somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

:| :| :| ‘মজা করব, ইভটিজিং করব, প্রতিবাদ করলে হাসপাতালে পাঠাব’ X(( X(( X((

১২ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৭:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘ইভটিজিংয়ের মজাই আলাদা। ইভটিজিং করব। মজা করব। তাতে যদি কেউ বাড়াবাড়ি করে, তবে তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেবো। কে কী করে দেখে নেবো। পুলিশও আমাদের। সরকারও আমাদের।’ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি রফিকুল ইসলামের পুত্র মিঠু তার এহেন দম্ভোক্তি পুরোটাই বাস্তবায়িত করেছে। রোজিনা নামের এক স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদে মামা এগিয়ে আসায় মিঠু তার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। বীরদর্পে দোকানপাট ভাঙচুর করেছে, করেছে লুটপাট। আর এরই মধ্যে সম্মান বাঁচাতে ছাত্রীটি দুই দফা আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ ইউনিয়নের খানসামা গ্রামের হতদরিদ্র রুহুল আমীন ও বেলা বেগম দম্পতি দীর্ঘদিন থেকে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করছেন। তারা কন্যা রোজিনা বেগমকে (১৩) নানার বাড়িতে রেখে পড়াশোনা করাতেন। রোজিনা স্খানীয় ইমামগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী।
রোজিনা জানায়, ‘স্কুলে যাওয়ার পথে স্খানীয় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতির পুত্র মিঠু প্রতিদিনই তাকে বিভিন্ন অশালীন ভাষা ও অঙ্গভঙ্গিতে উত্ত্যক্ত করত। গায়ে হাত দেয়ার জন্য এগিয়ে আসত। কুপ্রস্তাব দিত। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শরীরে অ্যাসিড মারার হুমকি দিত। ’
রোজিনা আরো বলে, মিঠু উত্ত্যক্ত করার সময় তার বìধুদের ডেকে আনত এবং বলত, ‘উত্ত্যক্ত করার কথা কাউকে বলে কোনো লাভ নেই। আমার বাবা সরকারি দলের লোক। পুলিশও আমাদের। আমরা ইভটিজিং করব না তো কে করবে? আমরাই তো মজা করব। আর এ কথা কাউকে বলেও কোনো লাভ হবে না। তার পরও যদি ‘কাউকে’ বিচার দাও তবে তোমার গোষ্ঠীসুদ্ধ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেবো।’

মিঠুর দ্বারা এভাবে উত্ত্যক্ত হওয়ার কথা রোজিনা ঢাকায় মোবাইল ফোনে তার বাবা-মা এবং নানা একরামুল হক ও মামা লাবলুকে জানায়। তারা বিষয়টি একাধিকবার মিঠুর পিতা রফিকুল ইসলামের কাছে জানিয়ে প্রতিকার দাবি করেন। কিন্তু তিনি গায়ে লাগাননি। তারপর গত এক সপ্তাহ থেকে মিঠুর উত্ত্যক্ত করার মাত্রা বেড়ে যায়। সম্মান বাঁচাতে রোজিনা এরই মধ্যে দুইবার গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে নানার পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন এ প্রতিবেদককে। এ প্রসঙ্গে রোজিনার দাবি ‘মরে গিয়েও যদি এ রকম পরিস্খিতি থেকে রেহাই পাওয়া যায় তবে সেটাই ভালো’!
এ দিকে নানার পরিবার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে বৈঠকের মাধ্যমে আবারো মিঠুর পরিবারের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রোজিনার নানার পরিবার। গত শুক্রবার নানা একরামুল হকসহ মামারা যান মিঠুর পিতা রফিকুল ইসলামের সাথে খানসামা হাটে বিষয়টি নিয়ে আবারো আলাপ করতে। কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মিঠু ও মিঠুর পিতা রফিকুল ইসলাম। রোজিনার মামা লাবলু জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করতেই সেখানে উপস্খিত মিঠু, মিঠুর বাবা আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে থাকেন। এক পর্যায়ে সেখানে উপস্খিত আরো কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাসহ আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় মিঠু আমার মাথায় দা দিয়ে কোপ দেয়। এ সময় আমার পরিবারের লোকজন ও আশপাশের লোকজন আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাদেরও বেদম মারধর করে। এক পর্যায়ে তারা আমার চাচা ইউসুফ আলীর ডেকোরেটরের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

ইউসুফ আলী জানান, ‘এ সময় মিঠু ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সন্ত্রাসীরা তার উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম ডেকোরেশনের সব কিছু লুট করে নিয়ে যায়।’ এ ঘটনায় গুরুতর আহত লাবলুকে কাউনিয়া স্বাস্খ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নানা একরামুল হক কাউনিয়া থানায় মামলা করেন।

সরেজমিন এলাকাবাসী আব্দুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার ছেলে বলে কথা। ওদের জন্য এখন সব কিছুই জায়েজ! ওদের কিছুই বলা যাবে না? তাহলে আমরা কি আমাদের মানসম্মান নিয়ে বাঁচতে পারব না? তিনি বলেন, ঘটনাটি দীর্ঘদিন থেকে ঘটছে। ওর পরিবারের কাছে দফায় দফায় নালিশও করা হয়েছে। কিন্তু নালিশের ফল দেখলাম চোখের সামনে হামলা করা হলো। ভাঙচুর হলো। লুটপাট হলো। মামলা হলো। কিন্তু পুলিশ কাউকেই খুঁজে পাচ্ছে না। বিষয়টি রহস্যজনক।
কাউনিয়া থানার ওসি রাফিউল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

তথ্যসূত্র: এখানে ক্লিক করুন
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×