somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কলকাতা ভ্রমণের উপকথা অথবা কফি হাউসের বিস্বাদ কফির গল্প

২১ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বন্ধু রাজীব সাহা। বয়স কম হলেও সে ইতিমধ্যে অনেকগুলো গুণ অর্জন করে ফেলেছে। তবে কোথাও ঠিক মতো দাড়াতে পারেনি। সে একাধারে মডেল, অভিনেতা, মিউজিক ভিডিও নির্মাতা, সাবেক রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ী। খুঁজলে হয়তো আরও দুয়েকটি গুণ পাওয়া যেতে পারে। তার পূর্ববর্তী সবগুণ আমার সঙ্গে কোথাও এসে ধাক্কা খায়নি। শেষটা এসে কিভাবে যেন মিলে গেছে। তা বোঝা হয়নি। যা হোক, তার আর আমার সেই সম্পর্ক ধরে আমার দ্বিতীয় কলকাতা ভ্রমণ। চার বছর পর আবারও কলকাতায়। সে আগেই চলে গিয়েছিল।
আমারও আগে থেকেই প্ল্যান চললেও অফিসের ছুটিটাই মোটামুটি বড় বিষয় ছিল। ছুটি পাওয়া মানেই বর্ডারের ওপাশে এক পা চলে যাওয়া।
তাই যখন ছুটি মঞ্জুর হলো তখন মূলত আমি অফিস থেকে বাইরে পা বাড়াইনি আমার পা তখন বেনাপোল পেরিয়ে পেট্রাপোলে।
তখনই বাসের টিকিট কনফার্ম করে নিলাম।
যে টিকিট নিয়ে পরদিন গভীর রাতে গিয়ে হাজির হলাম বাস কাউন্টারে। গন্তব্য কলকাতা। টিকিট কাউন্টার চিরকালই আমার কাছে প্রিয়। মানুষের বৈচিত্র্য এখানে খুব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। ভালো লাগে। বিচিত্র মানুষ সব। কাউন্টারে তাদের কত কাজ। কত ভাব। এমন অনেক কাজ করা একজন আমাদের সঙ্গে কলকাতা যাবার গাড়িতে উঠে এসে পান্থপথের মোড়ে জানতে পারলেন তার চট্টগ্রাম যাবার গাড়ি এটা না।
২.
আমার ভোর চিরকালই অন্য শহরের গল্প বলে। এখানেও ব্যতিক্রম নয়। এমনি এক ভোরে আমি যশোরে। যশোরের বেনাপোলে। একটু পরই আমাকে নো-ম্যান্সল্যান্ড পার হয়ে চলে যেতে হবে কলকাতা। তার আগে খাওয়া দাওয়ার একটা বিরতি। সেখানে পরিচয় হলো বরিশালের আঞ্চলিক টোনে কথা বলা এক যুবকের সঙ্গে। নাম, রিগ্যান। সাদাসিদে এই যুবকের ভেতর যে কত রঙ তা টের পেয়েছি কলকাতার বাকি দিনগুলোতে।
সীমান্তের যাবতীয় বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আমি উঠে বসলাম কলকাতা যাওয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে। একটা সময় পৌঁছলাম ঐতিহ্যের শহর কলকাতায়। কলকাতাতে এটা আমার দ্বিতীয়বার আসা। যে কারণে পুরাতন প্রিয়মুখ অনেকদিন পর দেখার ফিলিংস পেলাম। মনে ভেসে এলো, অনেক পাল্টে গেছো- টাইপ নাটকের ডায়ালগ।
৩.
বিকেলের দিকে বেরোলাম। আমার বন্ধু নিখোঁজ। সে ব্যবসা ছাড়া যে কোন কিছুই কম বোঝে। তার দিন কাটে মালামাল সংগ্রহে। আমার দিকে তাকিয়েও সে তার জায়গাতেই থাকে। আনমনে বলে ফেলে ৩৫টা।
আমি আঁতকে উঠি। কাহিনী কি? ৩৫টা কী? আমার চোখ নাক আবার বেড়ে গেল নাকি!
পরে অবশ্য বুঝতে পারি, হোটেলের রুমে বসেও তার ব্যবসায়ী আত্মা ঘোরাফেরা করছিল কলকাতার বিভিন্ন মার্কেটে। সেখানকার জামা কাপড়ের প্যাকেটের হিসাবই করছিল সে মনে মনে। তাই বের হয়েই ফোন দিই রিগ্যান নামের সেই যুবককে। শুরু হয় আমাদের কলকাতা অভিযান।
কলকাতা এসে বাঙালিদের মূলত আবাসস্থল হয় নিউ মার্কেটের আশপাশের গলিতে। সবাই যে দিক দিয়েই তার হোটেলে ঢুকুক, নিউ মার্কেট দিয়ে বেরোনোর কাজটা সারে। আমরাও ব্যতিক্রম হলাম না। যখন যেখানে যাওয়ার জন্য বেরোই সামনে এসে দাঁড়ায় নিউমার্কেট। নিউ মার্কেটটির আরেকটা কারণ হল খুব সুন্দর আর অন্যরকম জায়াগাটা। বসার ব্যবস্থা এবং গোছানো সব কিছুই নিউমার্কেটের মূল সৌন্দর্য। সামনে দোকান। নিচে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক মার্কেট আসলেই ভাবায়। কত এগিয়ে যাচ্ছে তারা। তাদের এগিয়ে যাওয়ার খবর প্রতিটি জায়গাতেই। চার বছর আগে যখন এসেছিলাম, তখন বিদ্যুৎ সমস্যা ছিল। এখন তাদের বিদ্যুৎ এক মিনিটের জন্যও যায় না। বেসরকারি খাতে চলে গেছে।
তাদের এই আলোর খবরের পাশে নিজের দেশকে রেখে ভাবলে চোখে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই আসে না। তাই সে ভাবনা বাদ দিয়ে বের হয়ে যাই। হাওড়ার দিকে। হাওড়া ব্রিজ আর হাওড়া স্টেশনের স্থান। তার আগে মোড়ের মিষ্টি লাচ্ছি আর মিষ্টি হাসির শেখর ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয়টা আনন্দের ছিল। শেখর আহমেদ, বাংলাদেশী অভিনেতা। সেখানেই থাকেন। নিউ মার্কেটে একটি দোকানও আছে তার।

হাওড়া স্টেশনে গিয়ে ব্যাপক ফটোসেশন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে ফেললাম। যা পাই তার সঙ্গেই ছবি তুলি। সে তালিকা থেকে বাদ গেলেননা সদ্য মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া মমতা ব্যানার্জিও। কলকাতা শহরজুড়ে তার বিশাল বিশাল প্রতিকৃতি দিয়ে তৈরি পোস্টার আর ব্যানারের ছড়াছড়ি। সেগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে আমরা মমতার বিজয়ের আনন্দে আমরাও শরিক হলাম। তালিকা থেকে বাদ পড়ল না রাস্তায় বসে গল্প করা এক দল ঠেলাগাড়ি চালকও। যারা ব্যাপক ভাব নিয়ে আমাদের ছবিতে পোজ দিয়ে দিলেন। সেখান থেকে আমরা রওয়ানা হলাম সায়েন্স সিটিতে। মোটামুটি আন্দাজে ঢিল ছোড়ার মতো এই ভ্রমণ। ঠিক কোথায় এই সায়েন্স সিটি তা ঠিক করে না জেনেই আমরা একটা বাসে উঠে বসে পড়লাম। শুরু হল এক বিরক্তিকর যাত্রা। রাস্তা শেষ হয় না। রিগ্যান কিছুক্ষণ পরপর মাথা নিচু করে বাসের জানলা দিয়ে দেখে আর বিড়বিড় করে বলে, এখানেই তো মনে হয়। নাকি আরো সামনে। সেই সামনে যে কতদূর সেটা যদি আগে টের পেতাম তাহলে সায়েন্স কে কাজে লাগিয়ে বাস থেকেই হাওয়া হয়ে যেতাম।
কলকাতা থেকে রওয়ানা হয়ে মোটামুটি আমেরিকার কাছে এসে থামল আমাদের বাস। এত দূর! যাই হোক দূরত্বকে ক্ষমা করে ঢুকলাম। নানা বিজ্ঞানের আয়োজন নিয়ে বসে আছে। আমি আর রিগ্যান সব ঘুরে দেখলাম। আমি দেখে দেখে চলে গেলেও রিগ্যান তা করে না। সে সব চালিয়ে দেখে আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে, বিজ্ঞানরে ভাই বিজ্ঞান। দেখছেন কী কাহিনী কইরা রাখছে?
এসব দেখেতে দেখতে অনেক সময় হারিয়ে গেল আমাদের কাছ থেকে। শুধু সময়কে একা বললে ভুল বলা হবে। সময় আর রিগ্যানের একটা ছাতাও হারিয়ে গেছে সেই তোড়ে।
প্রতিদিন আমাদের রুটিন ঠিক হয়েছিল, দিনে যেখানে থাকি, রাতে গন্তব্য হবে সিনেমা হল। হলও তাই। স্বয়ং সালমান খান যখন তার সিনেমা নিয়ে অপেক্ষা করছে তখন কি চলে আসা সম্ভব?

(চলবে)

ছবি : ১. হাওড়া ব্রিজ
২. ঠেলাওয়ালাদের সাথে রিগ্যান
৩. এই ছবিটি প্রমাণ করে, পৃথিবীর কোথাও প্রয়োজন আইন মানেনা
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×