somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নীরব ধর্ষণ,,,

২৩ শে জুন, ২০১৫ রাত ১১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মিমি, এবার S.S.C দিচ্ছে। ওর বাবা রহিম মিয়া মাছ বিক্রেতা। ফরমালিন যুক্ত মাছ বিক্রি করে। কি করবে?? অন্য সবাই যে করে। তাই উনিও করে। তবে কেউ যদি কিছু জিজ্ঞাস করলে ফ্যাল ফ্যাল করে হেসে বলে, না স্যার ফরমালিন একদম নাই। নদীর টাটকা মাছ।

মাছ বিক্রি করে বিকেলের দিকে রহিম মিয়া তার মেয়ে মিমির জন্য টাটকা ফলমুল কিনতে যাচ্ছে। তার মেয়ের পরীক্ষা চলছে অথচ ভাল মন্দ খাওয়াতে পারে না। তাই আজ কিছু ফলমুল আর দুধ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। মিমির আপেল খুবই পছন্ধের। বাবা তার জন্য আপেল এনেছে আজ। তার হাসি আর কে দেখে। মিমির মুখে হাসি থাকলেও মায়ের মুখে নাই। তার মায়ের কথা এত টাকা খরচ করে কেন ফলমুল আনা হলো!!

রাত নয়টা মিমি পড়ছে আর এক কামড় আপেল খাচ্ছে। মেয়েটা দেখতে শ্যামলা হলে কি হবে, চোখ দুটো অনেক সুন্দর। আর্মি অফিসার হওয়ার ইচ্ছা। সামনে আয়না রাখা। একটু পর পর নিজের চেহারা আয়নায় দেখে ও। অনেক পড়া বাকি ওর। একটা মাইকের শব্দ ওর ঘর থেকে শুনা যাচ্ছে। এটা নতুন কিছু না। বেশকিছুদিন হল এইগ্রামে একজন পীর এসেছে। উনি দিনে কারো সাথে কথা বলেন না, দেখাও করেন না। রাতে দেখা করেন। তার ভক্তরা তাই রাতের দিকে আসে। অনেকের সমস্যা দুর হয়েছে। তাই নারি পুরুষ সবাই উনার দরবারে যায়। একজন একজন করে ভিতরে যেতে হয়। তাপর সমস্যা বলতে হয়। আর উনি চিকৎসা করেন।

মিমি পরীক্ষা দিতে যাবে, রেডি হয়ে বের হবে। হঠাৎ দেখতে পেল কোট টাই পরা কিছু ভদ্রলোক ওর মায়ের সাথে কথা বলছে। মিমির দেরি হয়ে যাচ্ছে তাই সে চলে গেল। কিন্তু এরা কারা মিমির খুব জানতে ইচ্ছা করছে।

মিমির মা ছালেহা বেগম কথা বলছেন এনজিওর লোকেদের সাথে। এদের কাছে টাকা রাখলে তিন বছরে ২ গুন ফেরত দিবে। ১ লাখ রাখলে ৩ লাখ ফেরত পাবে। ছালেহা বেগম উনাদের পরের মাসে আসতে বললেন।

রাতে রহিম মিয়াকে সব খুলে বলেন ছালেহা বেগম। রহিম মিয়ার মন কিছুতেই সাই দিচ্ছে না। আবার লোভও সামলাতে পারছে না। তারপর যখন শুনল পাশের বাড়ির আবুল মিয়া ১ লাখ রেখেছে তখন রহিম মিয়াও রাজি হলেন। কিন্তু এত টাকা পাবে কোথায়?? ছালেহা বেগম তার মায়ের দেওয়া সোনার গহনা বিক্রি করে দিবে। আর রহিম মিয়ার কিছু জমানো টাকা। আর প্রয়জনে কিছু ধার নেওয়া যাবে। এই সব পরিকল্পনা চলল রাত ভর।

মিমির পরীক্ষা শেষ। ভাল পরীক্ষা দিয়েছে ও। বিছানায় শুয়ে আছে। জ্বর জ্বর লাগছে ওর। শুয়ে থেকেই বুঝতে পারলো বাড়িতে কারা যেন এসেছে। বাবা আর মা তাদের সাথে কথা বলছে। বুঝতে পারলে সেদিনের সেই লোক গুলো এসেছে।

রহিম মিয়া এনজিওর লোকদের হাতে ১ লাখ টাকা তুলে দিলেন। এনজিওর লোকেরা বলল তিন বছর পর আপনারা ৩ লাখ টাকা পাবেন।

রাত ১০ টা মিমি খুব ছট ফট করছে। ভিষন জ্বর ওর। ওর মা মাথায় পানি ঢালছে। তবুও কিছুতে কিছুই কিছুই হচ্ছেনা। ওর মা, মিমিকে পীর সাহেবের কাছে নিয়ে যেতে বলল। রহিম মিয়া মেয়েকে কোলে করে নিয়ে পীরের দরবারে গেল। রাত বেশি হওয়ার মানুষ বেশি নেই, ৭/৮ ছিল। রহিম মিয়ার মেয়ের এই অবস্থার জন্য পীরের সহকারি তার মেয়েকে আগে ভিতরে নিল। আর কিছুক্ষন পর বের হয়ে সব রুগীদের চলে বলল। কারন এই মেয়ের চিকিৎসা করতে অনেক সময় লাগবে। তাকে নাকি জিনে ধরেছে। রহিম মিয়া বাইরে দাড়িয়ে ছিল। পীরের সহকারী তাকে ভিতরে নিয়ে গেল। ভিতরে যেয়ে তিনি দেখতে পেলেন তার মেয়েকে মেঝেতে শুইয়ে রেখে দুপাশে আগর বাতি জালিয়ে ধুয়া দেওয়া হচ্ছে।
আর পীর সাহেব বিড় বিড় করে কি যেন পড়ছে। পীর সাহেব চোখ খুলে খুব নরম গলায় বললেনঃ আপনার মেয়েকে জিনে আছর করেছে। আমি এখন জিনের আছর ছাড়াব। আপনি বাইরে অপেক্ষা করুন। আর কোন চিৎকার শুনলে ভয় পাবেন না। জিন ছাড়ানোর সময় রোগী কিছুটা চিৎকার চেঁচামিচি করে। এটা ভাল লক্ষন।

রহিম মিয়া বাইরে দাড়িয়ে মেয়ের জন্য দুয়া করছে। ভিতরে মিমি শুয়ে আছে। ও কিছুটা ঘোরের ভিতর আছে। আগর বাতির গন্ধে ওর বমি বমি ভাব আসছে। পীর সাহেব সেটা বুঝতে পেরে আগরবাতি নিভিয়ে দিলেন। মিমি বুঝতে পারছে তার কপালে একটা ঠান্ডা হাত বুলিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেটা কার হাত বুঝতে পারছে না। আস্তে আস্তে মিমি আরো ঘোরের ভিতর চলে যাচ্ছে। সারা শরির যেন অবস হয়ে গেছে। ও অনেক ঘামছে। হঠাৎ ও কি যেন বুঝতে পারল চিৎকার দিয়ে বাবা কে ডাকল। কিন্তু এর পর আর চিৎকার দিতে পারল না। কারন তার মুখে হাত দিয়ে রাখা হয়েছে। অনেক চেষ্টা করছে এখান থেকে পালাতে। কিন্তু পারছে না। চোখ দিয়ে অঝরে পানি পড়ছে মিমির...
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১৫ রাত ১১:০৬
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডিস্কভারি অব ইন্ডিয়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৪



১৯৪৭ সালটা সমস্ত বাঙ্গালীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
দেশবিভাগের বছর শেখ মুজিব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। ভারত ও পাকিস্তান ভাগ হওয়ার সময়ে কলকাতায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালমান মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে এ্যাকশান নিয়ে সরকার কি বার্তা দিচ্ছে?

লিখেছেন আফনান আব্দুল্লাহ্, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫

সালমান মুক্তাদির দেখি জঘন্য মানুষ। ওয়াইন, ওম্যান আর ওয়েল্থ – পুরুষ নষ্টের এই তিন ডব্লিউ-ই তার অস্থিমজ্জা ও লিভারে ঢুকেছে



এদিক-ওদিক ব্যাপক আম-লিচু করে বেড়িয়েছে। নিজের স্টুডিওতে আজেবাজে শুটিং করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×