কলকাতায় মওলানা বশারত আলীর তত্ত্বাবধানে লেখা-পড়া করার সময় শরীয়তুল্লাহ একবার মুর্শিদাবাদ গেলেন। সেখানে থাকেন চাচা মুফতী মুহাম্মদ আশিক।
চাচার সাথে সাক্ষাৎ করলেন শরীয়তুল্লাহ।
এরপর থেকে তিনি প্রায়ই যেতেন চাচার কাছে।
হৃদয়ের টানে।
চাচা ছিলেন অত্যন্ত কর্মব্যস্ত মানুষ।
এজন্য বহুদিন হলো আপন মাতৃভূমিতে আসার সুযোগ পাননি তিনি।
এর মধ্যে শরীয়তুল্লাহর ওপর দিয়েও গড়িয়ে গেছে অনেকটা সময়।
তিনিও অনেকদিন যাবৎ বাড়ি ছাড়া।
যোগাযোগ নেই গ্রামের সাথে।
গ্রামের মানুষ আর অবারিত সবুজের সাথে।
গ্রামে ফেরার জন্যে তাই মনটা তাঁর কেবলই আনচান করে ওঠে।
ব্যাকুল হয়ে ওঠে তাঁর কিশোর হৃদয়।
চাচা মুফতী আশিক একদিন শরীয়তুল্লাহকে বললেন, চলো আমরা বাড়ি থেকে একবার বেড়িয়ে আসি।
কথাটি শুনার সাথে সাথে শরীয়তুল্লাহর চোখে আপন বাস্তু ভিটার ছবিটা ছবির মতো ভেসে উঠলো।
তাঁর হৃদয়টা দুলে উঠলো মুহূর্তেই।
তিনি রাজি হয়ে গেলেন চাচার কথায়।
মুর্শিদাবাদ থেকে রওয়ানা হলেন তাঁরা।
নৌকাযোগে আসছেন নিজ গ্রাম ফরিদপুরের শামাইলে।
সাথে আছে চাচা ও চাচী।
নৌকা চলছে গঙ্গার বুক দিয়ে।
পানি কেটে কেটে।
শাঁ শাঁ গতিতে।
প্রমত্তা গঙ্গা!
ভয়ঙ্কর তার স্রোত!
তার ওপর আকাশে মেঘ এবং ঝড়ের পূর্বাভাস।
ওলোট পালোট বাতাস।
ঝড়ের ইঙ্গিত!
তবুও নৌকা চলছে প্রবল গতিতে।
হঠাৎ শুরু হয়ে গেলো গঙ্গার বুকে ঝড়ের দাপাদাপি!
সে কি ঝড়!
ঝড়ের কবলে পড়ে মুহূর্তেই যাত্রী বোঝাই নৌকাটি তলিয়ে গেলো গঙ্গার বুকে!
আর তারই সাথে গঙ্গার প্রচণ্ড স্রোতের তোড়ে চিরতরে হারিয়ে গেলেন চাচীজান। হারিয়ে গেলেন চাচাও।
হারিয়ে গেলেন একজন বিখ্যাত আলেমে দীন মুফতী আশিক।
গঙ্গা তখনো ফুঁসছে ক্রমাগত।
গঙ্গার সেই ভয়ালো ঝড় আর ঢেউকে উপেক্ষা করে আল্লাহর অসীম রহমতে সাঁতরিয়ে কূলে উঠে দাঁড়ালেন শরীয়তুল্লাহ!
অলৌকিক ব্যাপার বটে!
প্রাণে বেঁচে গেলেন তিনি।
মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গিয়ে অশেষ শুকরিয়া জানালেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে।
কূলে উঠে তিনি গঙ্গার দিকে তাকিয়ে হতাশ হলেন।
কেঁপে উঠলো তাঁর বুক!
শূনতায় ভরে গেলো তাঁর কোমল হৃদয়।
কূলে দাঁড়িয়ে তিনি গঙ্গার বুকে কোথাও খুঁজে পেলেন না চাচা, চাচী এবং সেই নৌকাটিকে!
ফরিদপুর আর আসা হলো না শরীয়তুল্লাহর।
দেখা হলো না আর প্রাণ-প্রিয় মাতৃভূমি শামাইল।
এক বুক বেদনা আর স্বজন হারানো কষ্ট নিয়ে তিনি আবারো ফিরে গেলেন কলকাতায়।
ফিরে গেলেন প্রিয় শিক্ষক মওলানা বশারত আলীর কাছে।
***** আগামী পর্ব - মক্কার পথে
***** গত পর্ব - কলকাতা গমন
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


