
কতটা দু:সাহসী হলে ও দেশের প্রতি কত বেশি ভালোবাসা-মমতা থাকলে, একাত্তরে পশ্চিম পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি থেকে বিমান ছিনতাই করে, তা নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশ নেয়ার ইচ্ছে ও চেষ্টা মতিউর রহমান করেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
যখন মতিউর করাচির খাঁচা ছিঁড়ে ছুটে গেল মহাশূন্যে টি-৩৩ বিমানের দুর্দম পাখায় তার স্বপ্নের স্বাধীন স্বদেশ মনে করে ফেলে তার মাহিন, তুহিন, মিলি সর্বস্ব সম্পদ। তিনি উড়েছিলেন আকাশে, কোটি মানুষের মতো তাঁর চোখেও ছিল স্বপ্নের স্বাধীন দেশ স্থাপনের প্রত্যাশা। কিন্তু তিনি তা দেখে যেতে পারেননি। তাঁর ছোট্ট বিমান ব্লু বার্ড ভূপতিত হলেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাঁর স্বপ্ন। আর মৃত্যুর পূর্বে বাঙালীদের স্বাধীনতা লাভের স্পৃহার সর্বোচ্চ পরিমাণটি দেখিয়ে, কাঁপন ধরিয়ে দিয়ে গিয়েছেন পাকিস্তানীদের মনে।
তিনি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে শহীদ হওয়া এবং যুদ্ধে সর্বোচ্চ বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব পাওয়া, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ আর দীর্ঘ নয় মাসে তিরিশ লক্ষ বাঙালীর প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা, বাঙালী হিসেবে আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। এ অর্জনকে আমরা ধারণ করি সর্বোচ্চ সম্মানে। যাঁরা এ অর্জনের পথ সুগম করার জন্য জীবন বাজি রেখেছেন, যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। মতিউর রহমান এঁদেরই একজন।
আজ ২০ আগস্ট। একাত্তরের আজকের দিনে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট ল্যাফট্যান্ট মতিউর রহমান শহীদ হন। বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট ল্যাফট্যান্ট মতিউর রহমানকে অবনত মস্তকে শ্রদ্ধা ও অসীম ভালোবাসার সাথে স্মরণ করছি...
বড় দুঃখের কথা হচ্ছে যে, আজকের এ দিনে (২০ আগস্ট) কোন পত্র পত্রিকায় প্রথম পাতায় নিউজ পাইনি। কোন শোক মিছিল হয়নি। ভুলে গেছি সব আজ আমরা বাঙালী জাতি! হে বীরশ্রেষ্ঠ আমাদের ক্ষমা করুন, আমরা লজ্জিত!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
