somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জহির আববাস কাদেরী
বর্তমানে পদ্মা অয়েল কোম্পানীতে কর্মরত আছি । কিন্তু ব্যবসায়ীক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ইচ্ছা ও প্রচেষ্টা রয়েছে।উদ্দেগ্যতা জন্য আমি তৈরি কিন্তু ব্যবসায় কেমন জানি গোছানো না ! nnসামাজিক ভাবে সংগঠনিক ভাবে মানুষের কাছে পৌছানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছি। রাজনৈতিকভাবে স

"The Man only hand"

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
"The Man only hand"


এই গল্পটি ১৯৩৮ সালের। কারোলী টাকাস নামের একজন ব্যক্তি ,যিনি ছিলেন একজন হাঙ্গেরি আর্মি । তিনি ছিলেন তার দেশের সবচেয়ে ভাল পিস্তল সুটার। যত ন্যাশানাল চ্যাম্পিয়ন প্রতিযোগীতা ছিল -সবই ছিল তার দখলে তার দেশের সকলেই ধরে নিয়েছিল ১৯৪০ সালের অলেম্পিক পদক তার হাতেই আসবে। ১৯৪০ সালের স্বর্ণ পদক দাবিদার একমাত্র কারোলী এবং সেই জিতবে।

তিনি অনেক বছর ধরে এর প্রশিক্ষন ও অনুশীলন করছিলেন। তার একটায় স্বপ্ন ছিল তার এই হাতটি দুনিয়ার সেরা সুটিং হাত হবে এবং তার জীবনের মূল লক্ষ্যই ছিল এই হাতকে জয় করা , দুনিয়াকে জয় করা।

১৯৩৮ সালের হাঙ্গেরি আর্মিদের অনুশীলন ক্যাম্প চলছিল। তিনি আর্মিতে থাকাই ,তার জীবনের একটি দুর্ঘটনায় ঘটে যায়। যে হাত দিয়ে সে অলেম্পিক স্বর্ণ পদক জিতার কথা সে হাতের মধ্যে হ্যান্ড গ্রেন্ডে তার হাতটি কে তার শরির হতে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

তার যে স্বপ্ন ও লক্ষ্য ছিল তার সবই শেষ !!!
এই জীবন এ দুটি রাস্তা খোলা ছিল, এক- কান্না ও মনকষ্ট দিয়ে বাকী জীবনটা শেষ করা বা কোথাও দূরে চলে যাওয়া। অথবা তার যে স্বপ্ন ছিল তার লক্ষ্য ধরে রাখা ।

তিনি তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে যেটি চলে গেছে সেটিকে নিয়ে চিন্তিত ছিল না ,ছিল ঐটি নিয়ে ,যেটা তার কাছে ছিল। সেটি ছিল তার অন্য বাম হাতটি । এমন একটি হাত যেটি দিয়ে সে লিখতেও পারে না।

দুর্ঘটনা জন্য প্রায় ০১ মাস হাসপাতালে থাকতে হয়।ঠিক ০১ মাস পরে তার বামটি হাতটি দিয়ে আবার অনুশীলন শুরু করে। অনুশীলন ঠিক ০১ বছর পর ১৯৩৯ সালে সে আবার ফিরে আসে । ১৯৩৯ সালে ন্যাশাল সুটিং প্রতিযোগীতা চলছিল এবং সেখানে হাঙ্গেরি অন্য সুটারও উপস্থিত ছিল । উনাকে দেখা মাত্র অন্য সুটারা উনাকে দেখে অভিনন্দন যানতে লাগলেন । সবাই কারোলী দেখে বলতে লাগল এইটাই হল আগ্রহ,এত কিছু হবার পরও তুমি এখানে এসেছো আমাদের দেখার জন্য ,আমাদের মনোবল বাড়ানোর জন্য।

কেউ জানতে না যে সে ০১ বছর ধরে সুটিং অনুশীলন করছে তার বাম হাত দিয়ে ।
হাঙ্গেরি অন্যদের সে জবাব দেয় ,আমি তোমাদের মনোবল বাড়াতে আসি নি ,আমি এসেছি তোমাদের সাথে প্রতিযোগীতা করতে। তোমরা প্রস্তুত থাক আমাকে মোকাবেলা করা জন্য।

প্রতিযোগীতা শুরু হল এবং বাকী যত সুটিং প্রতিযোগী ছিল তারা প্রতিযোগীতা করতে ছিল তার বেষ্ট হাত দিয়ে আর কারেলী প্রতিযোগীতা করতে ছিল তার only hand দিয়ে ।

কে জিতল - "The Man only hand" - কারোলী টাকাস

কিন্তু তার লক্ষ্য এখানে শেষ হয়ে যায়নি , তার লক্ষ্য ছিল তার হাতকে দুনিয়ার সেরা সুটিং হাতের তৈরি করা।

তার জীবনের পুরো লক্ষ্য ছিল -১৯৪০ অলেম্পিক ।

-১৯৪০ অলেম্পিক শুরু করতে শেষ হয়ে গেল বিশ্ব যুদ্ধের কারণে । তার লক্ষ্যে ছিল এখন ১৯৪৪ সালের অলেম্পিক .১৯৪৪ সালে যে অলেম্পিক হওয়ার কথা সেটা বন্ধ ঘোষণা করা হয় বিশ্ব যুদ্ধের কারণে। তার লক্ষ্যের আবার পরিবর্তন করে রাখতে হল ১৯৪৮ সালে। ১৯৩৮ সালে তার বয়স ছিল ২৮ বছর ,১৯৪৮ সালে তার বয়স ছিল ৩৮ বছর । খেলায় তরুন প্রতিযোগীদের সাথে প্রতিযোগীতা করা কঠিন কাজ ,কিন্তু কারোলী কাছে অসম্ভপ বলে কিছু না।

১৯৪৮ সালে সে অলেম্পিক অংশগ্রহন করল যেখানে দুনিয়া সে হাতের সেরা প্রতিযোগীরা উপস্থিত ছিল । কে জিতল ????
"The Man only hand"

কিন্তু তিনি ওখানে আটকে থাকলেন না। ১৯৫২ সালে অলেম্পিক আবারও প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করল ,এবারও কে জিতল ???
"The Man only hand"

এই দুনিয়ার অলেম্পিক দুই বার স্বর্ণ পদক এখনও কে জিতে পারেনি।

আমাদের মত হেরা যাওয়া লোক গুলোর কাছে গেল জানাবে যাবে ,আমরা এই এই কারণে কিছু করতে পারি , পরিবার , সমাজ ,মানুষ এই- এই কারণে আমাদের কিছু করা ছিল না।

অন্যদিকে সারা দুনিয়া জয়লাভ মানুষ গুলোর কাছে গেলে -দেখা যাবে তাদের এই জয় করার মত শুধু একটি মাত্র কারণ ছিল -তা ছিল নিদিষ্ট লক্ষ্য ।

তাই এগিয়া চলুক আমাদের পথচলা ।

...।।

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:৩২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×