সেল্ফির আড়ালে কষ্ট
জাহাঙ্গীর বাবু
গত আট শুক্রবার জুম্মার নামাজে যাবার সুযোগ হয়নি।এর পুর্বে প্রায় এক বছর একটানা জুম্মার সুযোগ হয়েছে।শুক্রবার,বৃষ্টির দিন ব্যাস্ততার কমতি নেই।ওরা, চায়নীজরা ইংরেজী বোঝেনা,আমি চাইনীজ বুঝিনা। ওরা আমার নির্দেশনায় কিভাবে কাজ করে তাও জানিনা,আমি যে ইশারা ইঙ্গতে কি বুঝাই তাও বুঝিনা। আমি ইংরেজী বলে যাই হাত,পা,ঠোঁট নেড়ে,এ ভাবেই চলে ঝামেলা যুক্ত জীবন।মাঝে মাঝে ফোনে চাইনীজ ম্যানেজারের সাহায্য নেই অনুবাদের জন্য। কিছু কাজ না করতে বললে বিশেষ করা হাউস কিপিং,সেফটি ওরা ডোন্ট কেয়ার।ওরা কাজে ফাঁকি দেয়না। প্রোডাকশন, মানে কোয়ালিটি যাই হোক,কোয়ান্টিটির প্রতি যত্নশীল।ওদের মালিকের লস হতে দেয়না। ওদের মানে চাইনীজদের সাথে যে দিন পেমেন্টের কথা সে দিন করতে হবে।নইলে কাজ বন্ধ। সাইটে এসে গণ্ডগোল করবেই।টাকা পারিশ্রমিক নিয়মিত সময়মত পেলে ওরা সন্মান করে,দোষ নেবেনা।ওদের চোখে একটু খুত দেখা দিলেই উপরস্তদের থেকে লিখিত বা মৌখিক সত্যায়ন নেবে।প্রমান রাখবে।
বাংলাদেশী ভারতীয়রা মাসের পর মাস পারিশ্রমিক ছাড়া কাজ করে।কাজ গুলো বেশির ভাগ সহকারী।দায়িত্ব নিয়ে কাজ হঠাৎ কাউকে দেখা যায়।বাংলাদেশ,ভারতীয় কমান্ডে কাজ করতে চায়।শর্টকাট মারতে চায় বেশিরর ভাগ,সহজ কাজ পছন্দ করে বেশি।যে সব ভারতীয় বাংলাদেশী পরিশ্রমী,তারা ফোরম্যান,বা কারিগর হয়ে যায় অল্প কয়েকদিনে।কেউ চাকরী ছেড়ে হয়ে যায় ঠিকাদার। যারা একটু সুবিধা পায় তারাই বেশি ক্লাব,মদ,নারী,মাস্তিতে আসক্ত হয়। এর মাঝে অনেকেই শুধু পরিবার নিয়ে ভাবে,যারা ভাবে তারাই চাকরী হারায় বছরান্তে।
বর্তমানে মাত্র একজন দেশী কাজ করে আমার সাথে নতুন এসেছে পুরাতন লোক। দশ লক্ষ টাকা ব্যায়ে। সারাদিন শুধু টাকার ভাবনা।আসলেইতো এগার মাস পর কি হবে তার।বেতন আঠারো। প্রায় না খেয়ে থাকে ছেলেটা। সাইটের প্রায় জনের কাছ থেকে দশ,বিশ,চল্লিশ লোন নিয়েছে।
এই সব তুলে ধরি বলে আমাকে অনেকে অপছন্দ করে। আরে ভাই মায়ের কোলে দেশে থেকে কষ্ট আর বিদেশের কষ্ট কি এক? দেশে তথেকে প্রায় ইনবক্সে বলছে ভাই নিয়ে যান,ব্যাবস্থা করেন।
অবস্থা ভালো নয় বোঝে নেন।শতকরা পাঁচ,দশ ভালো থাকলেই অবস্থা ভালো নয়।দেশে কিছু করেন।হয়তো এ দেশের জব মার্কেট ভালো হবে,তবে কবে?
মুখের হাসিতে ভেবোনা,সুখে আছি,হাসির রেখায় কষ্ট আছে।প্রবাসীরাই বেশি বেশি সেল্ফিদেয়।অনেকে বিরক্ত হয়,অনেকে বলে ভাব দেখায়।কেউ কি ভাবো,ফেসবুকের পুর্বে কি করতো? চিঠি,ক্যাসেট, টেলিফোন, পরিবার বন্ধুদের কাছে থাকা। কাউকে যদি ডাকি আয় সেল্ফি তুলি, আসে,চুল ঠিক করে,মুখ,ঠোঁটে হাসির রেখা।অথচ সে যে কাজ করছে তাতে ক্লান্তি,আর ঘাম।মাথায় খরচ করে আসা টাকার চিন্তা।পরিবারের সমস্যার যন্ত্রনা।সেল্ফিতে হাসি।সেল্ফির হাসির আড়ালে কষ্ট।
বুঝে নিও বাবর আলী কেন পেরেশান থাকে।
সিঙ্গাপুর
২৬-১-২০১৮ ইং

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৫:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




