
শাহবাগ থেকে বলছি।
প্রতিবন্ধী, আদিবাসী এবং মুক্তিযোদ্ধা দের যৌক্তিক কোটা সংস্কার করা হোক। কোটা বহাল কোন সমাধান নয় লাগবে সংস্কার। এই সংস্কার ব্যাপারটা না বুঝলে বর্তমান আন্দোলনকারীদের সাথে জনগণের দূরত্ব আরো বাড়বে।
আজকের এই অবস্থার জন্য দায়ী কারা? কোটা সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন হয়েছে।মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননাও যাতে না হয় সেটাও চাওয়া হয়েছিলো। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে হয়েছে সময় ঘুরানো,মামলা, হামলা আরো অনেক কিছু। পাওয়া গিয়েছিলো কোটা আন্দোলনকারীর রহস্যজনক মৃতদেহ।
এত কিছুর শেষে কোটাই বাদ কেন? আবার যাদের দাবী আছে তাদেরকে আন্দোলন করতেও বলা হলো।
দীর্ঘসময় ধরেই কোটা এবং এছাড়া বিভিন্ন নোংরা রাজনীতি দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাধারণের বিপক্ষে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা এবং ব্যবহার দুইই করে আসছে সরকার। সরকার এবং দালালেরা একটা মিথ ছড়িয়ে যাচ্ছে স্বাধীনতার পক্ষের সরকার একমাত্র বর্তমানরাই অথচ এর কোন ভিত্তিই নেই। আর এই কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারির পরে এই অবস্থা এখন সরাসরি রাজপথে।
দিনশেষে বর্তমানে কোটা বহালের যে দাবী এটা কি আন্দোলন? আন্দোলনের সংজ্ঞায় পড়ে? গুটি কয়েক মানুষ শাহবাগ ব্লক করছে। অথচ এখন সরকার বা পুলিশ কেউই জনদুর্ভোগ নিয়ে মাথা ব্যাথা করছে না। প্রশাসনিক বাধা ছাড়া কোন আন্দোলন দেখা যায় কখনো? যায় না। একমাত্র শাহবাগে রাজাকারের ফাঁসির দাবী ছাড়া? কিন্তু আন্দোলনের ব্যাখ্যায় সেটাও আন্দোলন ছিলো কিনা নাকি সরকারের প্রটেকশনের একটা সেট ছিলো সেটাও বুঝার দাবী রাখে।
কোটা বহালের দাবীতে বর্তমান আন্দোলন এর একটা অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে এরা সংস্কারপন্থী দের মত সহনশীল না।এরা আগের মতই কোটা বহাল চাচ্ছে। অথচ সংস্কারপন্থীরা তাদের কোটা বাতিল চায় নি। এরা শুরুতেই রাস্তায় ব্লক করে আন্দোলন করছে বিনা বাধায় তাও।
হয়তো উপর থেকে যেমন নির্দেশ দিয়েছে তেমন নির্দেশ মানতেই এরা আগের কোটাই বহাল চাচ্ছে,অল্প কিছু মানুষ নিয়ে রাস্তা ব্লক করছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে রাজনীতি বন্ধ হোক, বন্ধ হোক তাদের অসহায়ত্বের সব কারণ।
আরেকটা ব্যাপারও ক্লিয়ার হওয়া দরকার। যারা আর্থিক ভাবে অনেক সচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা তাদের কি কোটার খুব বেশি প্রয়োজন?
সমস্যা সমাধানে আন্তরিক না হয়ে সরকার নিজ উদ্যোগে আরো জটিল করছে পরিস্থিতি।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০১৮ ভোর ৪:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



