হাজী শরীয়তুল্লাহর এই সাহসী আন্দোলন ছিলো সত্যের পক্ষে আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে।
হাজী শরীয়তুল্লাহর এই সাহসী কর্ম তৎপরতায় ক্ষেপে গেলো অত্যাচারী হিন্দুরা।
ক্ষেপে গেলো হিন্দু জমিদার এবং ইংরেজরাও।
চারদিকে শুরু হয়ে গেলো সংঘর্ষ!
সংঘর্ষ হলো তাদের সাথে বহু জায়গায়!
কিন্তু পিছু হটলো না ফরায়েজীর কর্মীরা!
যতোই বাধা আসতে থাকলো, ততোই বিদ্যুৎগতিতে ছড়িয়ে পড়তে থাকলো ফরায়েজী আন্দোলনের তীব্র আগুন।
শত বাধার মুখেও হাজী শরীয়তুল্লাহ ছিলেন অন্য এক পর্বত!
আর তাঁর সাথীরাও ছিলো তেমনি সত্যের পথের এক একজন সিংহপুরুষ!
হাজী শরীয়তুল্লাহ ছিলেন হানাফী মাজহাবের অনুসারী এবং সেই সাথে বাংলাভাষী।
পারিবারিকভাবে ক্ষুদ্র তালুকদার হলেও শেষ পর্যন্ত সেটাও ছিল না।
তিনি যখন হজ পালন করে বাড়ি ফেরেন, তখন তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা তেমন ভাল ছিল না।
অন্যদিকে মুসলমান সমাজের উঁচু দরের বা আশরাফ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন না।
তাতে কি?
তবুও মধ্যম গড়নের, দীর্ঘ দাড়ি সম্বলিত হাজী শরীয়তুল্লাহ ছিলেন বাঙালি মুসলমানের জন্য প্রকৃত ইসলামী সমাজ সংস্কারের একজন রূপকার।
তাই সাধারণ মানুষের মাঝে তাঁর মিশে যাওয়া খুব অসুবিধা হয়নি। বরং সাধারণ মানুষ তাঁর বুকে ঠাঁই পেয়েছে। পেয়েছে একজন আপন লোক।
তার ওপর তিনি ইসলামের পুণ্যভূমি মক্কায় দীর্ঘদিন অবস্থান করে অনেক কিছু শিখেছেন। তাঁর সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন চরিত্র, সাদামাঠা জীবন, অমায়িক ব্যবহার, আন্তরিক প্রয়াস, সবাইকে সমান মর্যাদা প্রদানের অঙ্গীকার -যে কাউকে মোহিত ও মুগ্ধ করার জন্য ছিল যথেষ্ট।
এমন একজন অনুকরণ ও অনুসরণযোগ্য নেতাই তখনকার পরিবেশে প্রয়োজন ছিল অনেক বেশী।
সাধারণ মানুষের সমস্যা তিনি বুঝতেন এবং কিভাবে তার সমাধান করা যায়, তাও জানা ছিল তাঁর। ফলে তিনি সহজেই একটি গতিশীল আন্দোলন সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন।
একটি চমক দিয়েই ক্ষান্ত হওয়ার লোক ছিলেন না হাজী শরীয়তুল্লাহ।
তিনি ধীরে ধীরে, অথচ স্থায়ী একটি সাংগঠনিক কাঠামো গড়ার দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন।
ফলে সেই সময়ে অনেক আন্দোলন সৃষ্টি হলেও ফরায়েজী আন্দোলনই হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে কার্যকর, ফলপ্রসূ এবং স্থায়ী।
ইংরেজ সিভিলিয়ন জেমস টেলর লিখেছেন,
“১৮২৮ সালের পর থেকে ফরায়েজী আন্দোলন ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে।”
অন্যদিকে জেমস ওয়াইজের মতে,
“শিরক ও বিদআত থেকে স্থানীয় মুসলমানদের রক্ষা করার ক্ষেত্রে হাজী শরীয়তুল্লাহই পূর্ববঙ্গের ইসলামের প্রথম সংস্কারক ও প্রচারক।”
সুতরাং এ থেকেই বুঝা যায়, ইসলামের জন্য হাজী শরীয়তুল্লাহর অবদানটা কত বেশী!
***** আগামী পর্ব - একজন অভিভাবকের কথা
***** গত পর্ব - ফরায়েজী আন্দোলন -২
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৮:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


