
সেনবাগে সারাদেশের ন্যায় অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ চলছে দুর্বার গতিতে
জাহাঙ্গীর বাবু
এইতো সে দিনও রাস্তার ধারে খালের উপর ছিলোখাবার,দাবার,ষ্টেশনারী,ফলমূল,খেলনা,
প্রসাধনী,বাসের টিকিটের কাউন্টার সহ কাঁচা,পাকা,টিনশেড এমনকি দালান।খদ্দের খরিদ করতেন রাস্তায় দাঁড়িয়ে।রিক্সা,সি এন জি,বাস, ট্রাক,মটর সাইকেল জটলায় জীবন ত্রাহি ত্রাহি।
সরকারের খাল,জমিন, রাস্তার পাশ,ক্ষমতার পায়ের তলায়,জবর দখল করে বিক্রি করেছে কেউ,কেউ দিয়েছিলো ভাড়া। বলছিলাম ফেনী টু চৌমুহানীর মহাসড়ক এর কথা যা সেনবাগের আওতাধীন।
নিঃসন্দেহে বলা যায় যবর দখলের সুত্রপাত অন্তত নোয়াখালীর সেনবাগ এলাকায়, জোট সরকার,বি এন পি জামাতের আমল,কিংবা তার ও পূর্বে নব্বই এর দশকে।হোক রাস্তার মাথা কিংবা সেনবাগ।সেবারহাট,ছমিরমুন্সী,কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাজার,খাল,অফিস এলাকা।
সেনবাগ গোডাউন,মাদ্রসার সংলগ্ন বাজারের প্রবেশ দ্বারে সেই ভরাট,দোকান নির্মান আর বিকি কিনি দেখেছি, শুনেছি, সেই লিজের ইতিহাস,দুস্থ লোকদের নামে বরাদ্দের নামে রুই কাতলদের গিলে খাওয়ার ইতিহাস অনেকেই জানে। ক্ষমতার পালা বদলে মালিক হয়তো দু এক জন পরিবর্তন হয়েছে। যাক এই সবতো আর ভাঙ্গার সাধ্য কারো নেই। তবে সেনবাগ খালের নাব্যতা আর ফিরবে না কোনদিন এটাই সত্য।আর ভিড়বেনা মিরগঞ্জ বাজারে বড় সওদাগরদের নৌকা,বজরা,ডিঙ্গি।
আজ বৃহঃবার ১৪ ফেব্রুয়ারি২০১৯ দুপুর একটায় সেনবাগ থেকে মাইজদি আসছিলাম।সেনবাগ থেকে ছমির মুন্সীর হাটের খালের পাশ থেকে হাওয়া এসে জানান দিলো এখানে এখন সুবাতাস।তাকিয়ে দেখি সব ফকফকা। আহ কি দারুন দেখতে,প্রাণ জুড়িয়ে গেলো। কিছু ইমারতের ভগ্ন দেয়াল আর খালের উপর কংক্রিটের স্লাবের অংশ, নগ্ন পিলার,পুরাতন কাঠ, বাঁঁশ দেখা যাচ্ছে। সি এন জিতে পাশেই ছিলেন আওয়ামীলীগ নেতা সমাজ কর্মী আবু নাছের ভিপি দুলাল। বললাম, আবার এগুলো দখল হবেনাতো , তিনি বললেন,আমাদের নেত্রী ক্ষমতায় থাকতে অন্তত নয়। তিনি দুর্ণীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। দেখা যাক,সারা দেশের ন্যায় গত মঙ্গলবার থেকে আমাদের সেনবাগেও চলছে দুর্বার গতিতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক,প্রশাসন এর পর সেনবাগের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রক্তিম চৌধুরী,ওসি মিজানুর সহ সেনবাগ উপজেলা প্রশাসন কিন্তু ধন্যবাদ পাওয়ার মতো কাজ করেছেন। যা এ সরকারের ভালো কাজের মধ্যে অন্যতম।

সেনবাগ প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক এম এ আউয়ালের খবর থেকে এবার বিস্তারিত।ফেনী- নোয়াখালী মহাসড়কের ছমিরমুন্সীরহাট, রাস্তারমাথা ও সেবারহাট বাজারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ২ শতাধিক অবৈধ স্হাপনা অপসারন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ১৪ -২-২০১৩ দুপুর সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন সেনবাগ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রক্তিম চৌধুরী। এ সময় সড়ক ও জনপথ বিভাগের এসডিই প্রকৌশলী মো: শামছুদ্দোহা,সেনবাগ থানার বিপুল পরিমান পুলিশ, পল্লীবিদ্যুত বিভাগ ও বনবিভাগের দায়িত্ববান কর্মকর্তারা উপস্হিত ছিলেন। জেলা প্রশাসনের দিকনির্দেশনায় পুরো উচ্ছেদ অভিযান তদারকি করেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বিনয় কুমার পাল।
সওজ বিভাগের এসডিই প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা দুপুরে জানান, চৌমুহনীর চৌরাস্তা থেকে মহিপাল পর্যন্ত সওজ বিভাগের সড়কটি ফোর লেইন করা হবে। ইতিমধ্যে সড়কটির পাশের ভূমি দখলকরে অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। তাই জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় সড়কটি প্রশ্বস্তকরনে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে ২ শতাধিক অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্হাপনা বোলডোজার ও বেকু দিয়ে অপসারন করা হয়েছে। সড়কের অন্যান্য অবৈধস্হাপনা গুলো জরুরী ভাবে অভিযানের মাধ্যমে অপসারন করা হবে।
এ ছাড়া সেবারহাটে রাস্তা দখল করে স'মিলের গাছ ব্যবসায়ী এহছানুল হকের ৫ হাজার টাকা,নুরুল হকের ৫ হাজার টাকা ও আমির হোসেনের ৩ হাজার সহ মোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার রক্তিম চৌধুরী।
এদিকে, সেনবাগ,কানকিরহাট ও ছাতারপাইয়া বাজারে অবৈধ স্হাপনা উচ্ছেদ সময়ের দাবী।

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



