আচ্ছা,সেলফি তুলতে গিয়ে মুখটা অতো আকা বাকা চিৎ কাত করেন কেনো আপনারা?ঠোটটা একবার চ্যাপ্টা করেন,চোখ দুটো আরেকবার অস্বাভাবিক রকম বড় করেন।
আপনারা কি ভাবছেন অমন করে পোজ দিয়ে সেলফি তুললে আপনাদের ছবি বিশ্বসুন্দরীদের মতো হয়?মোটেই না।বরং আপনাদের শারিরীক প্রতিবন্ধীর মতো লাগে।প্রতিবন্ধীদের অংগ প্রতংগ যেমন অস্বাভাবিক থাকে।আপনাদেরও ঠিক তেমন লাগে।
এ রোগ বড় কঠিন রোগ।ঠিক বিছানায় মূত্রত্যাগের মতো।সহজে সারে না।বিছানায় মূত্র ত্যাগের সময়ও দূর্গন্ধ ছড়ায়,আবার দিনের বেলায় ভিজা কাথা রোদ্রে শুকানোর সময়ও দূর্গন্ধ ছড়ায়।ঠিক আপনাদের যেমন অমন পোজে সেলফি তোলার সময়ও বাজে লাগে,আবার সেলফিগুলো এফবিতে ছাড়ার পড়েও যেমন বিশ্রী লাগে।প্রাপ্তবয়স্ক হলে তবুও বিছানায় মূত্রত্যাগ দূর হয়।কিন্তু আপনারা কবে সেলফির ব্যাপারে প্রাপ্তবয়স্ক হবেন,সেটাই ভাবনার বিষয়।
আমরা বাঙালীরা অবশ্য যেকোনো কিছুকেই ত্যানা ত্যানা করাতে ভীষন পারদর্শী। সেলফিটাকেও ইতমধ্যে ত্যানা ত্যানা অধিক কিছু থাকলে সেটাও করে ফেলেছি।ত্যানা ত্যানা অধিকের উদাহরন হিসেবে বলা যায়, ষাড় গরুর বিচি হাতে ধরে সেটাকে মুখের কাছে নিয়েও আপনাদের কেউ কেউ সেলফি তুলেছেন এবং গর্বের সহিত সেই সেলফি এফবিতেও উত্তোলন করেছেন।এই ব্যাপারে অনেকেই সুকথ্য,অকথ্য,কুকথ্য ভাষায় সমালোচনাও করেছেন।এ নিয়ে আমার নতুন করে আর কিছু বলার নাই।শুধু উদাহরনের স্বার্থে উল্লেখ করলাম আর কি।
আমাদের মানুষ জাতিটি সাধারনত দুটি প্রজাতিতে বিভক্ত।পুরুষ প্রজাতি ও নারী প্রজাতি।নারী প্রজাতিকে আদর সহকারে আবার রমনীকূল বা ললনা প্রজাতিও বলা হয়ে থাকে।এখানে একটি কথা না বললেই নয়,যেটা বলাতে আবারর ককতিপয় ননারীবাদী আমাকে ননারী সস্বাধীনতাবিরোধী আআখ্যা দিয়ে রা রা হা হা করে তেড়ে আসতে পারেন। আর তা হলো,এই প্রতিবন্ধী জাতের সেলফিতে আমাদের এই আদর সমেত ডাকা রমনীকূলই বেশী পারদর্শী। এই জাতের সেলফি দুনিয়ায় তাদেরই বিচরন বেশী।সম্প্রতি এক গবেষনা দেখা গিয়েছে যে এইসব অদ্ভুত ভংগীতে পোজ দিয়ে সেলফি তুলতে তুলতে অভ্যস্ত আমাদের রমনীকূল ফেবু লাইভে এসে দুই লাইন কথা বলেন আর আট লাইন চোখ মুখ বাঁকা করে সেলফির ভংগীমায় প্রত্যেকটি পোজে পাঁচ সেকেন্ড করে ব্যায় করে থাকেন।যার ফলে তাদের লাইভটিও প্রতিবন্ধী লাইভে রুপান্তরিত হতে বাধ্য হয়।
আমাদের পুরুষ প্রজাতিও এবেলায় অতো পারদর্শী না হলেও কম যান না।তাদের একটি সংখ্যা সেলফি তোলার সময় চোখ বড় বড় না করলেও ঠোটটা ঈষৎ বাকিয়ে একটু মেয়েলী ভংগী আনাতে চান যা তাদেরও ঐ প্রতিবন্ধীর কাতারেই ফেলে দেয়।
সেলফী অত্যাধুনিক যুগের একটি সময়পযোগী আবিষ্কার।যার মাধ্যমে নিজের বদনখানি নিজের সাহায্যে ফ্রেমবন্দী করা যায়।রাস্তাঘাটে পরিচিত অপরিচিতদের ভাইয়া একটি ছবি তুলে দিন বলে অনুরোধ করতে হয়না।
আসুন আমরা সেলফির সঠিক ব্যাবহার করি আর খেয়াল রাখি যেন সেলফি তুলতে গিয়ে প্রতিবন্ধীতে রুপান্তরিত না হই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



