চারদিকে তাকিয়ে দেখলেন অবাক বিস্ময়ে!
কেঁপে উঠলো তাঁর দরদ ভরা বুক!
দেখলেন হিন্দু-মুসলমানের আচার আচরণ।
তাদের এই আচার আচরণের মধ্যে খুঁজে পেলেন না হিন্দু-মুসলমানের মৌলিক পার্থক্যকারী ইসলামের সেই মহান আদর্শ এবং শিক্ষা।
ইসলামের চর্চা নেই ব্যক্তি কিংবা সমাজ জীবনের কোথাও।
মুসলমানদের কাছে তিনি শুনলেন তাদের সকল দুর্ভাগ্যের কথা।
শুনলেন ইংরেজ এবং হিন্দুদের অত্যাচারের কথা।
নিজের চোখেও দেখলেন অনেক কিছু।
এসব দেখে আর শুনে ব্যথিত হলেন হাজী শরীয়তুল্লাহ!
ভাগ্যহত মুসলমানদেরকে অন্ধকারের কালো গুহা থেকে টেনে তুলবার জন্যে তিনি সংকল্পবদ্ধ হলেন কঠিনভাবে।
আর তখনই হিন্দু ও ইংরেজদের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে তাঁর সাহসী কণ্ঠ!
শুরু হলো তাঁর দেশ, জাতি ও ইসলামী আদর্শ-ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের
দুর্বার সংগ্রাম!
সংস্কারের এক কঠিন সংগ্রাম!
হাজী শরীয়তুল্লাহর এই সংগ্রামের নাম, এই আন্দোলনের নাম -‘ফরায়েজী আন্দোলন।’
‘ফরজ’ থেকে ‘ফরায়েজী’। ফরায়েজ শব্দটি বহুবচন।
ফরিজাহ শব্দে অর্থ দাঁড়ায় আল্লাহর নির্দেশিত অবশ্য কর্তব্যসমূহ। যারা এই কর্তব্যসমূহ পালনে অংগীকারাবদ্ধ তাদেরকেই ‘ফরায়েজী’ বলা হয়।
হাজী শরীয়তুল্লাহ সকল আরাম আয়েশ ত্যাগ করে গ্রাম থেকে গ্রামে, শহর থেকে শহরে ঘুরে বেড়ান।
এভাবে ঘুরে ঘুরে তিনি সংগ্রহ করেন আপন সংগঠনের জন্যে নিবেদিত কর্মী।
সক্রিয় সদস্য।
হাজী শরীয়তুল্লাহ এই আন্দোলনের আগুনকে ছড়িয়ে দেন চারদিকে।
যারা ইসলামের ফরজসমূহ পালন করতে রাজি তারাই কেবল ফরায়েজী আন্দোলনের সদস্য হতে পারতো।
খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি বিপুল সংখ্যক মুসলমানকে এই আন্দোলনের সদস্য করে তুলেছিলেন।
হাজী শরীয়তুল্লাহ তাঁর সদস্য এবং সাধারণ মুসলমানকে ধর্মের সাথে কর্মের মিল রাখার জন্যে কঠোরভাবে নির্দেশ দিলেন।
আল্লাহর হুকুম-আহকাম মেনে চলার জন্যে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানালেন।
আহ্বান জানালেন শিরক, কুফরী ও বিদআত থেকে দূরে থাকতে।
ইসলামী সভ্যতা-সংস্কৃতির আলোকে নিজেদের জীবনযাত্রা পরিচালনা ও আচার অনুষ্ঠান পালন করার জন্যে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করলেন।
হাজী শরীয়তুল্লাহর আন্দোলন সম্পর্কে জেমস টেইলার বলেন যে, “কুরআনকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করাই ছিলো ফরায়েজী আন্দোলনের উদ্দেশ্য।
কুরআন যেসব অনুষ্ঠানাদি সমর্থন করে না তা সবই ছিলো বর্জনীয়।
হিন্দুদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে হাজী শরীয়তুল্লাহ নিজেই গরু কুরবানী দিলেন।
সবাই অবাক-বিস্ময়ে দেখলো হাজী শরীয়তুল্লাহর সাহস।
তাঁর এই সাহসে অন্য মুসলমানও উদ্বুদ্ধ হলো।
এরপর তিনি অন্যান্য মুসলমানকেও গরু কুরবানী দিতে বললেন।
দাড়ির ওপর ট্যাক্স দিতেও মুসলমানদেরকে কঠোরভাবে নিষেধ করলেন।
আর শক্তভাবে নিষেধ করলেন হিন্দুদের পূজা পার্বণে চাঁদা বা পশু পাখি দিতে।
হিন্দু জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি আরো বেশী সোচ্চার হলেন।
চারদিকে শুরু হয়ে গেলো তুমুল আন্দোলন!
***** আগামী পর্ব - ফরায়েজী আন্দোলন-৩
***** গত পর্ব - ফরায়েজী আন্দোলন -১
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৯:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


