আপন গ্রামের মানুষকে সত্যের পথে ডেকে যখন তাদের কোনো সাড়া পেলেন না, তখন কিছুটা হতাশ হয়ে আবারো মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করলেন হাজী শরীয়তুল্লাহ।
বুকে তাঁর ব্যর্থতার যন্ত্রণা!
কষ্টের তুমুল তুফান!
কোনো যানবাহনে নয়।
এবার চললেন তিনি সম্পূর্ণ পায়ে হেঁটে।
মক্কায় যাবার পথে প্রথমে তিনি বাগদাদে গেলেন।
বাগদাদে ঘুমিয়ে আছেন বহু শহীদ, গাজী, পীর-দরবেশ, আলেম-উলামা এবং অজস্র নেক ব্যক্তি।
হাজী শরীয়তুল্লাহ সেই সকল পবিত্র কবর যিয়ারত করেন। যিয়ারত করেন যারা দীনের জন্যে, ইসলামের জন্যে নিজেদের জীবনকে কুরবানী করে ঘুমিয়ে পড়েছেন গহীন কবরে।
এই সকল কবরের মধ্যে আছে দয়ার নবীজীর (সা) কলিজার টুকরা, নয়নের মণি নাতি -হযরত হুসাইনের (রা) পবিত্র কবরও।
দীনের জন্যে আত্মত্যাগের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ইমাম হোসাইনের (রা) স্মৃতি-বিজড়িত কারবালা প্রান্তরে ইমামের শাহাদতগাহ, তাঁর কবর এবং আবদুল কাদের জিলানীর (রহ) কবরও যিয়ারত করেন হাজী শরীয়তুল্লাহ।
তিনি ঘুরে ঘুরে বিখ্যাত সকল ব্যক্তির কবর যিয়ারত করলেন।
এরপর তিনি বাইতুল মাকদিস ও মিসর সফর শেষে পৌঁছে যান পবিত্র মক্কায়।
মক্কায় পৌঁছে হাজী শরীয়তুল্লাহ পুনরায় খোঁজ করেন তাঁর প্রিয় শিক্ষক মওলানা তাহের আলীকে।
তাঁর সাথে সাক্ষাতের পর হাজী শরীয়তুল্লাহ আবারো হজ পালন করেন।
তারপর রওয়ানা হলেন মদীনার পথে।
হাজী শরীয়তুল্লাহ এবার মাত্র দু’বছর থাকেন মক্কায়ে।
সেখানে থাকাকালীন সময়ে তিনি গভীরভাবে ইসলামের খুঁটিনাটি বিষয়সমূহ ছাড়াও আধ্যাত্মিক সাধনায় নিজেকে ব্যস্ত রাখেন।
তিনি মদীনায় গিয়ে নবীজীর (সা) কবর মুবারক যিয়ারত করেন।
রাসূলের (সা) পবিত্র রওজা মুবারকে দাঁড়িয়ে হাজী শরীয়তুল্লাহ স্বদেশের মুসলমানদের বিপর্যয়ের কথা স্মরণ করে তাদের মুক্তি ও হিদায়েতের জন্যে বিশেষভাবে দোয়াও করলেন।
সেখানে অবস্থানকালে তিনি একে একে তিনবার প্রাণ-প্রিয় রাসূলুল্লাহকে (সা) স্বপ্নে দেখেন।
রাসূল (সা) প্রতিবারই তাঁকে দেশে ফিরে ইসলাম প্রচারের নির্দেশ দেন।
এই আশ্চর্যজনক স্বপ্নের কথা হাজী শরীয়তুল্লাহ খুলে বললেন তাঁর মক্কার শিক্ষক মওলানা তাহের আলীকে।
বিজ্ঞ আলেমে দীন মাওলানা তাহের আলী সকল কথা শুনে হাজী শরীয়তুল্লাহকে একজন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি বলে অভিহিত করলেন।
তারপর তাঁকে বললেন, স্বদেশে ফিরে ইসলাম প্রচারের কাজে
আত্মনিয়োগ করতে।
দু’বছর মক্কা ও মদীনা সফর করার পর হাজী শরীয়তুল্লাহ আবারো রওয়ানা দিলেন স্বদেশের পথে।
সালটি ছিলো আঠারো শো বিশ।
আল্লাহর কি অপার মহিমা!
হাজী শরীয়তুল্লাহ এবার দেশে ফিরে দেখেন অন্য অবস্থা!
ভিন্ন এক পরিবেশ!
তিনি দেখেন চারদিকে জেগে উঠেছে মজলুম জনতা।
আন্দোলন এবং সংগ্রামের ঝড় উঠেছে হিন্দু জমিদার এবং ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে।
এসব দেখে তিনি অত্যন্ত খুশী হলেন। আর তাঁর দোয়া কবুল হবার জন্য শুকরিয়া জানালেন মহান রাব্বুল আলামীনকে।
হাজী শরীয়তুল্লাহর বুকে আরও প্রচণ্ড বেগে শুরু হলো সেই ঝড়ের তোলপাড়!
***** আগামী পর্ব - বারবার লড়ে যায় বীর
***** গত পর্ব - স্বদেশের দিকে
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


