somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"কদম বুচি ও হাত-পা চুম্বন ১০০% জায়েজ"!

০৮ ই মে, ২০১৪ রাত ৮:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কুরআন-হাদিস থেকে দলিল দেওয়ার আগে ওহাবীরা সাধারন মানুষকে যেভাবে বলে ধোকা দেয় তার পর্দা ফাস করা আগে প্রয়োজন মনে করতেছি।
আহলে খাব্বিস ওহাবীরা এই বলে সাধারন মানুষকে ধোকা দেয় যে, মা-বাবা,ওস্তাত এর হাত-পা চুম্বন করলে মাথা নত হয়ে যায় আর সাজদা একমাত্র আল্লাহর কাছেই করতে হয় তাই কদমবুসি-হাতবুসি হারাম, শীরক ইত্যাদি।
যারা এরুপ বলে সেইসব গাধার কাছে আগে প্রশ্ন যে যে ‘সাজদা’ আর ‘মাথা নত করা কি এক জিনিস.?
নিষ্চয় সাজদা একমাত্র আল্লাহর জন্য অন্য কাউকে করলে তা নিঃসন্দেহ শিরক হবে এতে কোন সন্ধেহ নয়।
কিন্তু মাথা নত করলে কি সাজদা হয়।........?
ওহাবীদের মতে যদি এরুপ হয় তাহলে
লক্ষ করুন
- আমরা জুতা পড়ি কিন্তু জুতার ফিতা বাধার সময় আমাদের মাথা নত হয়ে যাচ্ছে তাহলে কি জুতা পড়াও শিরক..?
- রাস্তা হাটতে আপনার হাত থেকে কোন কিছু পড়ে গেল ধরুন কলম এখন কলমকে উঠাতে আপনার মাথা নত হয়ে যাচ্ছে তাহলে এটাও কি শিরক..?
- এভাবে একটা না হাজারটা কারন আমরা দাড়াতে পারি যেখানে আপনি মাথা নত না করলে আপনার চলবেই না।
ওহাবীদের এই ধোকাবাজী এখন দিবালোকের মত পরিস্কার যে এরা সাজদাকে মাথা নত এর সাথে মিলিয়ে মুসলিম মিল্লাতকে ধোকা দিচ্ছে। আসলে মাথা নত করা,কুদমবুসি,হাতবুসি ইসলামে জায়েজ যা আমাদের সাহাবাদের সংস্কৃতি থেকে লক্ষ করা যায়।
এখন যদি হাতবুসি বা কদম বুসি হারাম হয় তাহলে আমি পুরো জ্ঞানে বলছি যে যারাই এরুপ বলে অর্থাত ওহাবীরা তারা এবং তাদের সন্তানরাও হারামী, কারন সুত্র তাদেরই যেমন জানি না ওহাবীরা বাসর রাতে তাদের স্ত্রীকে কোথায় কোথায় চুম্বন দিয়েছে আর সেই চম্বনের ফল তাদের সন্তানরা কি হারামী হবে না। (মাইন্ড করবেন না আমি আপনাদের সুত্রেই কথা বলছি।)
কথা অনেক হল। এবার্ আসুন পবিত্র কদম বুসি,হাতবুসি কুরআন হাদিস থেকে প্রমান করি।

Lokho korun-
পবিত্র বস্তুকে চুমু দেয়া জায়েয। কুরআন করীম ইরশাদ ফরমান-
وَادْ خُلُوالْبَابَ سُجَّدًا وًّقُوُلُوُا حِطَّةٌ
অর্থাৎ ওহে বনী ঈসরাইল বায়তুল মুকাদ্দিসের দরজা দিয়ে নতশিরে প্রবেশ কর। এবং বল আমাদের গুনাহ মাফ করা হোক। এ আয়াত থেকে অবগত হওয়া গেল যে আম্বিয়া কিরামের আরামগাহ বায়তুল মুকাদ্দিসকে সম্মান করানো হলো অথর্ৎ বনী ঈসরাইলকে ওখানে নতশিরে প্রবেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ আয়াত দ্বারা এটাও বোঝা গেল যে পবিত্র স্থান সমূহে তওবা তাড়াতাড়ি কবুল হয়। মিশ্কাত শরীফের اَلْمُصَافَحَةِ وَالْمُعَانَقَةِ অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে-
وَعَنْ ذِرَاعٍ وَّكَانَ فِىْ وَفْدِ عَبْدِ الْقَيْسِ قَالَ لَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِيْنَةَ فَجَعَلْنَا نَتَبَادَرُ مِنْ رَّوَاحِنَا فَنُقَبِّلُ يَدَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرِجْلَه‘
হযরত যেরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, যিনি আব্দুল কায়সের প্রতিনিধিভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন- যখন আমরা মদিনা মনোয়ারায় আসলাম তখন আমরা নিজ নিজ বাহন থেকে তাড়াতাড়ি অবতরণ করতে লাগলাম। অতঃপর আমরা হুযুর আলাইহিস সালামের পবিত্র হাত-পা চুমু দিয়েছিলাম।
মিশ্কাত শরীফের اَلْكَبَائِرُ وَعَلَامَاْتِ النِّفَاقِ শীর্ষক অধ্যায়ে হযরত ছিফওয়ান ইবনে আস্সাল, থেকে বর্ণিত আছে فَتَقَبَّلَ يَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ (অতঃপর হুযুর আলাইহিস সালামের হাত-পায় চুমু দেন।) মিশ্কাত শরীফে مَا يُقَالَ عِنْدَ مَنْ حَضَرَهُ الْمَوْتِ শীর্ষক অধ্যায়ে তিরমিযী ও আবু দাউদ শরীফের বরাত দিয়ে বর্ণিত আছে-
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَبَّلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عُثْمَانَ ابْنُ مَطْعُوْنٍ وَهُوَ مَيِّتٌ
অর্থাৎ হুযুর আলাইহিস সালাম হযরত উছমান ইবনে মাতউনকে মৃতবস্থায় চুমু দিয়েছেন। প্রসিদ্ধ শিফা শরীফে উলল্লেখিত আছে-
كَانَ اِبْنُ عُمَرَ يَضَعُ يَدَهْ عَلَى الْمِنْبَرِ الَّذِىْ يَجْلِسُ عَلَيْهِ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِى الْخُطْبَةِ ثُمَّ يَضَعُهَا عَلَى وَجْهِهِ
যে মিম্বরে দাঁড়িয়ে হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুৎবা দিতেন, হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর সেটাতে হাত লাগিয়ে মুখে মাখতেন (চুমু দিতেন) আল্লামা ইবনে হাজরের রচিত শরহে বুখারীর ষষ্ঠ পারায় ১১৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত আছে-

اِسْتَنْبَطَ بَعْضُهُمْ مِنْ مَشْرُوْعِيَّةِ تَقْبِيْلِ الْاَرْكَانِ جَوَازَ تَقْبِيْلِ كُلِّ مَنْ يَّسْتَحِقُّ الْعَظْمَةَ مِْن اَدَمِىٍّ وَغَيْرِهِ نُقِلَ عَنِ الاِْمَامْ اَحْمَدَ اَنَّه‘ سُئِلَ عَنْ تَقْبِيْلِ مِنْبَرِ النَّبِىِّ عَلَيْهِ السَّلاَمَ وَتَقْبِيْلِ قَبْرِهِ فَلَمْ يَرَبِهِ بَاسًا وَّنُقِلَ عَنْ ِابْنِ اَبِى الصِّنْفِ اليَمَانِى اَحَدِ عُلَمَاءِ مَكَّةَ مِنَ الشَّافِعِيَّةِ جَوَازَ تَقْبِيْلِ الْمُصْحَفِ وَاَجْزَاءِ الْحَدِيْثِ وَقُبُوْرِ الصَّالِحِيْنَ مُلْخَصًا
অর্থাৎ কাবা শরীফের স্তম্ভগুলোর চুম্বন থেকে কতেক উলামায়ে কিরাম বুযুর্গাণে দ্বীন ও অন্যান্যদের পবিত্র বস্তুসমূহ চুম্বনের বৈধতা প্রমাণ করেন। ইমাম আহমদ ইব্নে হাম্বল (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে তার কাছে কেউ জিজ্ঞাসা করেছিল- হুযূর আলাইহিস সাললামের মিম্বর বা পবিত্র কবর মুবারকে চুমু দেয়াটা কেমন? তিনি এর উত্তরে বলেছিলেন, কোন ক্ষতি নেই। মক্কা শরীফের শাফেঈ উলামায়ে কিরামের অন্যতম হযরত ইবনে আবিস সিন্ফ ইয়ামানী থেকে বর্ণিত আছে- কুরআন করীম ও হাদীছ শরীফের পাতাসমূহ এবং বুযুর্গানে দ্বীনের কবরসমূহ চুমু দেয়া জায়েয।
প্রখ্যাত ‘তুশেখ’ গ্রন্থে আল্লামা জালাল উদ্দিন সয়ুতী (রহঃ) বলেছেন-

اِسْتَنْبَطَ بَعْضُ الْعَارِفِيْنَ مِنْ تَقُبِيْلِ الْحَجَرِ الْاَسْوَدِ تَقْبِيْلَ قُبُورِ الصَّالِحِيْنَ
হাজর আসওয়াদের চুম্বন থেকে কতেক আরেফীন বুযুর্গানে কিরামের মাযারে চুমু দেয়ার বৈধতা প্রমাণ করেছেন।
উপরোক্ত হাদীছে, মুহাদ্দিছীন ও উলামায়ে কিরামের ইবারত থেকে প্রমাণিত হলো যে বুযুর্গানে দ্বীনের হাত, পা, ওনাদের পোশাক, জুতা, চুল মোট কথা সব কিছু পবিত্র বস্তু; অনুরূপ কাবা শরীফ, কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফের পাতা সমূহের উপর চুম্বন জায়েয ও বরকতময়। এমনকি বুযুর্গানে দ্বীনের চুল, পোশাক ও অন্যান্য পবিত্র বস্তুর সম্মান করা এবং যুদ্ধকালীন ও অন্যান্য মুসিবতের সময় এগুলো থেকে সাহায্য লাভ করা কুরআন করীম থেকে প্রমাণিত আছে। কুরআন করীম ইরশাদ ফরমান-
وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ اِنَّ اَيَةَ مُلْكِهِ اَنْ يَّاْتِيَكُمُ التَّابُوْتُ فِيْهِ سَكِيْنَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَبَقِيَّةٌ مِّمَّا تَرَكَ اَلُ مُوْسَى وَاَلُ هَرُوْنَ تَحْمِلُهُ اَلْمَلَئِكَةُ
(বনী ইসরাঈলীদেরকে তাদের নবী বলেছেন, তালুতের বাদশাহীর নিদর্শন হচ্ছে তোমাদের কাছে সেই তাবুত (সিন্দুক) আসবে যেথায় তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে চিত্ত প্রশান্তি এবং হযরত মুসা ও হযরত হারুনের পবিত্র বস্তু সমূহ থাকবে; ফিরিশতাগণ এটা বহন করে আনবে।) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তফসীরে খাযেন, রূহুল বয়ান, মদারেক, জালালাইন ও অন্যান্য তফসীরে লিখা হয়েছে যে তাবুত হচ্ছে সীসা ও কাঠের তৈরী সিন্দুক, যেখানে নবীগণের ফটো (এ সব ফটো কোন মানুষের তৈরী ছিল না বরং কুদরতী ছিল) ওনাদের আবাসসমূহের নকশা, হযরত মুসা (আঃ) এর লাঠি, তাঁর কাপড়, জুতা এবং হযরত হারুন (আঃ) এর লাঠি, টুপি ইত্যাদি ছিল। বনী ইসরাঈলগণ যখন শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতো, তখন বরকতের জন্য ওটাকে সামনে রাখতো এবং যখন খোদার কাছে দুআ করতো, তখন ওটাকে সামনে রেখেই প্রার্থনা করতো। সুতরাং সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে বুযুর্গানে দ্বীনের পবিত্র বস্তু থেকে ফয়েয গ্রহণ এবং ওগুলোকে সম্মান করা নবীগণেরই অনুসৃত পথ। তফসীরে খাযেন, মদারেক, রূহুল বয়ান ও কবীরে বার পারার সূরা ইউসুফের আয়াত فَلَمَّا ذَهَبُوْا بِهِ এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, যখন হযরত ইয়াকুব (আঃ) হযরত ইউসুফ (আঃ) কে তার ভাইদের সাথে পাঠালেন, তখন ওরা গলায় হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর কোর্তাকে তাবিজ বানিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন, যাতে নিরাপদে থাকে। পৃথিবীর সমস্ত পানি আল্ললাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু যমযম কূপের পানির সম্মান এ জন্যেই করা হয় যে এটা হযরত ইসমাঈল (আঃ) এর পবিত্র পায়ের আঘাতে সৃষ্টি হয়েছে। মকামে ইব্রাহীমের পাথর ইব্রাহীম (আঃ) এর সানি্নধ্যের ফলে এর ইয্যত এতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে যে আল্ললাহ তাআলা ইরশাদ ফরমান- وَاتَّخِذُوْا مِنْ مَّقَامِ اِِبْرَاهِيْمَ مُصَلَّى (তোমরা ইব্রাহীম (আঃ) এর দাঁড়াবার স্থানকে নামাযের স্থানরূপে গ্রহণ কর।) অর্থাৎ সবার মস্তক ওই দিকে নত কর। মক্কা শরীফকে যখন হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে সম্পর্কিত করা হলো, তখন আলল্লাহ তাআলা এর নামের কসম করে ইরশাদ ফরমান-
لاَاُقْسِمُ بِهَذَا الْبَلَدِ وَاَنْتَ حِلٌّ بِهَذَا الْبَلَدِ
(শপথ করছি এ শহরের (মক্কা শরীফের) আর তুমি এ শহরের অধিবাসী) অন্যত্র বলেছেন وَهَذَا الْبَلَدِ الْاَمِيْنِ (এবং এ নিরাপদ শহরের (মক্কা) শপথ)। হযরত আয়ুব (আঃ) প্রসঙ্গে ইরশাদ ফরমান- اُرْكُضْ بِرِجْلِكَ هَذَاْ مُغْتَسَلٌ بَارِدٌ وَتُرَابٌ
(তুমি তোমার পা দ্বারা ভূমিকে আঘাত কর। এ-তো গোসলের সুশীতল পানি আর পানীয়।) অর্থাৎ হযরত আয়ুব (আঃ) এর পায়ের আঘাতে যে পানি বের হলো, সেটা রোগ নিরাময়ের সহায়ক হলো। এতে বোঝা গেল নবীদের পা ধোয়া পানি মর্যাদাবান ও রোগ নিরাময়ের সহায়ক। মিশ্কাত শরীফের শুরুতে কিতাবুল লেবাসে বর্ণিত আছে যে হযরত আস্মা বিনতে আবু বকর (রাঃ) এর কাছে হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আচকান শরীফ ছিল এবং মদীনা শরীফে কারো রোগ হলে, তিনি ওটা ধুয়ে তাকে সেই পানি পান করাতেন। সেই মিশ্কাত শরীফের কিতাবুল আত্-আমার اَلاشْرِبَةْ শীর্ষক অধ্যায়ে উলেল্লখিত আছে যে হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা হযরত কব্শা (রাঃ) এর বাসায় তশরীফ নিয়ে গেলেন এবং ওর মোশকে মুখ মুবারক লাগিয়ে পানিপান করেন। তিনি (কব্শা) মোশকের মুখটা বরকতের জন্য কেটে রেখে দিয়েছিলেন। একই মিশ্কাতের কিতাবুস সালাতের اَلْمَسَاجِدْ অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে যে একদল লোক হুযূর (সাল্ললাল্ললাহু আলাইহি ওয়া সাল্ললামের (হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আরয করেন- আমাদের দেশে ইহুদীদের একটি উপাসনালয় আছে; আমরা একে ভেঙ্গে মসজিদ করার ইচ্ছে পোষণ করি। তখন হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি থালায় পানি নিয়ে ওখানে কুলি করেন এবং বলেন ওই উপাসনালয়কে ভেঙ্গে ফেল। অতঃপর এ পানি ওখানে ছিটিয়ে দাও। তারপর মসজিদ তৈরী কর। এতে বোঝা গেল হুযূর (সালল্লালল্লাহু আলাইহি ওয়া সালল্লাম) পবিত্র থুথু কুফরীল অপবিত্রতা দূরীভূত করেন। হযরত খালিদ বিন ওলীদ (রাঃ) স্বীয় টুপীতে হুযূর (সালল্লালল্লাহু আলাইহি ওয়া সালল্লাম) এর একটি চুল মুবারক রাখতেন এবং যুদ্ধের সময় ওই টুপী নিশ্চয় তার মাথায় থাকতো। মিশ্কাত শরীফে السترةঅধ্যায়ে বর্ণিত আছে, হুযূর (সালল্লালল্লাহু আলাইহি ওয়া সালল্লাম) ওযু ফরমালেন, তখন হযরত বিলাল (রাঃ) হুযুরের ব্যবহৃত ওযুর পানি নিয়ে নিলেন। লোকেরা হযরত বিলালের দিকে দৌড়ে গেলেন এবং যিনি ওই পানিতে হাত ভিজাতে পারলেন, তিনি সে হাত নিজ মুখে মালিশ করে নিলেন। আর যিনি পেলেন না, তিনি অন্যজনের হাতের আদ্রতা নিজ মুখে বুলিয়ে নিলেন। এ সব হাদীছ থেকে প্রমাণিত হয় যে, বুযুর্গানে দ্বীনের ব্যবহৃত বস্তুসমূহ থেকে বরকত লাভ করা সাহাবা কিরামের সুন্নাত। এবার ফকীহগণের বিভিন্ন উক্তির প্রতি দৃষ্টিপাত করুন। ফাত্ওয়ায়ে আলমগীরী কিতাবুল কারাহিয়া مُلَاقَاتُ الْمُلُوْكِ শীর্ষক অধ্যায়ে বর্ণিত আছে-
اِنْ قَبَّلَ يَدَ عَالِمِ اَوْ سُلْطَانٍ عَّادِلٍ بِعِلْمِهِ وَعَدْلِهِ لَا بَاسَ بِهِ
যদি আলিম বা ন্যায়পরায়ণ বাদশাহের হাতে চুমু দেয়া হয় ওদের ইলম ও ন্যায়পরায়ণতার কারণে, তাহলে এতে কোন ক্ষতি নেই। একই গ্রন্থে কিতাবুল কারাহিয়াতে زِيَارَةُ الْقُبُوْرِ অধ্যায়ে উল্লেখিত আছে-
وَلَاْبَاسَ بِتَقُبِيْلِ قَبْرِ وَالِدَيْهِ كَذَا فِى الْغَرَائِبِ
নিজের মা-বাপের কবরে চুমু দেয়ায় কোন ক্ষতি নেই যেমন গরায়েবে বর্ণিত হয়েছে। সেই আলমগীরীর কিতাবুল কারাহিয়াতের مَلَاقَاتِ الْمُلُوْكِ অধ্যায়ে আরও লিপিবদ্ধ আছে-

اِنَّ التَّقْبِيْلَ عَلَى خَمْسَةِ اَوْجَهٍ قُبَلَةُ الرَّحْمَةِ كَقُبْلَةِ الْوَالِدِ وَلَدَهُ وَقُبْلَةُ التَّحِيَّةِ كَقُبْلَةِ الْمُؤْمِنِيْنَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ وَقُبْلَةُ الشَّفَقَةَ كَقُبْلَةِ الْوَلَدِ لِوَالِدَيْهِ وَقُبْلَةُ الْمَوَدَّةِ كَقُبْلَةِ الرَّجُلِ اَخَاهُ وَقُبْلَةُ الشَّهْوَةِ كَقُبْلَةِ الرَّجُلِ اِمْرَأَتَهُ وَزَادَ بَعْضُهُمْ قُبْلَةَ الدِّيَانَةِ وَهِىَ قُبْلَةُ الْحَجْرِ الْاَسْوَدِ
চুম্বন পাঁচ প্রকার-
আশীর্বাদসূচক চুম্বন, যেমন বাবা ছেলেকে চুমু দেয়; সাক্ষাৎকারের চুম্বন, যেমন কতেক মুসলমান কতেক মুসলমানকে চুমু দেয়; স্নেহের চুম্বন, যেমন ছেলে মা-বাবাকে দেয়; বন্ধুত্বের চুম্বন, যেমন এক বন্ধু অপর বন্ধুকে চুমু দেয়; কামভাবের চুম্বন, যেমন স্বামী স্ত্রীকে দেয়। কেউ কেউ ধার্মিকতার চুম্বন অর্থাৎ হাজরে আসওয়াদের চুম্বনকে এর সাথে যোগ করেছেন।
দুররুল মুখতারের পঞ্চম খন্ড কিতাবুল কারাহিয়াতের শেষ অধ্যায় الاستبراء এর মুসাফাহা পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে وَلَا بَاسَ بِتَقْبِيْلِ يَدِا الْعَالِمِ وَالسُّلْطَنِ الْعَادِلِ আলিম ও ন্যায়পরায়ণ বাদশাহের হাতে চুমু দেয়ায় কোন ক্ষতি নেই। এ জায়গায় ফাত্ওয়ায়ে শামীতে হাকিমের একটি হাদীছ উদ্ধৃত করেছে, যার শেষাংশে বর্ণিত আছে-

قَال ثُمَّ اَذِنَ لَه‘ فَقَبَّلَ رَأْسَه‘ وَرِجْلَيْهِ وَقَالَ لَوْ كُانْتُ اَمِرًا اَحَدًا اَنْ تَسْجُدَ لَاحَدٍ لَاَمَرْتُ الْمَرْ أَةَ اَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا وَقَالَ صَحِيْحُ الْاَسْنَادِ
হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই ব্যক্তিকে অনুমতি দিয়েছেন। তাই সে তাঁর মস্তক ও পা মুবারক চুমু দিলেন। অতঃপর হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ ফরমান যদি আমি কাউকে সিজ্দার হুকুম দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে হুকুম দিতাম স্বামীকে সিজ্দা করতে। দুররুল মুখতারে সেই জায়গায় আলমগীরীর মত পাঁচ প্রকার চুম্বনের বর্ণনা দিয়েছেন। তবে নিম্ন লিখিত বক্তব্যটুকু বর্ধিত করেছেন-
قُبْلَةُ الدِّيَانَةِ لِلْحَجْرِ الْاَسْوَدِ وَتَقْبِيْلُ عُتْبَةِ الْكَعْبَةِ وَتَقْبِيْلُ الْمُصْحَفِ قِيْلَ بِدْعَةِ لَكِنْ رُوِىَ عَنْ عُمَرَ اَنَّه‘ كَانَ يَاْخُذُ الْمُصُحَفِ كُلَّ غَدَاةٍ وَّيْقَبِّلُهْ وَاَمَّا تَقْبِيْلُ الْخَبْزِ فَجَوَّزَ الشَّافِعِيَّةُ اَنَّه‘ بِدْعَةٌ مُّبَاحَةٌ وَّقِيْلَ حَسَنَةٌ مُّلَخَّصًا
অর্থাৎ দ্বীনদারীর এক প্রকার চুম্বন রয়েছে, সেটা হচ্ছে হাজর আসওয়াদে চুম্বন ও কাবা শরীফের চৌকাঠে চুম্বন। কুরআন পাককে চুমু দেয়াটা কতেক লোক বিদ্আত বলেছেন। কিন্তু হযরত উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি প্রতিদিন সকালে কুরআনে পাক হাতে নিয়ে চুমু খেতেন এবং রুটি চুমু দিয়াকে শাফেঈ মাযাহাবের লোকেরা জায়েয বলেছেন। কেননা এটা বিদ্আতে জায়েয। অনেকে এটাকে বিদ্আতে হাসানা বলেছেন। অধিকন্তু আল্ললাহ ইরশাদ ফরমান-
وَاتَّخِذُوا مِنْ مَّقَامِ اِبْرَاهِيْمَ مُصَلَّى
(তোমরা মকামে ইব্রাহীমকে নামাযের স্থানরূপে গ্রহণ কর) মকামে ইব্রাহীম ওই পাথরকে বলে যেটার উপর দাঁড়িয়ে হযরত খলীল (আঃ) কাবা শরীফ তৈরী করেছেন। তার পবিত্র কদমের বরকতে সেই পাথরের এ মর্যাদা লাভ হলো- সারা দুনিয়ার হাজীরা ওই দিকে মাথানত করে। এ সব ইবারত থেকে প্রতীয়মান হলো- চুম্বন কয়েক প্রকারের আছে এবং পবিত্র বস্তুকে চুমু দেয়াটা দ্বীনদারীর আলামত। এ পর্যন্ত সমর্থনকারীদের উক্তি সমূহ উলল্লেখিত হলো। এবার বিরোধিতাকারীদের নেতা জনাব রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী কি বলেন, দেখুন। তিনি তার রচিত ফাত্ওয়ায়ে রশীদিয়ার প্রথম খন্ড كتات الخطر والاباحة এর ৫৪ পৃষ্ঠায় বলেছেন- দ্বীনদার ব্যক্তির সম্মানে দাঁড়ানো জায়েয এবং এ রকম ব্যক্তির পায়ে চুমু দেয়াও জায়েয, যা হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত।” ইতি রশীদ আহমদ। এ প্রসঙ্গে আরও অনেক হাদীছ ও ফকীহ ইবারত পেশ করা যায়। কিন্তু এতটুকুই যথেষ্ট মনে করি। -সুত্রঃ জা’আল হক ২য় খন্ড-
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোকুলে বাড়িছে সে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪

গোকুলে বাড়িছে সে

পরিস্থিতি যতই ঘোলাটে হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে- ক্ষমতার অন্দরমহলে অস্বস্তি বাড়ছে। একের পর এক বক্তব্য, ভিডিওবার্তা, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেখে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে- এত অস্থিরতার কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: ফেলে আসা এক সড়কের কথা

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:১৫



ফেলে আসা এক সড়কের কথা মনে পড়ে। হলুদ নিয়ন বাতির ম্লানাভ সন্ধ্যেবেলা। পলেস্তারা খসা বয়োজীর্ণ দেয়াল। দুয়েকটি রিক্সা। সিটের ’পর পা তুলে আঁটোসাটো ঝিমানো চালক। খেলা শেষে ঘরে ফেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিদারাবাদ থেকে মাছুয়াপাড়া

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

আপনার সবচেয়ে অপছন্দের খাবার হচ্ছে শুকর। শুধু অপছন্দের না, এটা আপনি ঘৃণাও করেন। কিন্তু আপনার পাশে বসে সবাই শুকর খায়। যে পাতিলে শুকর রান্না করা হয়, সেই পাতিলেই আপনার জন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×