somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অরণ্যে রোদন

৩১ শে জুলাই, ২০১১ দুপুর ২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অরুন, বরুন আর অভয় এর গল্প শোনাবো আজকে। এদের বাড়ি ছিল একই গ্রামে এবং পাশাপাশি। অভয় এর বাড়ির ডানে ছিল অরুনের আর বামে ছিল বরুনের বাড়ি। তবে অরুন-বরুনের মধ্যে আবার সম্পর্ক ভাল ছিল না, যদিও তারা পিসতুতো ভাই ছিল। অভয় এর সাথে আবার ওদের দু'জনেরই ভাল খাতির ছিল। এদিকে আবার দু'একদিন পর পরই অরুন-বরুনের ঝগড়া লাগত। আর যেহেতু দু'জনের বাড়ির মাঝখানে ছিল অভয় এর বাড়ি, তাই ঝগড়াগুলো সবসময় অভয় এর বাড়িতেই হত। এ নিয়ে অভয় চরম বিরক্তও ছিল।কিন্তু সম্পর্কের খাতিরে ওদের দু'জনের কাউকেই কিছু বলতো না। কারণ, অরুন-বরুন দু'ই ই ছিল এলাকায় যথেষ্ঠ প্রভাবশালী। এভাবে একদিন অরুন-বরুনের মধ্যে ঝগড়া চলছে, যথারীতি ঝগড়ার ভেন্যু অভয়ের বাড়ি। ঝগড়া থেকে একপর্যায়ে হাতাহাতি, তারপর শুরু হল তুমুল মারামারি। অরুন নিয়ে আসল বিশাল গদা, আর বরুন নিল রাম দা। এদিকে বেচারা অভয় অনেক ক্ষণ ধরে এ গন্ডগোল ঠেকানোর চেষ্টা করে চলছে। দু'জনের হাতেই ভয়ানক অস্ত্র দেখেও অভয় একটুও ঘাবড়ালো না, বরং দুই প্রতিবেশিকে এই ভয়ানক মারামারি থেকে নিরস্ত করার জন্য সে অবিরত চেষ্টা করতে থাকল। কিন্ত বিধি বাম। তাদের এ কলহ তো থামলই না, আরো মনে হয় দ্বিগুন বেগে চলতে থাকল। এবার এক পর্যায়ে এসে বরুনের রামদার এক আঘাত লাগল বেচারা অভয়ের মাথায়। রক্তক্ষরণে দুই এক মিনিটের মধ্যেই প্রাণ হারালো অভয়। অরুন-বরুন তো এই এলাকার আদি বাসিন্দা, আবার ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী। কিন্তু অভয়ের পরিবার তো এই পরিমাণ স্বচ্ছলতা নেই যে, অরুন-বরুনদের বিরুদ্ধে মামলা করার সাহস দেখাবে।আর দুনিয়া সবসময় শক্তের ভক্ত আর নরমের জম। তাই অভয়ের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর তো এখন আর কেউ নেই। কি আর করা--ভিটে মাটি ছেড়ে অভয়ের স্ত্রী-আর ছোট মেয়েটি চোখের জলে সিক্ত হয়ে পারি জমালো এক অজানার পথে-যেদিকে দু’চোখ যায়।


বর্তমান বাংলাদেশের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত যারা—তারা কি দয়া করে একবার ভেবে দেখবেনঃ আমার দেশ আবার অভয়ের বাড়িতে পরিণত না হয়। দিল্লী আর উলফার রণক্ষেত্র যেন আমার রাজধানী ঢাকা না হয়। এখন হয়তোবা বলবেন, শুরু হল ভারত জুজুর ভয় দেখানো। কিন্তু যে ভয়ংকর তার কাছ থেকে কি সাবধান থাকাই ভাল না? নিজের দেশের নিরাপত্তার খাতিরে বহু দেশেরই নিজস্ব কিছু রাষ্ট্রীয় পলিসি নিতে হয়। আর এটা ইনটেলিজেন্সি সংস্থার মাধ্যমেই করা হয়ে থাকে। কিন্তু এসব কারণে গোয়েন্দা বাহিনীর সাবেক প্রধানসহ এর উর্ধতন কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় এনে নিজের দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেই কি হুমকির সম্মুখিন করা হচ্ছে না?(হ্যা, আমি দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার ব্যাপারেই বলছি।) আসলেই আমরা সবই পারি। পেটের দায়ে নিজের হৃদপিন্ডও বিকিয়ে দিতে পারি।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×