হাজী শরীয়তুল্লাহ বাংলার মুসলিম সমাজে একজন অভিভাবকের ভূমিকা
পালন করতেন।
বিপদে মুসিবতে, সুখে-দুঃখে তিনি তাদের পাশে এসে দাঁড়াতেন।
তিনি ছিলেন তাদের জন্যে একজন দরদী অভিভাবক ও পরমার্শদাতা।
হিন্দু জমিদার ও ইংরেজ ব্যবসায়ীদের অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে মুসলিম জনগণকে হাজী শরীয়তুল্লাহ ঐক্যবদ্ধ করে তোলেন।
তিনি হিন্দু জমিদারদের অনেক অবৈধ কর আদায়ের বিরোধিতা করেন।
অবৈধ কর না দেবার জন্যে হাজী শরীয়তুল্লাহ মুসলিম জনগণকে নির্দেশ দিয়েছিলেন কঠিনভাবে।
হাজী শরীয়তুল্লাহ একদিকে রাজনৈতিকভাবে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে লিপ্ত হন। আর অপরদিকে সামাজিকভাবে তিনি অত্যাচারী হিন্দু জমিদার ও নীল কুঠিয়ালদের বিরোধিতায় অবতীর্ণ হন।
সেই সাথে বেগবান রাখেন তিনি মুসলমানদের মধ্যে শিরক, বিদআত ও কুসংস্কার দূর করার জন্য সংস্কারের এক মহা বিপ্লবের ধারা।
শরীয়তুল্লাহর এই সংগ্রাম অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম থেকে গ্রামাঞ্চলে। বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে।
ছড়িয়ে পড়ে ফরিদপুর, বরিশাল, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা প্রভৃতি জিলায়ও।
তাঁর এই সংগ্রামে যুক্ত হয়েছিলো সমাজের প্রধানত দরিদ্র কৃষক শ্রেণী। যারা হিন্দু জমিদার ও ইংরেজদের অত্যাচার আর শোষণের শিকার ছিলো।
হাজী শরীয়তুল্লাহ তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করলেন। ঐক্যবদ্ধ করলেন তিনি অসহায়, নিঃস্ব ভাগ্যহত মানুষকে।
তাদেরকে শুনালেন তিনি আশার বাণী।
আঠারো শো সাইত্রিশ সালে তাঁর এই সংগ্রামী আন্দোলনের সদস্য সংখ্যা ছিলো প্রায় বারো হাজারের মতো।
কম কথা!
এই বিপুল সংখ্যক সদস্যের বাইরেও ছিলো একটি বিশাল জনশক্তি।
যারা তাঁর আন্দোলনকে সকল সময় সমর্থন ও সহযোগিতা করতো।
হাজী শরীয়তুল্লাহ ছিলেন প্রকৃত অর্থেই দুঃখী মানুষের জন্যে একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক।
গরীবের কষ্ট তিনি সইতে পারতেন না কখনো।
তাই তিনি সকল সময়ই তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন।
এমন জন-দরদী নেতার অভাব ছিল তখন।
হাজী শরীয়তুল্লাহ সময়ের সেই দাবি ও চাহিদা পূরণে তাঁর সর্বশক্তি
নিয়োগ করেন।
***** আগামী পর্ব - কৌশলী কর্মপন্থা
***** গত পর্ব - ফরায়েজী আন্দোলন -৩
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০০৮ ভোর ৫:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


