somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাবা মায়ের ভরণ পোষণ না করলে শাস্তি প্রসঙ্গে

১২ ই অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ৮:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাবা মায়ের ভরণ পোষণ না করলে শাস্তি প্রসঙ্গে
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু
সশ্রম কারাদন্ড ,আজীবন,জেল ,প্রয়োজনে ফাঁসি ,উস্কানি দাতাদের গোষ্ঠী শুদ্ধ ,চোদ্দ শিকের ভিতরে ,যারা ঘরের ছেলেকে পরের করে,অজাত ,কুজাতদের প্ররোচনা একটি ঘরকে ধ্বংস করে। তাদের মৃত্যুদন্ড দিলে আমি অখুশি হবো না। সে যদি আমিও হই আমাকে ফাঁসি দিন ,কারণ আমি কুলাঙ্গার সন্তান,আমার বাঁচার অধিকার নেই।
হতে পারেন জ্ঞানী গুণী বিজ্ঞ জন,আলেম মাওলানা মুফতি ,বাবা মায়ের একটি আহ ,একটি দীর্ঘশ্বাস ধ্বংস করে দেবে সব.ইহকাল ,পরকাল।
মাথায় কালো দাগ ফেলবেন ইবাদতে কোন কাজ হবে না।লং স্লিভ পরে সুফী সাজে বোঝাবেন ইউ আর দা বেস্ট ,আপনার পিতা মাতার রাখবেন না খবর.চতুরামি ,চালাকি সৃষ্টি কর্তা ঠিকই বোঝেন।পাবলিকের চোখে ধুলা দেয়া সহজ.আল্লাহর নয় ,মিষ্টি কথায় চিড়া ভিজলেও কর্মটাই আসল.ইউ শুড থিঙ্ক,হোয়াট ইউ ডিড ,হোয়াট আর ইউ ডুয়িং,হোয়াট ইউ উইল ডু। কোটি কোটি টাকার প্রাসাদ হবে বিলীন ,বাবা মায়ের কষ্টে। মায়ের চোখের জল সন্তানের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিশাপ।বাবার বদদোয়া করে দেবে ছারখার।
হোক পিতা ,মাতা পাগল উম্মাদ ,ব্যভিচারী,সন্তানের জন্মদাতা তারাই।প্রত্যেক সন্তানের দায়িত্ব তার পিতা - মাতার জন্য প্রয়োজনীয় দায়িত্ব কর্তব্য পালন করা.
বৃদ্ধ বাবা মায়ের বিচার বুদ্ধি আবেগ বিভিন্ন রকম হতে পারে।বয়সের কারণে ,সন্তানদের অসম আয় ,জীবিত অবস্থায় সন্তানদের সম বন্টনের ভাবনা বাবা মা এর ভাবনায় থাকে , জন্ম থেকে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কিন্তু মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ,রক্ত পানি করে নিজেরা কষ্ট করে সন্তানকে বড় করে,শিক্ষা দেয় ,কর্মসংস্থানদেয়।সন্তানদের আদর করে ভবিষ্যৎ বংশ রক্ষায়,ধর্মীয় রীতিতে ,সন্তানের সুখ কামনায় সন্তানকে বিয়ে দেয় , বিয়ের পর অলৌকিক ভাবে সব পরিবর্তন হয়ে যায়। আফসোস!
ছেলে বৌয়েরা বিয়ের পর স্বামীকে নিয়ে আলাদা থাকতে চায় , এটাও ঠিক যে ছেলের বাবা মায়ের জন্য ছেলে বৌয়ের সেবা বাধ্যতামূলক নয়,ছেলের জন্য বাধ্যতামূলক।অনেক বৌ স্বর্গীয় ভাবে ধৈর্য্যশীল হয়ে থাকে,মানবতা ,বিবেকবোধের তাড়নায় বড় পরিবারের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন।
একের এক নতুন বৌ আসে প্রথম ,দ্বিতীয় ,তৃতীয় বৌদের আগমনে টুং টাং শুরু ভালো বৌয়েরাও বিগড়ে যায়. নিজের কথা ভাবতে শুরু করে.অশান্তি শুরু হয়.সংসারে ভাঙ্গন।বেয়াদব যদি ঢুকে যায় শান্তির ঘরে ,বাবা মায়ের সোম দৃষ্টি একটি এ দিক সে দিক হলেই আগুনের শিখায় লাগে হাওয়া।জ্বলে দাউ দাউ করে .আজকাল ছেলের বৌ শ্বশুর শাশুড়ি দেবর ননদ এর পরিবারে নিজেদের দাসী ,বান্দি ,কামলা,বদলা ভাবা শুরু করে. অথচ নিজের দু চার দশটা ছেলে পুলে থাকলে সবাইকে মেইন্টেন করেন নিখুঁত ভাবে। কাহিনী যে ভাবেই ঘুরাই না কেন ,চিত্রনাট্য যেভাবে সাজাই না কেন,আমি মনে করি ছেলেরা ইচ্ছে করলেই স্বল্প আয়,বেশি আয় বিষয় নয় ,ইচ্ছা আর ধৈর্য্য গুন্ দিয়ে বাবা মায়ের পদ তলে সন্তানকে জান্নাত খুঁজে নেয়া উচিত।
উন্নত দেশ,পাশ্চাত্য,প্রাচ্য,আরব্য যত তুলনাই নিয়ে আসি না কেন ,আমাদের বাংলাদেশে একান্নবর্তী সংসারের মায়া মমতায় যারা বড়ো হয়েছে তারাই জানে এর স্বাদ। এখনকার দিনের পর্যালোচনায় অবশ্য ছেলেদের আলাদা করে বিয়ে দেয়া উচিত।ছেলেদের উপর কোন আশা করে ঠিক না,সপ্তাহ,মাসে,বছরে,অনুষ্ঠানে দূর দূরান্তের আত্বীয় স্বজনের মতো দেখা হবে সম্পর্ক ভালো থাকবে।
একটি দারুন বিষয় রয়েছে ছেলে মেয়েদের ক্ষেত্রে।ছেলে বৌ যখন নিজের বাবা মায়ের কথা ভাবে তখন সে চায় তার ভাইয়ের বৌয়েরা তার বাবা মায়ের সেবা করুক ,নিজে শশুর বাড়িতে দজ্জাল এর ভূমিকায় অবতীর্ন হতে দ্বিধা করেন না. ছেলেরা বিয়ের আগে পর্যন্ত বিশেষ করে দ্বিতীয় তৃতীয় ক্রমান্বয়ে ছোট ছেলেরা ভাবীদের উপর প্রভাব খাটান।তার বাবা মায়ের খেদমতের ত্রুটি হলে ভাবীকে নাজেহাল করেন।ভালো হলে সহযোগিতা করেন,নিজের বন্ধুদের নিয়ে রং তামাশা,খাওয়া দাওয়া ,পার্টি করেন,ভবিষ্যতে বাবা মা ভাইদের জন্য এই করবে ,সেই করবে বড় বড় লেকচার। বিয়ের পর হুতুম প্যাচার চেয়ে অধম হয়ে যান তারা। প্রকৃতির সেই কি লীলা।
কেউ বড় ভাই ভাবীদের বাবা মায়ের মতো শ্রদ্ধা সন্মান করেন ,কেউ নিজের বৌকে বলে দেন,এই পরিবারে তোমার ফাউল নাই,খেলো ,যেভাবে পারো। শশুর বাড়ির প্ররোচনায় সংসার নষ্ট হয়.গর্ভধারণী মায়ের চোখে শুধু জল আর জল , এক জামায় এক কাপড়ে থেকে যে বাবা যুগিয়েছিলো আহার সন্তানের জন্য,ঈদে পার্বনে ছেলে নতুন জামায় ছেলে সন্তানের হাসিতে পেয়েছে সুখ সে বাবা মাকে বৃদ্দাশ্রমে পথে ঘাটে ঠেলে দিতে দ্বিধা করে না।
এমন ও বাবা মা আছে তারা নিজেরাই বিভেদ সৃষ্টি করায় সন্তানদের মাঝে।তবে সব পিত মাতা চায় সন্তানের মঙ্গল। তবু কেন যেন ভেঙে যায় সংসার।সংসার সাগরে দুঃখ তরঙ্গের খেলা,আশা তার একমাত্র ভেলা ,কবি কেন লিখেছেন ছোট কালে না বুঝলেও এখন নিজের মতো করে বুঝি।
সংসারে সবাই যদি নিজের থেকে একটু করেও ছাড় দেয় তাহলেই সমস্যা দূর হয়ে যাবার কথা। বাবা মায়ের এক টাকার সাথে সন্তানের কোটি টাকার তুলনা চলে না। বাবা মা যেমন খাইয়ে পরিয়ে হার মাংস তাজা করে হিসাব চায় না ,সন্তান ও পিতা মাতার জন্য দিন তারিখ লিখে হিসেবের খাতায় লিখে না কবে বাবা মা কে কি দিয়েছে।
দরিদ্রতা অনেক সময় বাধ্য করে ,উভয়কেই। ভালো আর মন্দ সুবিধা অসুবিধা সোজা সাপটা কথা ,মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর এ রায় কার্যকর দেখার অপেক্ষায় রইলাম।স্যালুট পাবেন আমার ,এ রায় পাশ হলেই।
১২-১০-২০১৬ ইং
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ৮:০৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×