
জাহাঙ্গীর বাবু
৩ মে মুক্ত সাংবাদিকতা দিবস।বিশ্ব গনমাধ্যম দিবস।বিশেষ দিবস ছাড়াও সাপ্তায়
কমপক্ষে তিনটে লেখা পত্রিকায় পাঠাই।
বেশির ভাগ তাদের ক্রাইটেরিয়ার বাইরে।
নিয়ম বহির্ভূত। উচ্চ মার্গীয় অনলাইনে মাসে একটা আসতেও কষ্ট হয়। মাঝারি গুলোতে মাসে তিন চারটে আসে।
এ হলো আমার মতো ফ্রি ল্যান্সারের মুক্ত সাংবাদিকতার হাল।আবশ্য আমি কোন মতেই সাংবাদিক নই।বড় ডিগ্রি ও নাই।তবে বিকার আছে। বিনে বেতনে স্বেচ্ছাসেবক সংবাদ কর্মী।লিখি আর কি?
আসলে কে মুক্ত সাংবাদিক? অনুষ্ঠানের সংবাদেই কি সাংবাদিকতা!দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন কি সাংবাদিকতা,সমাজের প্রতি দেশের প্রতি কি দায়বদ্ধতা নেই।
এমন প্রশ্নের জবাবে একজন বলেছিলো,আগেতো বাঁচি,আগেতো পরিবার বাঁচাই।গত বছর দেশে যাবার পর একজন বলেছিল,কখনো নিজেকে সাংবাদিক বলবিনা।তাহলে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে,বিরুধীরা ভাঙ্গবে,পাবলিক ধোলাই দেবে। অথচ,শিক্ষার সাথে অসামঞ্জস্য পুর্ণ এই পেশার সাথে জড়াবার সেকি ইচ্ছা আমার। শখের তালিকায় ঝুলিয়ে রেখেছি সেই সাতানব্বই সাল থেকে।ভাগ্যিস, এখনো আর্থিক বিষয়টা এর সাথে নেই।তার পর ও সত্য লেখার অপরাধে মান হানি মামলার আসামী হতে হয়েছে। গুলি কানের কাছে দিয়ে চলে গেছে।চাকরী জীবনে নিয়ে এসেছিলো কালবৈশাখীর তান্ডব।
আজ সকালে ৩-৫-২০১৮ ইং, খাবারের রেস্টুরেন্ট, নামজাদা রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন যে দেশী ভাই তরকারী দেয়,সে না দিয়ে নতুন এক জন দিলো। চামচের ভাবেই বুঝলাম আজ ঠকাইছে। বললাম,কি ভাই,এক ডলার কিন্তু,আয় করতে খবর হইয়া যায়। তিনি একটু রাগ হলেন।পাশের জন হাসছিলেন, মুচকি,তার হাতও ব্যাস্ত।
মুখ ফসকে বলে ফেললাম, শ্রমিকের অধিকার নিয়ে কথা বলি,আমাকেই অধিকার বঞ্চিত করলেন। পাশে থেকে এক ভাই বললেন,কি কইরা উল্টাইছেন,শুনি।
হুম,শ্রমিকের অধিকার! বক বকের জায়গা পান না।এবার চোখ গরম করে তাকালো।বললাম,ডিউটির সময় যায় ভাই।আমি শ্রমিক মানুষ কাজ করে খাই।উনি উত্তর দিলেন,আপনে শ্রমিক, আমি লেবার।পাঁচ মিনিটে বলেন,কি ফালাইছেন!আমি কথা না বলে, চলে আসলাম।
সাংবাদিকতা নিয়ে লেখায় কেন শ্রমিক অধিকারের প্রশ্ন,শ্রমিকের ক্ষোভের প্রসঙ্গ টানলাম,
আমি সঠিক মুল্য দিয়ে ন্যায্য প্রাপ্য থেকে আরেক শ্রমিকের কাছে বঞ্চিত,(যদিও তরকারী নতুন ছেলেটার ভুল), বিষয় গুলি ইলাস্টিক এর মতো টানলাম,কেউ মন্তব্য করতে পারেন,কারন আমার বড় লেখা দেখলেই অনেকের মুখে থু আসে।ভাবে চটি লিখি।
বিষয়টা অধিকারের,বিষয়টা বিবেকের।বিষয়টা নিজের কমিটমেণ্টের,বিষয়টা জাষ্টিফাইয়ে।কে আমি? কি করছি? কি লিখছি?
সাংবাদিকতার রঙ এখন লাল,হলুদ,কালো যেখানে সাদা আর সবুজের দেখা মেলা ভার।মুক্ত সাংবাদিকতা দিবস হোক আর গনমাধ্যম দিবস হোক,আমার চাওয়া, বিবেকটা মুক্ত হোক।লেজুড বৃত্তি মুক্ত সাংবাদিকতা হোক,সাংবাদিকের কলম বিক্রি না হোক।সাংবাদিকের কোন দলীয় এজেন্ডা না থাক।সাংবাদিকের কলম হোক গন মানুষের।সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গায় সাংবাদিকের ভুমিকা হোক নিরপেক্ষ।
সিঙ্গাপুর
৩-৫-২০১৮ ইং
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০১৮ রাত ৮:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



