somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিএনপি ও জামায়াত : দুই ধারার রাজনীতি

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে বিএনপি ও জামায়াত এই দুটি নাম বারবার ঘুরে আসে। কিন্তু তাদের রাজনীতির ধরণ, কাঠামো ও প্রভাবের জায়গা এক নয়। অনেক সময় তাদের একই পাল্লায় ফেলা হলেও বাস্তবে তারা ভিন্ন ধারা অনুসরণ করে।
বিএনপি মূলত একটি গণদল। এখানে ব্যবসায়ী, মোল্লা-হুজুর, পেশাজীবী, সাধারণ মানুষ, এমনকি অসাধু টেন্ডারবাজ সব শ্রেণির মানুষই আছে। কেউ সত্যিকারের ভালোবাসা থেকে বছরের পর বছর দল আঁকড়ে ধরে রেখেছে, আবার কেউ কেবল সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার মানসিকতা নিয়ে রাজনীতিতে এসেছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিএনপির সঙ্গে মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে। দলের কোনো নেতাকর্মী অপরাধে জড়ালে তা জনগণের চোখে বড় ধরনের আলোড়ন তোলে। কারণ বিএনপি সরাসরি সাধারণ মানুষের রাজনীতি করে এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থেকে টিকে আছে।

অপরদিকে জামায়াত ও এর ছাত্র সংগঠন শিবির মূলত সংগঠনভিত্তিক রাজনীতি চালায়। তাদের কাঠামো অনেকটা প্রতিষ্ঠানের মতো
নিজেদের ফান্ড নিজেদের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়।নিজেদের প্রতিষ্ঠানে নিজেদের লোক নিয়োগ দেয়।মেধাবী কিংবা অভাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে সহায়তা দিয়ে সংগঠনের ভেতর টেনে আনে

এভাবে তারা ধীরে ধীরে একটি গোপন নেটওয়ার্ক তৈরি করে। তাদের প্রাক্তন কর্মীরা পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যায়—ভিসি, ডিসি, এসপি, সচিব ইত্যাদি। যদিও তারা প্রকাশ্যে জামায়াত পরিচয় দেয় না, তবু ভেতরে ভেতরে সংগঠনের প্রতি ঋণী থেকে যায় এবং নীরবে সহায়তা করে।

বিএনপির শক্তি হলো জনগণ ও গণআন্দোলন। তাই তাদের রাজনীতি স্বচ্ছভাবে দৃশ্যমান। অপরাধ বা বিতর্কিত ঘটনা ঘটলে তা সবার চোখে ধরা পড়ে।

অন্যদিকে জামায়াত-শিবিরের শক্তি হলো সংগঠন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় জাতীয় মূলধারার রাজনীতিতে সরাসরি আসা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।



বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরকে একই পাল্লায় ফেলা ঠিক নয়। বিএনপি একটি বৃহৎ জাতীয় দল, যেখানে তারেক রহমান বর্তমানে দলকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। আর জামায়াত-শিবির মূলত একটি সংগঠনভিত্তিক নেটওয়ার্ক, যা দৃশ্যমান রাজনীতির তুলনায় আন্ডারগ্রাউন্ড প্রভাব বিস্তারেই বেশি মনোযোগী।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এ দুই ধারার অস্তিত্ব থাকলেও তাদের চরিত্রগত ভিন্নতা স্পষ্ট—একজন গণমানুষের দল, অন্যজন সংগঠনের জাল
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৩৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেঁচে থাকাই পরম বিস্ময়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩


পথেঘাটে ঘুরিফিরি, যেকোনো সময়
পটল তুলতে পারি গাড়ির ধাক্কায়।
মাঝেমধ্যে থাকি এমনও আশঙ্কায়,
নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে
মাথা ফেটে রক্তক্ষরণে প্রাণটা যায়!
এমন পরিণতিতে লোকে দুঃখ করে।
গাড়ি, ট্রেন, প্লেন, হয়তোবা ইস্টিমার
দুর্ঘটনায় প্রাণটা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা'কে লেখা প্রীতিলতার শেষ চিঠি

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৯




আমায় তুমি পিছু ডেকো না'গো মা
আমার ফেরা সম্ভব  না।
দেশ মাতৃকায় উৎসর্গিতা আমি
আমি তো সেই ক্ষণজন্মা! 

আমায় তুমি আশীর্বাদ করো মা,
মোছো তোমার চোখের জল।
নিপীড়িতদের আর্তনাদ শুনছো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×