্রিকা কিভাবে মানুষের মনকে জয় করেছে, সেটাই আজকে একে ঐতিহাসিক পত্রিকা হিসেবে দাঁড় করাতে পেরেছে।

মহামিলন মেলা আমার কাছে খুবই আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে এ জন্যে যে আমার কাছে আমরা পত্রিকা হিসাবে মিলনকে বেশী জোর দিতে এখনো শিখিনি। আমরা বিভক্তির দিকে বেশি মনোযোগ দেই। আজকে এই ৫০ বছর ধরে একটা পত্রিকা কিভাবে সকল দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একত্রে করে চলতে পেরেছে এবং আজকের এই অনুষ্ঠানে শরিক হতে পেরেছে_ এটা বোধহয় আমাদের জন্য একটা শিৰনীয় বিষয়। কারণ সামনে এগুতে গেলে এটাই আমাদের শক্তি। ঐক্যই আমাদের শক্তি। এই ঐক্যকে কিভাবে জোরদার করা যায় আজকে সেটা আমরা দেখলাম। আশাকরি এটা শুধু আজাদী'র বিষয় হবে না_ সাংবাদিকতার ৰেত্রে এটা শিৰনীয় বিষয় হিসেবে আমরা গ্রহণ করব_ কীভাবে মতবিভক্তি থাকা সত্ত্বেও আমরা একটা ঐক্যের মহামিলনৰেত্র প্রস্তুত করতে পারি। আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি আজাদী পত্রিকাকে আমাদের শিৰা দেওয়ার জন্য, আমাদের মনে এটা রেখাপাত করার জন্য, আর এই বিশেষ দিনে তাদেরকে সবাই মিলে একটা জোরে করতালি দিয়ে আজকের এই শুভৰণকে আমরা স্মরণীয় করে রাখি।

আমার সঙ্গে পত্রিকার যোগাযোগ বহুদিনের। একদম জন্মলগ্ন থেকে। যেজন্য সেটা স্মৃতিচারণও করা দরকার। তারপরে একসময় থেকে প্রায়-ই বিচ্ছিন্ন, বহুদিন ধরে বিচ্ছিন্ন। আজকে আবার ৫০ বছর পরে এখানে, এই পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আনন্দ লাগছে_ যেভাবে আমার যাত্রা শুরম্ন হয়েছিল এই পরিবারের সঙ্গে। আমরা ৫০ বছরের কথা বলছি, আব্দুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারের কথা বলছি। কিন্তু সে আমলটা কেমন ছিলো সেটা বোধহয় আমাদের অনেকের ধারণা নেই। কোন পরিস্থিতিতে এই পত্রিকার কর্মকান্ডগুলো পরিচালিত হতো আমি শুধু সেই পটভূমিটা তুলে ধরার জন্য আমার নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাগুলো বলি। আমি তখন বলুয়ার দীঘি প্রাইমারী স্কুলের ছাত্র। একটা অখ্যাত স্কুল। একদম এলাকার ভিতরে। তখন আমাদের বাড়ি যাওয়ার জন্য_ বাড়ীতো বেশি দূরে না এখান থেকে মাইল পাঁচেক হবে। কিন্তু তখন আমাদের মনে হতো অনেক দূরের রাসত্দা। যাতায়াত ব্যবস্থা সুবিধার ছিলো না। আমরা থাকতাম বঙ্রিহাটে, সেখান থেকে আসতাম। বাস কোহিনূর লাইব্রেরীর সামনে দাঁড়াতো_ একটা নতুন বাস চালু হয়েছে। সারা চট্টগ্রামে প্রথম বাস সার্ভিস। কাজেই কত আগের কথা চিনত্দা করেন! বাসটির নাম ছিল সখিনা এঙ্প্রেস। এটা কোহিনূর লাইব্রেরীর ওখান থেকে যাত্রা শুরম্ন করতো, জানালিহাট গিয়ে শেষ হতো। আমরা ওই জানালিহাটের যাত্রী। তার ভাড়া ছিল ৬ আনা। তখন থেকে কোহিনূর লাইব্রেরীকে চিনি। কারণ ওখান থেকে আমরা প্রাইমারী স্কুলের বই কিনতাম। কিন্তু এটার মালিক কে_ তখনো জানতাম না। মালিকের সঙ্গে পরিচয় হলো আরো কিছুদিন পরে_ যখন আমি এম ই স্কুলে আসলাম। এম ই স্কুল এখান থেকে বেশি দূরে না কিন্তু বঙ্রিহাট থেকে বেশ দূরের জায়গা। বাসে চড়তে হতো, উঠতে হতো কোহিনূর লাইব্রেরীর সামনে দিয়ে। এক আনা দিয়ে আসতাম এম ই স্কুল। অনেকৰণ দাঁড়াতে হতো। ফেরার পথে আর বাসে চড়তাম না ঐ এক আনা বাচাঁনোর জন্য। তখন হেঁটে যেতাম। হেঁটে গিয়ে যেখান দিয়ে বঙ্রিহাটের দিকে যেতাম কাটা পাহাড়ের ভিতর দিয়ে_ সেখানে ঢুকতেই কোহিনূর ইলেকট্রিক প্রেস। খুব কৌতুহলী হয়ে দেখতাম কোহিনূর ইলেকট্রিক প্রেস। প্রেসটাও খুব ক্ষুদ্রাকৃতি। ইলেকট্রিকের সঙ্গে প্রেসের কি সম্পর্ক এটা কোনরকম বুঝতে পারতাম না। উঁকি মেরে দেখতাম মাঝে মাঝে। তখন যে চেহারার মানুষটি আজকে এখানে দেখছি। সে চেহারার মানুষটি ওখান থেকে বের হয়ে আসতো। আদর করে কথাবার্তা জিজ্ঞাসা করতো। আমি আবার ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি চলে যেতাম। কথাবার্তা বেশি বলতাম না। কিছুদিন পরে একটা পত্রিকা বের হলো সেখানে। তখন হেঁটে যেতাম। উঁনি ডেকে একটা পত্রিকা হাতে দিলেন। নতুন বেরিয়েছে এই পত্রিকাটা_ কোহিনূর পত্রিকা । খুব মনোযোগ দিয়ে পড়লাম, ভালো লাগল। রোজ যাওয়ার সময় দেখতাম। পত্রিকা বের হচ্ছে কিনা, সাপ্তাহিক পত্রিকা কোহিনূর পত্রিকা। একদিন উঁনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন,
তুমি লিখবে কিনা?
আমি বললাম, আমি কী লিখব?
তোমার যা ইচ্ছা লিখ, কিন্তু লিখ।
পরে বুঝলাম, উঁনি আমার বাবার বন্ধু। বাবার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব কিভাবে সেটাও আমি জানতাম না। কারণ দু'জনের দুই জগৎ। একজন ইঞ্জিনিয়ার সাহেব, আরেকজন সামান্য ব্যবসায়ী। কিনত্দু পরে দেখলাম, অত্যনত্দ ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব আছে দুইজনের মধ্যে। তাঁরই আগ্রহে আমি লিখলাম। একটা কবিতা লিখলাম। তারপর প্রায়ই খোঁজ নিতাম আমার কবিতা পত্রিকায় ছাপা হলো কিনা? একদিন দেখলাম যে, সে কবিতা ছাপানোও হলো। আমার প্রথম একটা কবিতা ছাপা হলো। এটা প্রচন্ড উত্তেজনা সৃষ্টি করল। ছাপা কাগজে নিজের লেখা ছাপা! সেই ছিল কোহিনূর ইলেকট্রিক প্রেস। সেই হলেন আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার। সেই ছিল কোহিনূর পত্রিকা। যখন চিটাগাং শহরে মাত্র বাস চলাচল শুরম্ন হয়েছে। দুই একটা বাস চলছে। এক আনা পয়সা দিয়ে আমরা স্কুলে যেতাম। সে আমল শেষ হলো।

এবার বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে চট্টগ্রাম কলেজের শিৰকতা শুরম্ন করলাম। তখন জন্ম হয়েছে আজাদী পত্রিকার। আজাদী পত্রিকা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ছি। যেহেতু আমি তাঁদের সবাইকে চিনি_ এখন আমার সাথে সবার পরিচয় হয়ে গেছে। একদিন খালেক সাহেব বললেন, তখন সোমবার। যে আপনি এখানে লিখেন। তা আমি ভাবতে পারলাম না আমি কি লিখব? হঠাৎ বুদ্ধি আসলো। একটা কলাম লেখার চেষ্টা করি। সে-ই আমার প্রথম আমার কলাম লেখার হাতেখড়ি। একটা কলাম শুরম্ন করলাম। তার একটা নামও দিলাম 'হিং টিং ছট'। এই 'হিং টিং ছট' কলাম কত দিন ধরে লিখেছিলাম মনে নেই। '৬৫ সনে আমি বিদেশ চলে গেলাম। বিদেশ চলে যাওয়ার আগ পর্যনত্দ আমি 'হিং টিং ছট' কলাম লিখে গেছি। কাজেই পত্রিকার জন্মলগ্ন থেকেই কিভাবে তার সঙ্গে জড়িত হয়ে গেছি_ এটা তার একটা ধারাবাহিক অভিজ্ঞতা।

এরপর যে মানুষটির সঙ্গে অত্যনত্দ অনত্দরঙ্গতার সৃষ্টি হলো, তিনি প্রফেসর মোহাম্মদ খালেদ। দীর্ঘদিন ধরে সে সমর্্পকটা আমার সঙ্গে ছিল। তাঁকে যেকোন সময় যেকোন কাজে পাবার চেষ্টা করেছি। তখন নানা সম্মেলন ইত্যাদি করতাম। কাজেই তাঁকে আমরা নিয়ে যেতাম প্রধান অতিথি করে। তিনি সানন্দে যেতেন। অনেক বিষয় আলোচনা করতেন। তাঁর মতো সাংবাদিকতা করার মানুষ খুঁজে পাওয়া বড়ই মুশকিল ছিল। এতো দরদি মানুষ এতো অমায়িক মানুষ অথচ একটা কঠিন দায়িত্বের মধ্যে তিনি আছেন। একটা পত্রিকা বের করা। এটা কোন সহজ কাজ না। ভাগিস্য, তখন ঢাকার পত্রিকা আসতে একদিন দেরী হতো বা ১২টার দিকে হয়তো ঢাকা পত্রিকাটা পাওয়া যেত। একটা স্পেস ছিলো সেখানে আজাদী পত্রিকা সহজে সকালে সবার হাতে হাতে চলে যেত। দেশের দীর্ঘ ইতিহাস এই খালেদ সাহেব যেটা রচনা করেছেন তাঁর সাংবাদিকতার জগতে_ এটা আজকের আজাদী'র শুধু এই ৫০ বছর পূর্তি উৎসব না_ তাঁর সে সাংবাদিকতার যে ঐতিহ্য তিনি সৃষ্টি করে গেছেন সেটাও আজকের উৎসব। কারণ সেই সাংবাদিকতায় বাংলাদেশের আরো বৈশিষ্ট্য আছে কিনা অথবা তাঁকে আমরা এই পরিমাণ শ্রদ্ধা করতে পারবো কিনা?_ এটা হলো আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ। যে সাংবাদিকতা মানুষকে কাছে টেনে আনবে, যে সাংবাদিকতা মানুষের মনে শক্তি যোগাবে, উদ্ভাবনা উদ্দীপনা নিয়ে আসবে, যে শক্তিতে আমরা কঠিন কঠিন সমস্যাগুলোকে পার করতে পারি। কাজেই সেই শক্তি-ই আমরা কামনা করছি। সেই শক্তিকে আজ কামনা করি যাতে আমরা সামনে অগ্রসর হতে পারি।

একটা কথা উঠেছে অনেকের বক্তব্যে যে_ আজাদী, এটা কি আঞ্চলিক পত্রিকা নাকি জাতীয়? আমি নিজেও এ ব্যাপারে দ্বন্দ্ব দেখি না_ আঞ্চলিক পত্রিকা বনাম জাতীয় পত্রিকা। পত্রিকার বক্তব্য থেকেই ঠিক হয়, সে পত্রিকাটি আঞ্চলিক নাকি জাতীয় পত্রিকা। উপরে একটা শিরোনাম দিয়ে দিলেই কাজ হয়ে গেলো! বা, চট্টগ্রাম থেকে বের হলে এটা আঞ্চলিক হয়ে যাবে, আর ঢাকা থেকে বের হলে এটা জাতীয় হয়ে যাবে! এটা দিয়ে, তার জন্মস্থান দিয়ে, তার পরিচয় না। পরিচয় হলো তার ভিশনটা কি? বক্তব্যটা কি? তার কি জিনিস সে অফলঁংঃ করছে। এটা কি জাতীয় বিষয়কে অফলঁংঃ করছে? মানুষকে নাড়া দিচ্ছে? মানুষকে উদ্বেলিত করছে? নাকি আঞ্চলিক বিষয়গুলোকে নাড়াচাড়া করছে? যেখান থেকে প্রকাশিত হোক; ঢাকা শহরে বসেও অত্যনত্দ আঞ্চলিক একটা পত্রিকা বের হতে পারে। কাজেই বক্তব্য নিয়েই হলো কথা। আজাদী পত্রিকা যদি সারাদেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, তার বক্তব্য যদি যেরকম চাটঁগার মানুষকে আকর্ষণ করেছে_ সেরকম করে সকল শ্রেণী-পেশার সকল মানুষের কাছে যদি সে একটা আকর্ষণ জাগাতে পারে, সেই একই পত্রিকা সারাদেশের সকল মানুষকে সেভাবে আকর্ষণ করতে পারে, এটা শুধু বাজারজাতকরণ করার বিষয় না কারণ বাজারজাতকরণ বিষয়টা অতীত হয়ে গেছে। ঢাকার পত্রিকা এখন চট্টগ্রামে ছাপা হয়। আজাদী পত্রিকা যেসময় টেবিলে আসে ঢাকার পত্রিকাও একই সময় টেবিলে আসে। এখন ঢাকার পত্রিকা চট্টগ্রামে ছাপা হতে পারে। চট্টগ্রামের পত্রিকাও ঢাকায় ছাপা হতে পারে। এটা নিয়ে কোন সমস্যা না। আজকের যে টেকনোলজি বা প্রযুক্তি তাতে কোথায় ছাপা হলো সেটা বড় কথা নয়। আসল কথা হলে, আমরা বলছি যে_ সেটা হলো প্রকাশ করা। অনেকের অভিজ্ঞতা আছে। বিশেষ করে আমেরিকাতে এটা হয়ত নজরে পড়ে। রাসত্দার পাশে বাঙ্রে মধ্যে পত্রিকাগুলো থাকে। কয়েন দিয়ে বাঙ্ খুলে পত্রিকাগুলো উঠানো যায়। সেখানে শুধু নিউইয়র্কে থাকলে 'নিউইয়র্ক টাইমস' পত্রিকা পাওয়া যায় এমন কোন কথা নয়। ওয়াশিংটনে থাকলে 'ওয়াশিংটন পোষ্ট' পাওয়া যাবে সেরকম কথা না। পাশাপাশি 'সানফ্রানসিসকো ক্রনিকল'ও পাওয়া যাচ্ছে। 'মায়ামী হেরাল্ড'ও পাওয়া যাচ্ছে। 'শিকাগো ট্রিবিউন' পাওয়া যাচ্ছে। এটা কার কোনটা ইচ্ছা সেটা বড় কথা। অথর্াৎ শিকাগো থেকে পাবলিশ হলেই শিকাগোর আঞ্চলিক পত্রিকা হবে এমন না। এটাও ওদের জাতীয় পত্রিকা। প্রকাশিত হয় শিকাগোতে। সেজন্য ওয়াশিংটনের লোককে এটা পড়তে হয়। সে 'ওয়াশিংটন পোস্ট' যেরকম পড়ছে, সে রকম 'শিকাগোতে ট্রিবিউন'ও পড়ছে, 'মায়ামী হেরাল্ড'ও পড়ছে। অন্যান্য যত পত্রিকা বাঙ্গুলোতে দেওয়া আছে যে যার মত, যেটা পছন্দ সেটা কিনে নিচ্ছে। আজকে আজাদীকে কি করতে হবে? আমি ঢাকা বা দিনাজপুরের মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয় এমন বক্তব্য রাখতে পারছি কিনা? জাতীয় বক্তব্য রাখতে পারছি কিনা_ যা মানুষকে, মানুষের মনকে দোলা দিবে। পত্রিকার কাজটা কি? পত্রিকার প্রধান যে কাজটা_ মানুষের মনে একটা স্বপ্ন সৃষ্টি করা, ভিশন সৃষ্টি করা। যে পত্রিকার ভিশন নেই সে পত্রিকাতো নানা কথাবার্তা জুড়ে দিয়ে একটা কাগজ তৈরী করা দেয়। একটা গবংংধমব বা ভিশন থাকতে হবে তার সামনে যে, আমরা ওখানে যেতে চাচ্ছি।

আজকে আমরা আজাদীর ৫০ বছর পূতি করছি, কথা বলছি। কিন্তু অতীত দিয়ে তো আর পত্রিকা চলে না। পত্রিকা চলে ভবিষ্যতকে কেন্দ্র করে। ভবিষ্যতটা কিভাবে রচনা করবো_ সেটার একটা রূপরেখা তুলে ধরবে। সেটাকে সংগতিপূর্ণ করবে। ঐ পথে আমি রওয়ানা হলাম। আমাদের ঐখানে পেঁৗছাতে হবে_ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যেটা করছেন। পত্রিকাকেও সেটা করতে হবে। তাকে মানুষের মনের মধ্যে একটা বিরাট স্বপ্ন জাগিয়ে দিতে হবে_ এই দিকে আমরা চললাম। বাংলাদেশে আমরা কোথায় আছি? আজকে আমরা ৫০ বছর পূর্তি উৎসব করছি। অনেকে বক্তব্যের মধ্যে বলেছেন যে, আরো ৫০ বছরও যাক ১০০ বছর থাকুক। সেটা মনের কথা, বলছে ৫০ বছর থাকুক। আমি যদি চিনত্দা করি, আজ থেকে ৫০ বছর পরে আজাদীর কী হবে। আজ থেকে ৩০ বছর পরে আজাদী কি হবে। আজ থেকে ২০ বছর পরে আজাদীর কি হবে? আমি একথা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আজাদী বর্তমানে যেভাবে আছে সেভাবে থাকবে না। ইতোমধ্যে সবকিছু পাল্টে যাবে। দুনিয়া পাল্টে যাবে। দুনিয়া এতো দ্রম্নত পাল্টাছে যে আমরা আগামীকালের কথাও জোর দিয়ে বলতে পারছি না। আমরা যেভাবে আছি এভাবে যদি ৫০ বছর কাটিয়ে দিই তাহলে আমরা একদম ভুল রাসত্দায় আছি। নিশ্চয়ই আমরা আগামী ৫০ বছর এভাবে কাটাবো না, আগামী ৩০ বছর এভাবে কাটাবো না। কিন্তু কীভাবে কাটাবো? কোথায় যাওয়ার জন্য কাটাবো?_ সে ছবি পত্রিকার মনের ভিতর আছে কী? যদি সে ছবি পত্রিকার মনের মধ্যে থাকে_ তাহলে পত্রিকার কথাবার্তা, সংবাদ যা পরিবেশন করছে তা ঐ দিকে আমাকে নিয়ে যাচ্ছে কিনা_ সেটাই হলো পত্রিকার প্রথম চ্যালেঞ্জ। তাহলে সাংবাদিকতার প্রথম চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে_ আমরা লৰ্যপানে যাচ্ছি কিনা। আমরা দৈনন্দিন কথাবার্তা দিয়ে পত্রিকা শেষ করে দিলাম_ তাহলে তো পত্রিকার কোন গতি নাই। এটা একটা দৈনিক বাজারের ফর্দের মতো_ দিন শেষ, কাজও শেষ_ ওরকমতো না। আজকে এতগুলো মানুষ আমরা যে এখানে বসে আছি, কথা শুনছি কারণ আমাদের কোন না কোনভাবে দোলা দিয়েছে। সে দোলা দেওয়াটা যে কোথায় ছিলো, কীভাবে এসেছিলো। এটা কি চট্টগ্রামবাসীদের দোলা দিয়েছে, নাকি কীভাবে দোলা দিয়েছে। এটা আমাদের এখন বিবেচ্য বিষয়। সামনে এই দোলা কি নিয়ে আমাদের দিবে?

খালেক সাহেবের_ ফিলোসফি ছিল। খালেক সাহেবের দৃষ্টি ছিল, দর্শন ছিল, যেখান তিনি পত্রিকাকে নিয়ে যেতে চেয়েছেন। যেখানে তিনি একটা মিলনমেলা সৃষ্টি করতে পেরেছেন। তিনি বুঝেছেন যে, টুকরা টুকরা করে ঐখানে পেঁৗছানো যাবে না। যেতে হলে আমাদের একত্রে যেতে হবে। তাহলে আমাদের শক্তি বাড়বে। আমরা শক্তিকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারি না! আজকে সারা দুনিয়ায় এটা চলছে, দুনিয়ার কেউ আর বসে নেই। আমরা বসে থাকলেও দুনিয়াতো বসে নেই। দুনিয়ার গতি প্রতি মুহুর্তে দ্রম্নততর হচ্ছে এবং কোথায় চলে যাচ্ছে! আমরা এগুলো প্রতিদিন আলোচনা করি। কিন্তু তবুও স্মরণ করিয়ে দিতে হয়, আমাদের সঙ্গী সাথী যারা ছিল ৫০ বছর আগে যেখানে দৈনিক আজাদী প্রথম প্রকাশিত হলো। সে সমসত্দ জাতি যারা আমাদের সাথে একই কাতারে ছিল। তারা এখন কোথায়? এটা কি তাঁদের নিজেদের কোন ৎবংড়ঁৎপব এর কারণে হয়েছে। নাকি তাঁরা কোন বিশেষ সোনার খনি পেয়ে গেছে। না তাঁদের অন্য কোন বিবেচনায় হয়েছে। যদি আমরা সে বুঝ না পেয়ে থাকি, তাহলে আমরা সে গুণ অর্জন করবো কখন? আর কত দিন আমাদের অপেৰা করতে হবে এই গুণ অর্জন করার জন্য? আমরা আরো কত নীচে থাকব?_ সেটাই আমাদের মনের মধ্যে প্রশ্ন।

আমরা চট্টগ্রাম থেকে পত্রিকা বের করছি। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পত্রিকা। চট্টগ্রামতো সারা বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র। এটাতো চট্টগ্রামবাসী বলে না, যেদিক থেকে আপনি তাকান বাংলাদেশের যেখান থেকে তাকান, বাংলাদেশের পুরো ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে চট্টগ্রামের উপর। আমরা চট্টগ্রামের অবস্থানকে যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে জানি, তাহলে সারা বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে দিতে পারি। সেই দৃষ্টিতে আমাদেরকে এই পত্রিকা_ যেটা আমরা আঞ্চলিক পত্রিকা হিসেবে দেখছি, সেটা তারস্বরে বাংলাদেশের মানুষকে বোঝাতে পারতো। এ কথা তাঁর উৎসবে সারা বাংলাদেশের মানুষকে বোঝাতে পারতো যে এই হলো আমাদের চ্যালেঞ্জ। এইটার দিকে যদি আমরা মনোযোগ দিই তাহলে সারা বাংলাদেশ দ্রম্নত পরিবর্তন হয়ে যাবে। কারণ, আমাদের অবস্থানটাই এমন এবং চট্টগ্রাম থাকার কারণে অবস্থানটা আরো একটু আকর্ষণীয় হয়েছে যে, আমাদের আশেপাশে যত দেশ আছে সবাই আমাদের কাছে আসতে হবে। এই একটা মাত্র কারণ_ এখানেই সমুদ্র বন্দর। যদি এই সমুদ্র বন্দরকে আমরা ব্যবহার করতে জানি_ তাহলে চীন আমাদের কাছে আসতে বাধ্য হবে। মায়ানমার আমাদের পাশে আছে তাদের আমাদের কাছে আসতে হবে। উত্তরে আমাদের নেপাল, ভূটান, ভারত রয়েছে তিনপাশে তাদের আসতে হবে আমাদের কাছে। কিন্তু সে সুযোগটা আমাদেরই সৃষ্টি করতে হবে। এই স্থান থেকেই সৃষ্টি করতে হবে। আমরা যাতে করে এই সুযোগটা অত্যনত্দ দ্রম্নতগতিতে সৃষ্টি করতে পারি এবং আমরা যে উর্দ্ধগতিতে অগ্রসর হতে চাচ্ছি সে গতি আমরা সৃষ্টি করতে পারি। কাজেই, যদি আজাদী পত্রিকা চট্টগ্রামের সেই মহান উদ্যোগ নিয়ে কথা বলে, যে চট্টগ্রামেরই কথা বলছে সে_ তাঁকে বলতে হবে এখন বাংলাদেশের কথা হিসেবে। এই অঞ্চলের কথা_ আসছে এখন। এই অঞ্চলের জন্য একটা ডাক দিয়ে যাবে_ এই সুযোগ একটা সৃষ্টি করে দিতে হবে। কিন্তু আমাদের সমাজ ব্যবস্থা, এই একটা জায়গায় আমরা নির্ধারিত হয়ে আছি। এটা খুলে দিতে পারলে বাংলাদেশের ভবিষ্যত খুলে যাবে, এই অঞ্চলের ভবিষ্যত খুলবে। কাজেই, সে কথা আমরা এই সাংবাদিকতার মাধ্যমে বলবো না কেন?

যেখানে আমাদের মতভেদ থাকে, মারামারি করে আমাদের মতভেদ মিটানো যাবে না। যুক্তি-তর্ক দিয়ে আমাদের সে মতভেদ মিটাতে হবে। সবার হৃদয়কে জয় করতে হবে। হৃদয় জয় করতে না পারলে আমরা কোন কাজ করতে পারবো না। কাজেই, শেষ যিনি জয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলেন খালেক সাহেব, আজকে সে ঐতিহ্য বহন করছে আজাদী। সে আজাদী আগামী ৩০ বছরে আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে_ সেটা আজকে ভাবনার বিষয়। আমরা জানতে চাই, সেই সাংবাদিকতা কিভাবে আমরা নিয়ে যাবো? এটা কিভাবে পত্রিকায় ছাপা হলো সেটা বড় কথা নয়। আমরা আমার ছোটবেলার একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি, হয়তো আপনাদেরও অনেকের ছোটবেলার কাহিনী। আমরা আজাদ পত্রিকা পড়তাম তখন। কলকাতা থেকে আসতো এবং কলকাতা থেকে আরো কতগুলো পত্রিকা আসতো, ঝকঝকে ছাপা। আজাদ পত্রিকা পড়া যেতো না। তার প্রত্যেকটা শব্দ পড়তে আমাদের অনেক কষ্ট হতো। কিন্তু প্রতিটি শব্দ মনোযোগ দিয়ে পড়তাম। এই জন্য যে, ঐখানে আমাদের কথাগুলো আসছে। যে আন্দোলন চলছে স্বাধীনতার, স্বাধীনতা আন্দোলনের কথাগুলো আসতো। ছাপা ঝকঝকে হলো না ঝাঁপসা হলো, সে চিনত্দা আমরা করি না। মনের কথা বলি। প্রেমপত্র যদি পান সেটা যদি ঝাঁপসা থাকে তা পড়বেন না? পড়বেনতো বটেই। এটা ছাপা কীভাবে হলো_ সেটা আজকের দিনের কোন বিষয় না। যেকোন মুহুর্তে সেটা বদলে দেওয়া যায়। বলছেন কি? কি বিষয় আছে ভিতরে?_ সেটা দেখার বিষয়। আমরা বিষয়ের দিকে মনোযোগ না দিয়ে এখন পত্রিকার কায়দাগুলো কত রঙ করা যায়, কত ঢং করা যায়, কত পৃষ্ঠা ভর্তি করা যায়। ওগুলোতো হলো পাতা ভর্তি, এই বসত্দাটা নিয়ে দু'তিন পাতা পড়ে দেখলাম যে, কিছু নেই। দেখে ফেলে দিলাম। এটাতো সাংবাদিকতা হলো না। সাংবাদিকতা হলো যেটা আমার মনের মধ্যে গেঁথে দেবে। আমার মনের মধ্যে চক্কর কাটবে সে। সেটা হলো সাংবাদিকতা। এবং সেটা আমাকে একটা বড় উদ্দেশ্যের জন্য নিয়ে যাবে। মারামারি কাটাকাটির জন্য আমাদের উদ্বুদ্ধ করবে না। আমাকে উদ্বুদ্ধ করবে যে, আমাকে একতাবদ্ধ হয়ে আমরা এই দীর্ঘ পথ কিভাবে পাড়ি দিব এবং কত দ্রম্নত সেটা পাড়ি দিব। আগামী যে ২০ বছরের কথা, ৩০ বছরের কথা বলছি সেটা তো, একটা দীর্ঘ সময়। আজকের দিনে প্রতি মুহুর্ত হলো একটা বড় কাজ করার সময়। আমরা প্রতিদিন সে কাজগুলো করতে পারছি কিনা? আমরা সেভাবে উদ্বুদ্ধ হচ্ছি কিনা? নাকি প্রতিনিয়ত আমাদের সমসত্দ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়ে যাচ্ছে, যা করতে চাচ্ছি সেটা কোনভাবে এগুতে পারছে না। সে জিনিসটা আমাদের দেখতে হবে যে, ৩০ বছরে কি হবে সেটা সারা দুনিয়ার পরিপ্রেৰিতে এখনি আন্দাজ করা যায় না। কার অর্থনীতি কিভাবে বিবর্তিত হয়ে যাবে, কার সামাজিক ব্যবস্থা কিভাবে বিবর্তিত হয়ে যাবে। এটা এখন থেকে যদি আমরা বসে বসে একটা কাল্পনিক কাহিনী রচনা করি, সেটাকেও ব্যর্থ করে। এত দ্রম্নত জীবন পাল্টে যাচ্ছে, এত দ্রম্নত প্রযুক্তি আমাদের অন্য জগতে নিয়ে যাচ্ছে! সেখানে যদি আমাদের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে, এই বাজারের খাতা নিয়ে আমরা ব্যসত্দ থাকি, তাহলে আমরা সে পথে যেতে পারলাম না। আমরা এই পর্যনত্দ যেটা হারিয়েছি তার চাইতেও বেশি হারাতে হবে। এটা যেন না করি আমরা। আজকে আজাদী পত্রিকা যদি আমাদের দৃষ্টিবোধ জাগিয়ে তুলে দিতে পারে তাহলে সেটা তাদের সার্থকতা এবং আজাদী পত্রিকা আজকের ভঙ্গিতে আগামীতে সে ভঙ্গি হোক আরো জোরদার করতে পারে এবং মূল বিষয়টাকে ভুলে না গিয়ে আমার বক্তব্য থাকতে হবে। আমার স্বপ্ন থাকতে হবে। আমার একটা ভিশন থাকতে হবে। আমরা যতজন যেভাবে কাজ করি না কেন_ সে একটা দিকে আমাদের নিয়ে যাবে এ প্রক্রিয়া।

একটা জিনিস আমার ভালো লাগলো আজকে। আলোচনাগুলো শুনার সময় ভিডিওতে যেগুলো দেখানো হলো গবংংধমব যাদের এলো। ভালো লাগলো প্রথম দিকে সম্ভবত যারা কথা বললো, সব তরম্নণ। যে আমলের কথা আমরা বলছি সে আমলের কথা শুনেও নাই কোনদিন। তারা একদম সমপ্রতিকালের মানুষ। এই তরম্নণ সমাজকে যে আনতে পেরেছে আজাদী পত্রিকা_ এটা আমার কাছে খুব অদভূত লাগল। এই যে তরম্নণ সমাজকে পরিবর্তন করার জন্য, তরম্নণ সমাজের মনের মাঝে ঢুকার জন্য, আমরা সাংবাদিক হিসেবে চেষ্টা করছি। কাজেই, এই তরম্নণরাই আমাদের এই ২০ বছরের ভবিষ্যত তৈরী করে দিবে। আমরা কি ভবিষ্যত তৈরী করে দিব?! ওরাই তৈরী করবে। কিন্তু যেহেতু তারাই পরিবর্তিত মানুষ। তারাই নতুন প্রযুক্তি, নতুন জগৎ, নতুন পৃথিবী সমন্ধে শিখেছে। আমরা শিখিনি, আমরা অতীত নিয়ে কথাবার্তা বলছি। কাজেই, তাদেরকে যদি আমরা সেই বিকাশ করা, নিজের শক্তি প্রকাশ করার সুযোগ দিতে না পারি, তাহলে জাতি হিসেবে আমরা একেবারে ব্যর্থ হয়ে যাবো। আমরা যে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা শুনি, সেটা দিয়ে আমরা এই তরম্নণ সমাজকে কিছু করতে পারছি কিনা? সাংবাদিকতার মাধ্যমে আমরা তুলে ধরতে পারছি কিনা? আমাদের ভবিষ্যতকে আমরা জবাই করে দিচ্ছি কিনা? আমরা যাতে ভবিষ্যত সৃষ্টি হয়, কোন রকমের নতুন জগত আমরা নিজেদের জন্য সৃষ্টি করতে পারি সেটার জন্য আমরা বদ্ধ পরিকর হয়ে আছি, এটা যদি হয়ে থাকে_ তা হলো সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতা মানে অমুক একটা রিপোর্ট করে দিয়ে চলে গেল, কে কাকে মারলো, কি করল এটুকুতেই শেষ করে দেওয়া না। সাংবাদিকতা হলো এটার অবজার্ভ কি? আমাদের চাকুরী, জীবন নিয়ে আমরা কোথায় চলে যাচ্ছি? সেটাকে তুলে ধরা। তাঁর আদর্শকে চিৎকার করে বলা যে_ জাতি, আপনার ভবিষ্যত গড়ুন। আমরা আমাদের সনত্দানদেরকে জলাঞ্জলি দিয়ে দিচ্ছি। কাজেই, তরম্নণদের দিকে দেখলাম যে, আজাদী পত্রিকা তাদের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরেছে। কিভাবে পেরেছে আমি জানি না। এই ম্যাজিক আমার জানা নেই। কিন্তু তরম্নণদের কথা শুনে মনে হলো, তারা পেরেছে। এবং এটাকে আরো জোরদার করা যায় কিনা? যাতে ২৫ বছরের কমবয়সী ছেলে-মেয়েদেরকে আমরা একটা পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত করতে পারি। একজন বললো, আজকের দিনে ছেলেমেয়েরা পত্রিকা পড়েই না। এটাকে পড়াতে পারি কিনা। কাগজের ওপরে পড়াতে পারি কিনা। এটা ইন্টারনেটে পড়াতে পারি কিনা। তাকে আকর্ষণ করতে পারি কিনা। এটাকে যদি আমরা আকষর্ণ করতে না পারি। আমরা যদি মনেকরি যে, না অতীতের মানুষ পত্রিকা পড়বে। কাগজ কিনে হোক বা যেভাবে হোক তাত্তি্বক জগতের মানুষ এগুলো পড়বে। কিন্তু বর্তমানের যারা, তারা আরেক জগতের মধ্যে ঢুকে গেছে, তারা ইন্টারনেটে, ফেসবুক কিংবা কানে আইপড লাগিয়ে বসে আছে, আমাদের কথাবার্তা কেউ শুনছে না। তাহলে জাতি হিসেবে আমাদের ইন্টারনেট সমাপ্তি থাকবে হবে আমরা পারলাম না। কাজেই আমাদের উদ্যোগ জানতে হবে; যেভাবে আমাদেরকে আমাদের ছেলেবেলায় উদ্বুদ্ধ করেছে "মুকুলের মাহফিল"। এরকম বহু পত্রিকায় বাচ্চাদের অংশগ্রহণ দেখতাম এবং অধির আগ্রহে কাগজের সঙ্গে যুক্ত হতাম। যেটা আমাদের স্মৃতি হিসেবে থেকে গেছে। কিভাবে বন্যার্তদের কাজে আমার নাম ছাপা হয়েছিল, সদস্য হিসেবে নাম ছাপা হয়েছিল, সদস্যদের কার্ড একটা করেছিল আমার, আমার একটা লেখা ছাপা হয়েছিল, আমার একটা প্রশ্ন ছাপা হয়েছিল। এই যে পত্রিকার সঙ্গে একটা যুক্ত হয়ে গেলাম। তরম্নণ কিশোর-কিশোরী এবং ভবিষ্যত সেটাকে আমাদের আসত্দে আসত্দে নিয়ে গেছে। আমরা কি সেটাকে রাখতে পারছি? নাকি সেটা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো আমাদের কাছ থেকে সেদিন? তাহলে সংবাদপত্রও যদি আমরা হারিয়ে ফেললাম? সংবাদপত্রের মাধ্যমে যদি আমরা তাদেরকে হারিয়ে ফেললাম? তাহলে এই জাতিকে আমরা কার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যুক্ত করব? আমাদের রাজনীতি যুক্ত করবে তাদের সঙ্গে, নাকি সাংবাদিকতা যুক্ত করবে নাকি, সাহিত্য আমাদেরকে যুক্ত করবে? কে আমাদের যুক্ত করবে? তাদের হাতে থাকবে এটা আমাদের চিনত্দা করা যায়।

আজকে এই প্রশ্নটা তুলেছে আজাদী পত্রিকা এতগুলো মনত্দব্যের সঙ্গে সাহিত্য, শিল্প, ঝঢ়ড়ৎঃং ইত্যাদির মাধ্যমে কিভাবে তাঁরা এদের কাছে পেঁৗছে গেছে! আমরা আশা করি, আজকে আজাদী পত্রিকার আমাদের মনের মধ্যে যে সমসত্দ প্রশ্নের অবতারণা করেছে সেগুলো ভবিষ্যতে আরো একত্র করে আজাদী পত্রিকা নিজেই ভূমিকা রাখবে, সেখানে জাতীয় পত্রিকা_ যেহেতু জাতীয় বক্তব্য রাখবে সে এবং জাতীয় স্বপ্নকে তুলে ধরবে। চট্টগ্রামের বন্দর নিয়ে কথা বললে, চট্টগ্রামের বন্দর চট্টগ্রামবাসীর জন্য না। এটা চট্টগ্রাম বন্দর মানে বাংলাদেশের জন্য বন্দর। চট্টগ্রামে যে হাইওয়ে সেটা চট্টগ্রামের হাইওয়ে না, সেটা বাংলাদেশের হাইওয়ে। কারণ, এটা ছাড়া বাংলাদেশের গতি নাই। বাংলাদেশকে সকল পাশর্্ববতর্ী দেশের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে, এটার কোন বিকল্প নাই। আমরা যা ইচ্ছা করি না কেন। এইখানে দেয়াল দিয়ে ঘিরে দেওয়ার কোন সুযোগ নাই। কাজেই আমাদেরকে শিখতে হবে, আমাদেরকে খুলে দিতে হবে। আমাদের খুলে দিয়ে তাদের সঙ্গে সমান দিক থেকে আমাদেরকে ব্যবসা করতে হবে, চালচলন করতে হবে। তাদের সুবিধা দিতে হবে। আমরাও তাদের সুবিধা নেব। ঐভাবে আমাদেরকে অগ্রসর হতে হবে। সেটা হলো আমাদেরকে মানসিকভাবে প্রস্তুতি হতে হবে এবং আমাদেরকে লেখা-পড়ার দিক থেকেও সেভাবে তৈরী হতে হবে। যে আমরা তাদের সমকৰভাবে ভালো হতে চাই।

এখনো বাংলাদেশকে সবাই শ্রদ্ধা করে। এত কিছুর পরেও বাংলাদেশকে সারা দুনিয়ার মানুষ শ্রদ্ধা করে, বাংলাদেশের মানুষের কথা স্মরণ করে। যে প্রতিকূলতার মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ লড়াই করছে সেটা দেখে তাদেরকে শ্রদ্ধা করে। আমাদের যে পৃথিবীর যে জলবায়ূর একটা পরিবর্তন আসছে। সে পরিবর্তনে আমাদের জন্য একটা বিরাট আঘাত আসছে সেটা মানুষ বোঝে। তার মধ্যে আমরা অনেক স্বপ্ন নিয়ে সামনে এগুতে চাচ্ছি। সেটা আমাদেরকে তারা শ্রদ্ধা করে দেখে, তারা দেখতে চায় বাংলাদেশের মানুষ পৃথিবীকে আরো কি ধরনের অভিজ্ঞতা দিতে পারে_ যেটা তাদের শিৰনীয়। আমাদের যে দূর্যোগ মোকাবেলা সেটা অন্যান্য দেশ অত্যনত্দ আগ্রহের সঙ্গে দেখে_ এতোগুলো দূর্যোগ আমরা কিভাবে সামাল দিয়ে যেতে পারি! এবং তারপরেও হাসি মুখে সামনে এগুতে পারি। এটা নিজের কাছে, সারা দুনিয়ার মানুষের কাছে শিৰণীয়। কাজেই আমাদের একেবারে অবজ্ঞা করছে সারা দুনিয়া, এটা মোটেই ঠিক নয়। আমাদেরকে সম্মান করছে। আমরা সেই সম্মানের পাত্র আছি। কাজেই, এখন সময় হলো যে, আমরা নিজেদেরকে সেই সম্মানের পাত্র হিসেবে আরো সামনের দিকে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। সাংবাদিকতা অবশ্যই অত্যনত্দ গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে_ এটা নিয়ে কথা বলার কোন অবকাশ নেই। কারণ,_ প্রতিদিন মানুষের মনে একটা পত্রিকা পড়ার যে আগ্রহ-উদ্দীপনা আমরা তৈরী করেছি সংবাদপত্রের মধ্যে_ এটা সাংঘাতিক রকমের একটা প্রভাব মানুষের মধ্যে বিসত্দার করবে। কিন্তু সে প্রভাবটা কিসের জন্য ব্যবহার করবো? কি কাজ করার জন্য এ প্রভাব? এই আমার একটা বিরাট শক্তি, সংবাদপত্রের মাধ্যমে। এই শক্তিটা আমি কিসের জন্য ব্যবহার করবো? এই প্রশ্নটির জবাব আপনাদেরকেই ঠিক করতে হবে। তারপরে সংবাদপত্রের মাধ্যমে সেটা আমরা অর্জন করতে পারবো। তাহলে আমরা জাতি হিসেবে আমাদের যে পরিবর্তন অত্যনত্দ দ্রম্নত গতিতে চাচ্ছি, সেটা দ্রম্নত গতিতে হবে। এই অঞ্চলের মধ্যে, দৰিণ এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে আমরা অন্যান্য অনেক জাতির চাইতে অত্যনত্দ সুদৃঢ়ভাবে অগ্রসর হতে পারি কারণ_ আমাদের সুযোগ আছে। অন্যান্য দেশগুলোতে যে সমসত্দ সমস্যা আছে, তা তুলনামূলকভাবে আমাদের কাছে কোন সমস্যাই না। অত্যনত্দ অল্প কিছু সমস্যা। সেগুলোকে যদি আমরা গুছাতে পারি, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগুতে পারি_ তাহলে আমরা সেটা অর্জন করতে পারবো। আজকে আজাদী পত্রিকার ৫০ বছর পূর্তি সব চাইতে বড় শিৰা উঠে এসেছে_ কিভাবে এ পত্রিকা এতো রকমের মানুষকে একসঙ্গে এত বছর ধরে দখল করে রেখেছে, তাদের মন গলাতে পেরেছে হৃদয় জুড়ে আছে। ধন্যবাদ আজাদীকে। ধন্যবাদ সবাইকে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×