ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের সেমিনারে বক্তারা
দেশে দরিদ্র ধূমপায়ীরা প্রতিদিন প্রায় আট কোটি টাকা ধূমপানের জন্য ব্যয় করছে। প্রতি বছর প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা বিড়ি সেবনের জন্য ব্যয় করছে এসব ধূমপায়ী।
আগারগাঁওস্খ আইডিবি ভবনে ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের ‘দারিদ্র্য বিমোচনে তামাক নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের দরিদ্র জনগণ,যারা বিড়ি সেবন করে তারা তাদের আয়ের প্রায় সাড়ে চার ভাগ ধূমপানের জন্য খরচ করছে। এ জন্য দরিদ্র জনগণকে তামাক থেকে বিরত রাখতে হবে বলে তারা সুপারিশ করেন। বিড়ির দাম বাড়াতে হবে। দাম যত বাড়বে তত সেবনের হার কমে আসবে। এ থেকে রক্ষা পেতে বিড়ি-সিগারেটসহ সব তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কর বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।
ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে গতকাল এই সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বিশ্বস্বাস্খ্য সংস্খার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ড. মোস্তফা জামান, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও সুজন সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদার, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. আবু উবায়িদ বাকী, দি ইউনিয়নের টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট ড. আকরামুল ইসলাম, অর্থনীতিবিদ ড. জুলফিকার আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নিগার নারগিস, নিপসম’র গবেষক ডা. আমিনুল এহসান, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের গবেষণা বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ধূমপানের জন্য দরিদ্র মানুষের ব্যয় করা এ বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে দেশের অনেক ইতিবাচক কাজ করা সম্ভব। প্রতি বছর বিড়ি সেবনের জন্য দরিদ্র ধূমপায়ীরা যে অর্থ ব্যয় করেন সে অর্থ দিয়ে ৭২ লাখ অপুষ্ট শিশুদের প্রত্যেকে প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ এবং ৫৩ লাখ শিশুর প্রত্যেককে প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ ও একটি ডিম খেতে দেয়া সম্ভব।
ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সৈয়দ মাহবুবুল আলমের সঞ্চালনায় সেমিনারে তামাক ও দরিদ্রতাবিষয়ক গবেষণার সার সংক্ষেপ তুলে ধরেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের গবেষণা দলের সদস্য ইসলাম আরাফাত। তিনি বলেন, প্রতি বছর যে অর্থ বিড়ি সেবনের জন্য ব্যয় হয় তা দিয়ে ৪৮৫ কোটি ডিম কেনা সম্ভব, ২৯ কোটি এক কেজি ওজনের মুরগি কেনা সম্ভব, ২৯ লাখ গরু কেনা সম্ভব, ১৪.৬ লাখ টন চাল কেনা সম্ভব, ২৩ লাখ রিকশা কেনা সম্ভব, ১১ লাখ ক্ষুদ্র মুদি দোকানের ব্যবসা শুরু করা সম্ভব।
অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দরিদ্র জনগণকে বিড়ি সেবনসহ তামাক থেকে দূরে রাখতে হলে এসব পণ্যের দাম বাড়াতে হবে।
ড. মোস্তফা জামান বলেন, বিড়ি-সিগারেটসহ তামাক খাত থেকে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পায় তার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ তামাকজনিত স্বাস্খ্য খাতে ব্যয় হয়। তিনি বলেন, তামাকজাত দ্রব্যের ওপর দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন বিড়ির ওপর উচ্চহারে কর বৃদ্ধি পায়।
ড. আকরামুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের আগামী দিনে প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দেবে খাদ্য নিরাপত্তা। সেখানে খাদ্যের জমিতে তামাক চাষ করা আমাদের জন্য হুমকি।
ড. জুলফিকার আলী বলেন, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দারিদ্র্য বিমোচনে তামাক নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা অপরিসীম। তামাক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ ছাড়াও সেমিনারে সিরডাপের প্রতিনিধি কিন মার বো, এনবিআর’র এলটিইউ কমিশনার ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন এবং এলজিইডি’র প্রতিনিধি সৈয়দ আহমেদ বাসেত বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য সেমিনারে ব্র্যাক, ইপসা, উন্নয়ন সমন্বয়, সিড বাংলাদেশ, এইড, টিএমএসএস, ইসি বাংলাদেশ, একলাব, নিরাপদ ফাউন্ডেশন, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্ট, মানবিক, এএসইএ, ক্যাব, ওশি, র্যাক, সাড়ডা, শ্রীমঙ্গল ফাউন্ডেশন, উবিনীগ, বিআইডিএস সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


