‘আমরা বিপিএল খেলি তাই বলে তো আর ভিক্ষুক নই! সিলেট সুপারস্টারসের মালিক আজিজুল ইসলাম আমাকে আমার মা, বাবা তুলে বকা (গালি) দিয়েছেন। মাঠে আমি তাকে স্যার বলে সম্বোধন করলেও তিনি আমার সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তা আমি কখনওই আশা করিনি। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কী ভাবে সম্মান করতে হয়, তা ওনার শেখা উচিত। আমি তার নামে বিসিবির কাছে অভিযোগ করেছি’- বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংস ও সিলেট সুপারস্টারসের মধ্যকার ম্যাচের আগের ঘটনা বর্ননা করতে গিয়ে এভাবেই সিলেট সুপারস্টারসের মালিকের নামে অভিযোগ করেন তামিম ইকবাল।
সোমবার (২৩ নভেম্বর) চিটাগং ও সিলেটের মধ্যকার ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভাইকিংস অধিনায়ক ম্যাচ দেরির ঘটনা বর্ননা করতে গিয়ে আরও বলেন, ‘খেলা যেহেতু ২টায় শুরু হয় তাই টস হয়ে যায় ১টা ৩০ মিনিটে। আজকের ম্যাচে টস করার জন্য ১০ মিনিট দেরি হলে আমি ম্যাচ রেফারির কাছে কারণ জানতে চাইলে তিনি আমাকে বলেন, টেকনিক্যাল কমিটিকে জিজ্ঞেস করতে। আমি তার কথা শুনে ১টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত মাঠেই দাঁড়িয়ে থাকি। পরে এক পর্যায়ে দেখি মুশফিক টিমলিস্ট নিয়ে আসছেন। আর মুশফিক যে টিমলিস্টটি নিয়ে আসেন তার এক কপি ম্যাচ রেফারিকে, আরেক কপি মুশফিক নিজের কাছে রেখে দেন। আইনত একটি কপি প্রতিপক্ষের অধিনায়কের কাছে দিতে হয়, কিন্ত মুশফিক তা করেননি।’
পরে মুশফিকের হাত থেকে টিমলিস্ট নিয়ে তামিম দেখেন সেখানে মুশফিকের স্বাক্ষর নেই। আর ওই লিস্টে বিদেশি খেলোয়াড়দের কোঠায় নাম ছিল দিলশান মুনাবেরা ও অজন্তা মেন্ডিসের। ছিল না রবি বোপারা ও জশুয়া কবের নাম। কিন্তু নাম না থাকার পরও তাদের মাঠে নামতে দেখে তামিম রেগে যান। আর এই জন্যই সিলেটের চেয়ারম্যান, আজিজুল ইসলাম তাকে মা-বাবা তুলে বকা(গালি) দেন।
আজিজুলের এমন অমানবিক আচরণে কষ্ট পেয়ে তামিম বলেন ‘তাদের কাছে টাকা থাকার মানে এই নয় যে, তিনি আমাকে একজন ভিখারির মতো বিবেচনা করে কথা বলবেন।’ বিষয়টি নিয়ে ক্ষুদ্ধ তামিম বিসিবি’র কাছে ইতোমধ্যেই অভিযোগ করে বিচার চেয়েছেন। আর তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিসিবিও দ্রুত এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন, বিসিবি মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস।
পরে মাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজে থেকেই সে প্রসঙ্গ টেনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তামিম ইকবাল।
“এনওসি (অনাপত্তিপত্র) নিয়ে গন্ডগোল যা হওয়ার হলো…তবে, একটা ব্যাপার আমি সবাইকে বলতে চাই, বিপিএলের উচিত ক্রিকেটারদের শ্রদ্ধা করা। কারও টাকা থাকা মানেই এটা নয় যে তারা জাতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভিক্ষুকের মত আচরণ করতে পারে। বিপিএলের উচিত আমাদের শ্রদ্ধা করা। আমরা এখানে ক্রিকেট খেলতে এসেছি। কিন্তু আমার পরিবার, আমার বাবা-মা তুলে গালি শুনতে আসিনি।”
গালাগালি সিলেটের চেয়ারম্যান করেছেন কিনা, ওই প্রশ্ন করলে সরাসরি নাম বলতে চাননি তামিম, “আমি নাম বলতে চাই না। সবার সামনে হয়েছে, সবাই তো দেখেছে।”
তবে আজিজুল ইসলামের নাম ধরে প্রশ্ন হলে আপত্তি বা অস্বীকার করেননি তামিম। বরং উত্তর দিয়েছেন আরও ক্ষুব্ধ কণ্ঠে।
“আমি স্রেফ চেয়ারে বসে ছিলাম, টিমমেটদের সঙ্গে কথা বলছিলাম। সে আচমকাই এসে শুরু করল। আমি তার সঙ্গে অনেক ভালো ব্যবহার করেছি। এমনকি তাকে ‘স্যার’ বলেও সম্বোধন করেছি। সে আমাকে চিৎকার করে বলেছে দাঁড়িয়ে কথা বলতে, সেটাও করেছি। যতটা সম্ভব সম্মান তাকে দেখিয়েছি। কিন্তু তারপরও সে আমার পরিবার নিয়ে খুব বাজে কথা বলেছে, যা ছিল খুব অপমানজনক।”
নিজের অপমানের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তামিম টেনে এনেছেন আইপিএলে পুনে ওয়ারিয়র্সের হয়ে তার অভিজ্ঞতা।
“লোকের কাছে অনেক টাকা থাকতে পারে, অনেকেরই আছে। তার মানে এই নয় যে, আপনি রাস্তার ফকিরের সঙ্গে যে আচরণ করবেন, জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গেও সেই আচরণ করবেন। এখানকার চেয়ে হাজার গুণে বেশি টাকা আইপিএলে। আমি সেখানে দেখেছি, তারা ক্রিকেটারদের সঙ্গ কত ভালো ব্যবহার করে।”
ওই ঘটনার পর ব্যাট হাতে নেমে ৪৫ বলে ৬৯ রানের ঝড়ো এক ইনিংস খেলেছেন তামিম। দল জিতেছে ১ রানে। ব্যাট দিয়েই জবাব দিলেন কিনা, এই প্রশ্নে হাসলেন চিটাগং ভাইকিংস অধিনায়ক।
“এত কিছুর পর ক্রিকেট খেলা যায় না। তবুও ভাগ্য ভালো যে আমি ইনিংসটি খেলতে পেরেছি।”
তামিমের আশা, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিসিবি।
“আমি বিসিবির একটি অংশ। আমি আশা করছি, বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটি এটা নিয়ে ব্যবস্থা নেবে। যেটা বলেছি, আমাদের আরও সম্মান প্রাপ্য। টাকা থাকলে যে কেউ যদি আমাদের সঙ্গে এরকম আচরণ করতে পারে, তাহলে আমাদের ক্রিকেট খেলা বন্ধ করে দেওয়া উচিত।”
-BDnews24
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




