somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শেখ আশিক রোশানরাজ সরকার জুনিয়র
শ্রাবনের বৃষ্টিস্নাত স্বপ্নমত্ত এলোমেলো তরুনের হাতে নীল রঙের আল্পনা যেখানে দু ফোটা অস্রুর মাখামাখি আর তার সানগ্লাসের আড়ালে কিছুটা অনুভূতি যা কিনা সানসেটে বসে থাকা এক টুকরো রোদ অতঃপর তার হাতে থাকা উপন্যাসের শেষ পৃষ্ঠায় এসে দেখা দিল একটি শুকনো গোলাপ পাপড়ি

শিরোনাম নেই

১৪ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি ব্লগিং জগতে বলতে গেলে আতুড় ঘরে থাকা শিশু সমান। যদিও ১৮ বয়স পার করেছি । লেখালেখি করি আগে থেকেই। বাট কখনো সিরিয়াস ইস্যু নিয়ে লিখা হয়নি। হয়তবা লিখার মতো অভিজ্ঞতা সৃষ্টি হয়নি। জীবন বলতে গেলে মাত্র শুরু।
যাই হোক একটা কথা বলে নিই। কেনো যেন এই দেশ টাকে আমি অনেক ফিল করি। অনেক আবেগ। চিন্তা করি যদি কিছু করে যাওয়ার সুযোগ পেতাম তো ধন্য হতাম। যাই হোক অনেকে এসব দেশপ্রেম কথাটা কে ন্যাকামো মনে করে। আসল কথায় আসি:

আমি এবার এইচএসসি পাশ করেছি। মিডল ক্লাস ফ্যামিলির ছেলে। যার বাবা আজ থেকে আড়াই বছর আগে মারা যান। তো যা হয়। প্রাইভেট ভার্সিটি তে পড়ার সামর্থ্য আমাদের থাকেনা। সুতরাং সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গুলোই আশা ভরসা। সেই সাথে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারে থাকা কিছু কলেজ। আমি ঢাকায় বড় হয়েছি। সো ঢাকা তেই পড়ার ইচ্ছা। আমি নাম বলবো না। কারন কয়েকজনের জন্য এত মানী একটা কলেজের মানহানী হোক আমি চাই না। হয়তোবা আপনারা যারা সিনিয়র তাদের কাছে ঘটনাটা তুচ্ছ মনে হবে। বাট আমি আমার লাইফ এ প্রথম এক্সপেরিয়েন্স করলাম। অই যে মাত্র তো জীবন শুরু।
কলেজে ফর্ম হাতে ঢুকেই অফিস রুমের দিকে গেলাম । ফ্লোরে পা রাখার আগেই কেউ আমার হাত টাচ করলো। আমি পিছু ফিরলাম

"কি ভাইয়া ফর্ম দিতে আসছো?"
"জ্বী"
"তো অইদিকে কই যাও এদিকে আসো"
না যেয়ে উপায় নেই তো ফলো করলাম। ফাকা বিল্ডিং এর একজাগায় আমার মতো আরো কয়েকজন ফর্ম হাতে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে আরো কতজন দায়িত্বশীল ভাইয়ারা উপস্থিত।
"দেখি তোমার কাগজ গুলো বের করো"
আমিঃ"ভাইয়া আমি অফিসে জমা দিবো আপনাদের কষ্ট করতে হবে না"
"আগে দাও কাগজ গুলা এতো কথা বলো কেন"
আমি দিলাম কারন কিছু করার নেই
সবগুলো কাগজ সাজিয়ে স্টাপলিং করে বললো
"৫০০ টাকা দাও"
"ভাই আমি তো শিওর ক্যাশে টাকা দিয়ে দিছি আমার লাগবেনা"
তারা আমাকে বোঝাতে লাগলো কেন টাকা লাগবে। আমি মনে মনে বলি "ঢাকার ট্রাফিকে বইসা আর ধুলা খাইয়া বড় হয়ছি আর আমাকে ভাই বাক্স পেটরা নিয়া ঢাকায় আসা আপনারা কাহিনী শোনাচ্ছেন?" (এটাকে খারাপ ভাবে নিবেন না । i am just trying 2 explain that situation how shameless they R!!!"
আমি কিছু বলতে যাবো অখন একজন বলে উঠলোঃ
"হয় টাকা দাও আর প্রবেশপত্র নিয়ে যাও নাহয় শুধু টাকা দাও"
দিয়ে দিলাম কাহিনী করে লাভ নেই ।
আমি এসে পড়বো তখন দেখি এক ছেলে প্রায় কেদে দিসে আর তাদের বলতেসে "ভাই আমার টাকা টা দ্যান আমার আর টাকা নাই"
তার অনুরোধ রাখা হয়নি। তার মানি ব্যাগ এ অপারেশন সারচ লাইট করা হয়েছে।
পরে তার সাথে কথা বলে জানতে পারলাম সে ঝিনাইদাহ থেকে এসেছে আর এখানে থাকে জগন্নাথ হলে এক ভাইয়ের কাছে।তার হিসাব করা টাকা । তার কমদামী বাদামী ছেড়া মানিব্যাগ টা হাতড়ে কিভাবে কেচে টাকা নেয়া হয়েছে সে দেখাতে লাগলো।
তার দুশো টাকা শর্ট পরে গেছে।
আমি অনেক অনুনয় বিনয় করে তাকে টাকাটা দিলাম। সে নিল। হয়তোবা তার খুব দরকার ছিল। বিশ্বাস করেন আমি যদি তাকে টাকা টা না দিতে পারতাম আমি তিনদিন ঘুমুতে পারতাম না।
আমি পড়ে বিষয় টা আমার কাজিনের সাথে শেয়ার করলাম। বললাম "ভাই একটু সান্তনা দ্যান"
ভাই বললো "জীবন তো মাত্র শুরু"
আসলেই জীবন তো মাত্র শুরু ।

একটা ভাবসম্প্রসারন খুব কমন । পরীক্ষায় বারবার আসে।
"ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালু কনা বিন্দু বিন্দু জল
গড়ে তোলে মহাদেশ সাগর অতল"
এই ৫০০ টাকা একদিন ৫০০০ হবে ৫০০০০ হবে ৫০০০০০ হবে ৫০০০০০০ হবে।
আসলে খুব কষ্ট হয় যখন দেখি আমার দেশেই এসব হচ্ছে । যে দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল । আসলে দেশ টাকে নিয়ে অনেক আশা । অনেক গর্ব।
খুব খারাপ লাগে যখন দেখি এরা আমারই স্বদেশী।


"হয়তোবা সাজিয়ে লিখতে পারিনি।একটা ক্ষুদ্র আবেদের বহিপ্রকাশ। অভিজ্ঞতা নেই লিখার।সামনে থেকে হয়তোবা অভিজ্ঞতা বাড়বে। অই যে জীবন তো মাত্র শুরু"
তবে একটাই আশা শুরুটা হোক ভালো।

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১১:২৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ: ইসলামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তববাদী?

লিখেছেন Sujon Mahmud, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি কি সত্যিই ইসলামপন্থী ছিলেন, নাকি ইসলামকে মূলত রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×