
বাতিঘর থেকে বাসায় পৌঁছে যখন আমার বইয়ের আলমারিটা দেখি- খুব খারাপ লাগে। আমার জীর্ণশীর্ণ লাইব্রেরী। অধিকাংশ ছেঁড়াভুরা বই, যা পল্টন থেকে সস্তা দরে কেনা। তবও বইয়ে অপরিপুষ্ট এই লাইব্রেরীটার জন্য আমার অনেক মায়া মমতা।
একদিনের কাহিনী, বাতিঘরে বই পড়ছি। আমার পাশে বসে বই পড়ছে পিচ্চি এক মেয়ে। বয়স আট কি নয় হবে। সে খুব মনোযোগের সঙ্গে বই পড়ছে এবং খুবই দ্রুত পাতা উল্টাচ্ছে। আমি অবাক হলাম- একফোঁটা মেয়ে কি দ্রুতইনা পড়ছে। তার আশপাশে আমি এবং যে কয়েকজন পড়ছি সবার চেয়ে বইয়ের পাতায় মনোযোগ তার বেশি।
আমি একটু ঝুকে দেখার চেষ্টা করলাম, মেয়েটি কি বই পড়ছে। সে বই থেখে মুখ না তুলেই জিজ্ঞেস করল,
চাচু কি বই পড়ছেন আপনি?
আমি একটু ধাক্কার মতো খেলাম। হয়ত মেয়েটি বুঝেছে যে, আমি দেখার চেষ্টা করছি সে কী বই পড়ছে। তা ছাড়া আমাকে আমার দু’বছরের ভাতিজি ব্যতীত কেউ কোনোদিন চাচু বলে ডাকেনি। এই প্রথম। মেয়েটির ন’বছর, আমার উনিশ। এই জন্য কী আর চাচু বলতে হবে! মিজাজটা গরম হল খুব। কিন্তু মেয়েটিকে বুঝতে দেওয়া যাবে না। এমনিতে সে আমার একটা কাণ্ড ধরতে পেরেছে। চালাক মেয়ে নিশ্চয়।
তাই হেসে বললাম, হিমু পড়ছি।
মেয়েটি চোখ কপালে তুলে বলল, আপনি এখনো হিমু পড়েননি?
ওর প্রশ্ন শুনে মনে হল, হিমু না পড়াটা বোধ হয় খুব দোষের কিছু।
তুমি পড়েছ?
অনেক আগেই পড়েছি।
বাহ বেশ ভাল। তা আর কী কী বই পড়েছ তুমি?
অনেক বই পড়েছি, অতো নাম বলতে পারবো না।
আমি যে বইটি পড়ছি আর মেয়েটি যে বইখানা পড়ছে দু’টিই কলেবরে প্রায় সমান সমান। দু’তিন পাতা কম বেশি হবে হয়ত। আমার অর্ধেকটা শেষ হতে না হতেই মেয়েটি ‘শেষ’ বলে উঠে গেল। শুধু আমি না, সবাই তার দিকে অবাক চেয়ে আছে। হয়ত আমি যা ভাবছি ওরাও তা-ই ভাবছে।
আমি এখনো মাঝে মধ্যে বাতিঘরে যাই। বাতিঘরে যখন কোন ছোট ছেলেমেয়েদের মনোযোগ সহকারে বই পড়তে দেখি- খুব অবাক লাগে। এই বয়সে ওদের কার্টুন দেখার কথা টিভিতে। অথবা মোবাইল ফোনে গেম্স নিয়ে পড়ে থাকার কথা। আজকাল আধুনিক মা বাবারা তো সন্তানদের এভাবেই বড় করে তুলছে। শুধু ক্লাসের বইগুলো পড়লেই হল। অতোসব বই পড়ে হবেটা কী?
আমি সাধুবাদ জানাই, ওই সকল মা বাবাদের যাঁরা সন্তানের হাতে ভাল একটি বই তুলে দিতে পারলে খুশি হয়।
(বি: দ্র: বাতিঘরে, বিশ্ব সাহিত্ব কেন্দ্রে, অথবা পাঠক সামাবেশে যদি কারো যাওয়া আসা থাকে একটু সারা দিবেন)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৫:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




