কৌশলগত পরিকল্পনা মুলতঃ একটি ব্যবসহাপনা হাতিয়ার যা একটি প্রতিষ্ঠানকে তার সমপদের আলোকে সংশ্লিষ্ট সদস্য সহযোগে একই লক্ষ্যে কাজ করার মাধ্যমে উন্নততর ও অত্যন্ত ভাল কর্ম সমপাদনে সামর্থ যোগায়। কৌশলগত পরিকল্পনা একটি শৃঙ্খলিত উদ্যোগ যা মৌলিক সিদ্ধান্ত গ্রহন ও বাসতবায়নে একটি প্রতিষ্ঠানকে পথ দেখায় এবং এলাকার বর্তমান অবসহা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা-সমস্যার আলোকে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নির্ধারন করা যায় আর সে কারনেই এসডিএস কৌশলগত পরিকল্পনা প্রনয়নের উদ্যোগ গ্রহন করে।
পরিকল্পনা প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সমপন্ন ব্যক্তির (ষ্টাফ, সাধারন পরিষদ সদস্য, নির্বাহী পরিচালক, সেবা গ্রহনকারী ও অন্যান্য ষ্টেকহোল্ডার ব্যক্তিবর্গকে সমপৃক্ত করে প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয় এবং মাঠ পর্যায় থেকে চাহিদা, সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হয়। সকলের অংশগ্রহন ও মতামতের ভিত্তিতে সংসহার ভিশন, মিশন, মূল্যবোধ, নীতি ঠিক করা হয়।
SWOT এনালাইসিস এর মাধ্যমে সংসহার অভ্যন্তরীন সবলতা দূর্বলতা এবং বাহ্যিক অবসহা অর্থাৎ সুযোগ ও বাধা চিহ্নিত করা হয়েছে। অতঃপর সংসহার বিভিন্ন কর্মসূচীর কৌশল, উদ্দেশ্য, প্রত্যাশিত ফলাফল ও কর্মকানড ঠিক করা হয়। এ ছাড়া ভিশন ও মিশনে বর্নিত বিষয় সমূহের আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও সহানীয় অবসহা বিশ্লেষন করা হয়েছে। এবং কৌশলগত বিষয়ে ভোটিং এর মাধ্যমে অগ্রাধিকার নির্নয় করা হয়েছে যা স্মারণী-৩- এ বিকল্প মেট্রিক্ম্র হিসেবে দেখানো হয়েছে। এখানে দেখা যায় প্রথম হয়েছে দূর্যোেগ ব্যবসহাপনা কর্মসূচী, দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচী ২য় এবং যৌথভাবে ৩য় অবসহানে রয়েছে কৃষি ও অধিকার এর পরে রয়েছে যথাক্রমে শিক্ষা, স্বাসহ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন কর্মসূচী। সংসহা সমপর্কে স্বচছ ধারনার জন্য সংসহার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, রিপোর্টিং, মনিটরিং ও সুপারভিশন, মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক ব্যবসহাপনা সমপর্কে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। সংসহার কর্ম এলাকা সমপর্কে ধারনা প্রদানের জন্য বাংলাদেশের ম্যাপের মধ্যে এসডিএস কর্ম এলাকা দেখানো হয়েছে। এছাড়া সংসহার চলমান কার্যক্রম এবং আগামী ৫বছরের একটি সম্ভাব্য কর্ম- পরিকল্পনা কৌশলগত পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্বায়ন এবং পরিবর্তনের এযুগে এসডিএস এর পঞ্চবার্ষিকী কৌশলগত পরিকল্পনাটি সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমরা দৃঢ় আশাবাদী। সংসহার ভবিষ্যৎ পথ নির্দেশক হিসেবে পরিকল্পনাটি নিঃসন্দেহে অগ্রনী ভূমিকা রাখবে।
কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ-
১৯৯১ সনে এসডিএস প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে সংসহা বিভিন্ন কর্মসূচী সফলতার সাথে বাসতবায়ন করে আসছে। কিন্তু আজ অবধি সংসহার কোন দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনা প্রনয়ন করা হয়নি। কিন্তু একবিংশ শতাব্দির এ প্রতিযোগীতার সন্ধিক্ষনে কৌশলগত পরিকল্পনা ছাড়া লক্ষ্য অর্জন করা খুবই দুরুহ বিষয়। আর এ উপলব্ধি থেকে সংস্থার কৌশলগত পরিকল্পনা প্রনয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরিকল্পনা প্রনয়নে আমরা যাদের সহযোগীতা পেয়েছি তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে গনসাক্ষরতা অভিযান, ঢাকা এবং পার্টিসিপেটরি ডেভেলপমেন্ট কনসালটেন্ট, ঢাকা নামক বে-সরকারী সংগঠন এ কাজে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগীতা করেছেন। এছাড়া সংসহার সাধারণ পরিষদ, নির্বাহী পরিষদ, কর্মীবৃন্দ সর্বোপরি কর্ম এলাকার প্রত্যক্ষ উপকারভোগী এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সরাসরি অংশগ্রহন ও সহযোগীতার ফলে আমাদের এ পরিকল্পনা প্রনয়ন বাসতব ভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
সূচী পত্র
১. ভুমিকাঃ
২. সংগঠনের পরিচিতিঃ
৩. বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষনঃ
আন্তর্জাতিক অবস্থা
জাতীয় অবস্থা
স্থানীয় অবস্থা
৪. ভিশন ও মিশন ঘোষণা, মুল্যবোধ ও নীতি
৫. কর্মসূচী প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পন্থা
৫.১ কৌশলগত ইস্যু, উদ্দেশ্য, আউটকাম, কার্যাবলী
৬. সাংগঠনিক কৌশল
৭. সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক কর্ম এলাকা:
বাংলাদেশের মানচিত্রে কর্মসূচীর ভৌগোলিক এলাকা সমূহ
৮. কর্মসূচীর অংশীদার এবং তাদের ভুমিকা
৯. বাস্তবায়ন অ্যাপ্রোচ
স্মারনীঃ
স্মারনী-১ঃ কৌশলগত পরিকল্পনা প্রনয়ন প্রক্রিয়া
স্মারনী-২ঃ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহনকারীদের তালিকা এবং সংগঠনের পরামর্শক
স্মারনী-৩ঃ SWOT বিশ্লেষন
স্মারনী-৪ঃ বিকল্প ম্যাট্রিক্স
স্মারনী-৫ঃ কার্যক্রম GANT chart
১. ভুমিকাঃ দারিদ্র দুরীকরন সার্বজনীন লক্ষ্য হলেও তা আজ এক বিশাল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। দুস্থ্য, অসহায় ও সম্পদহীন মানুষের সংখ্যা ক্রমান্নয়ে বৃদ্বি পাচ্ছে। মানুষের মৌলিক চাহিদা খাদ্য এখন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন যা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আরও বিপদাপন্ন করে তুলেছে। দরিদ্র, দুস্থ ও দুর্যোগ কবলিত মানুষের জীবিকার মান উন্নয়ন টেকসই ও কার্যকর করার জন্য দরকার সাংগঠনিক পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকান্ডের কর্মকৌশল ও প্রকৃতিতে পরিবর্তন এবং যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। সেই প্রযোজনীয় পরিবর্তন আনয়ন প্রক্রিযাকে সঠিক এবং সবল গতিতে পরিচালনার জন্য যে নির্দেশিকা দরকার তা হলো দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনা। এমনই একটি পরিকল্পনা প্রনয়নের লক্ষ্যে এসডিএস ২০০৮ সালে যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহন করেন। যার উদ্দেশ্য হচ্ছে সংগঠনকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এমনই কার্যকর করা এবং নির্দেশনা দেয়া যার ফলে সংগঠনের সার্বিক কর্মকান্ড দরিদ্র মানুষের জন্য আরোা সময়োপযোগী করে তুলে। এবং এ লক্ষ্যে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষনের মাধ্যমে বাংলাদেশের তথা কর্মএলাকার আর্থসামাজিক অবস্থা ও সাংগঠনিক অবস্থার নিরিখে কৌশলগত পরিকল্পনার মুল বিষয়গুলি ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ।
বর্তমানে আন্তজার্তিক উন্নয়ন পরিমন্ডলে যে পরিবর্তন ঘটে চলেছে এবং আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক তথা সার্বিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন ও অবশ্যম্ভাবী সেটা আমাদের কর্মকান্ডে চিন্তা-চেতনা এবং কৌশল নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ করে দিয়েছে। ভবিষ্যতে পরিবর্তনগুলোকে মোকাবেলা করে সংস্থার লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত করা, কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্যম সঞ্চারিত করা, উপকারভোগী এবং ষ্টেকহোল্ডারদের সক্ষমতা বৃদ্বির প্রত্যয়ে এ কৌশলগত পরিকল্পনা প্রনীত হয়েছে ।
২. সাংগঠনিক পরিচিতি:
এসডিএস শরীয়তপুর জেলায় কর্মরত বেসরকারী সংস্থাসমূহের মধ্যে একটি অন্যতম বেসরকারী সংস্থা। যা ১৯৯১ সালের ১ লা †m‡Þ¤^i আত্ন প্রকাশ করে। যুগ-যুগান্তরের নদীভাঙ্গা শরীয়তপুর জেলাবাসীর নিত্যদিনের সঙ্গী। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- বন্যা, ঘুর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, অপরিকল্পিত পরিবার ব্যবস্থাপনা, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের অভাব ইত্যাদি কারণে অভাব গ্রস্থ শরীয়তপুরবাসীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, মানবিক উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও দুস্থ্য মানুষের পুনবার্সনের মাঙ্গলিক চিন্তা চেতনা থেকে শরীয়তপুরের খ্যাতনামা সাংবাদিক ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, শরীয়তপুর ইউনিটের সম্পাদক জনাব মজিবুর রহমান স্থানীয় কিছু সাংবাদিক, রেডক্রিসেন্ট কর্মী, ব্যবসায়ী, আইনজীবি ও চিকিৎসকদের নিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে শরীয়তপুর পৌরসভা ও সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নে উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজ শুরু করেন। পরের বছর ১৯৯২ সালে এসডিএস সমাজ সেবা অধিদপ্তর এবং ১৯৯৩ সালে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো থেকে নিবন্ধন লাভ করেন। এবং ১৯৯৩ সাল থেকে দাতা সংস্থা অক্সফ্যাম- জিবি এর আর্থিক সহায়তায নারীর ক্ষমতায়ন নামক প্রকল্পের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দাতা সংস্থার সাথে লিংকেজ শুরু হয়। পরবর্তীতে পল্লী কর্মসহায়ক ফাইন্ডেশনের অর্থায়নে এসডিএস শুরু করে দরিদ্র নারীদের নিয়ে ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প। পাশাপাশি শিক্ষা, ¯^v¯’¨, পরিবার পরিকল্পনা, পারিবারিক আইন সহায়তা, ওয়াটার এ্যান্ড স্যানিটেশন ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
১৯৯৮ সালে ইতিহাসের সবচেয়ে cÖjw¤^Z বন্যায় এসডিএস শরীয়তপুরের অগনিত জনসাধরনের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও পুর্নবাসন সহায়তা প্রদান করেছে। ২০০৪ সালের ভয়াবহ বন্যা, ২০০৭ সালের স্মরনকালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভয়াবহ বন্যা এবং ঘুর্িনঝড় সিড়রে ক্ষতিগ্রস্ত দূর্গত মানুষের ব্যপক ত্রান ও পূনর্বাসন সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এসডিএস বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পর্যবেক্ষণ ও গনসচেতনতামুলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। গ্রামীন সড়ক অবকাঠামোগত সংস্কার, মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন প্রকল্প বাস্তাবায়ন করছে। নদীভাঙ্গনের শিকার ও বন্যাকালীন সময়ে আশ্রয়ের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেছে। পিকেএসএফ এর সহায়তায় ঋন কার্যক্রম ছাড়া অক্সফ্যাম-জিবি, অক্সফ্যাম-নভিব, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ইউএনডিপি, ডব্লিওএফপি, ইউনিসেফ, কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াাইড-বাংলাদেশ, সেভ দ্যা চিলড্রেন অষ্ট্রেলিয়া, এসিএফ, বাংলাদেশ ও অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থা বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়মিতভাবে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে।
এসডিএস বর্তমানে ৭ টি জেলা যথাক্রমে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ ও বাগেরহাট জেলার ২০ টি উপজেলায় দারিদ্র বিমোচন, ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং আর্তমানবতার সেবায় বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মসূচী পরিচালনা করছেন।
৩. বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষন
আন্তর্জাতিক অবস্থা
জাতীয় অবস্থা
স্থানীয় অবস্থা
আন্তর্জাতিক অবস্থাঃ
বিশ্বায়নের ফলে যে সকল সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে তা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুবিধা জনক অবস্থানে নেই। ফলে বিশ্বায়নের এ যুগে আমরা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছি। বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতে বিনিয়োগ আর্কষনীয় হয়ে উঠেছে। অথচ পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে রয়েছে নারী ও পুরুষ শ্রমিকের মধ্যে বৈষম্য আর এই মজুরী বৈষম্যের ফলে নারীরা পুরুষের তুলনায় বেশি দুর্দশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।
অন্যদিকে দক্ষিন এশিয়ায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। কিন্তু এই প্রযুক্তির সুফলভোগ করছে ধনীক শ্রেনী ফলে সম্পদ ও অর্থনৈতিক সুবিধার ক্ষেত্রে সমাজে অসমতা আরও বৃদ্বি পাচেছ। ধনী আরও ধনী হচ্ছে এবং গরিব ক্রমশ: সমাজের মেইন স্তর থেকে ছিটকে পড়ছে। সবশেষে বলা যায় বিশ্বায়নের ফলশ্রুতিতে আজ তথ্য ও সম্পদের যে আর্ন্তজাতিক প্রবাহ প্রচন্ড গতিতে বহমান, তা ধনীক শ্রেনীকে আরও অধিক ক্ষমতাশালী করে তুলতে পারে। আর তারফলে সমাজে অস্থিতিশীলতা আরও বেড়ে যেতে পারে। বর্তমানে ভোগ্য পন্যে দাম আর্ন্তজাতিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সমাজে দরিদ্রশ্রেনীর অস্থিরতা অনেকাংশ বেড়ে গেছে।
উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ ভুমির উপর নির্ভরশীল তাই পৃথিবীর জলবায়ুতে সম্ভাব্য যে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়, তাতে বাংলাদেশের বিশেষ বিপদাপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতামত অনুযায়ী ভু-মন্ডলের তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ার ফলে বরফ গলা সহ অন্যান্য আরও কিছু কারনে সমুদ্রপৃষ্টের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশে এমনিতেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, ©খড়া, ঘুর্নিঝড়, জলোচ্ছাস লেগেই থাকে। দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরও ঘন ঘন সংঘটিত হতে পারে এবং তাতে করে কৃষি ও অন্যান্য উৎপাদন খাত উপর্যুপরি ক্ষতি গ্রস্থ হতে থাকবে। এর উপর জনসংখ্যার বৃদ্ধির চাপ ও জনসংখ্যার ঘনত্ব বৃদ্ধির ফলে দেশটির অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। আর mgwš^Zfv‡e এই ধরনের ঘটনা সমুহের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে পরিত্রান পাওয়া গ্রামীন ও শহুরে জনগোষ্টির পক্ষে µgvš^‡q আরও কঠিন হয়ে দাড়াবে।
জাতীয় অবস্থাঃ
বিগত এক দশকে বাংলাদেশে দারিদ্রের হার্র কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন ঘটেছে তা দৃশ্যমান এবং ঊর্ধ্বমুখী বলা চলে। আরও কিছু বিষয় দেখে এই উন্নয়ন চোখে পড়ে। যেমন- জন্ম হার হ্রাস, মাতৃ মৃত্যু হ্রাস, স্কুল গামী মেয়েদের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। অতি সমপ্রতি আমাদের দেশ খাদ্যে ¯^qsm¤ú~b© হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল, গতবছর বন্যা, ঘুর্নিঝড় সিডরের পরে নিত্যপ্রয়োজনী খাদ্য শস্যের ও অন্যান্য পন্যের দাম যে হারে বেড়েছে তাতে সে ঘোষনা ম্লান হয়ে গেছে। আর যে সমস্ত পজিটিভ উন্নয়ন হয়েছে বলে প্রতিয়মান হচ্ছে এর সুফল সমানভাবে সকল জনগনের কাছে পৌছায়নি। এক্ষেত্রে দেখা গেছে ব্যাপক বৈষম্য। ফলে দারিদ্র এবং সামাজিক অবিচার এখন ও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় অবস্থান করছে। বাড়ছে ধনী দরিদ্রের ব্যবধান । ব্যাপারটি নিয়ে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিবেদিত সকলের মধ্যে চলছে বিচার-বিশ্লেষন ও চিন্তা-ভাবনা।
মানবাধিকার লঙ্গন এবং বৈষম্যমুলক আচরন বাংলাদেশে একটি নিত্য নৈমিত্তক ব্যাপার। এ বৈষম্য আমাদের জাতীয় জীবনের এক অভিশাপ, চরম এক সংক্রামক ব্যাধি, যা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে সমাজের বিভিন্ন স্তরে। মানবাধিকার লঙ্গন আজ চরমভাবে বিঘ্নিত করছে মানুষের বিশেষ করে নারী সমাজের জীবন-মানের নিরাপত্তাকে।
সুশাসন ব্যাপারটি যদিও ব্যাপক তথাপি কয়েকটি মূল বিষয় দিয়ে এটি m¤^‡Ü মোাটামুটি একটি ধারনা পাওয়া যেতে পারে: সেগুলো হলো জবাবদিহিতা ও ¯^”QZv এবং একটি গনতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়া যেখানের জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহন ও অংশিদারিত্ব শীর্ষে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই বিষয়গুলো অধিকাংশ দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা সংস্থা সচেতনভাবে এড়িয়ে যান। অথবা ভাবেন না। যার ফলে দুনর্ীতি এবং অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হয় সমাজের সকল স্তরে ।
বাংলাদেশে সরকারী এবং বেসরকারী সংস্থার সকল স্তরে সুশাসন অত্যন্ত দুর্বল এবং এই অবস্থা দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। যদি এই অব্যবস্থা থেকে ফিরে আসা m¤¢^e না হয় তাহলে বাংলাদেশে উন্নয়নের যে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে তা ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাবে। উদাহরন ¯^i“c টিআইবি এক গবেষনায় দেখিয়েছে যে, দুর্নীতির কারনে প্রতিবছর এই দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) শতকরা প্রায় ২-৩ ভাগ কমে চলেছে, যা একটি বিরাট উদ্বেগের ব্যাপার। সরকারী পর্যায়ে বস্তুগত, মানব ও আর্থিক সম্পদের ব্যবস্থাপনায় পরিলক্ষিত হচ্ছে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং A¯^”QZv| জবাবদিহিতা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে সম্পদের অপচয় যেমন বেড়ে চলেছে তেমনি দুর্নীতি প্রকট আকার ধারন করায় কাংখিত উন্নয়ন বাধা গ্রস্থ হচ্ছে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে বর্তমান কালে ব্যাপক পর্যালোচনা চলছে।
নগরায়ন দ্রুত বিস্তার ঘটে চলেছে। মুল বিষয় হচ্ছে এই নগরায়নের বিস্তৃতি এমন এক সমাজ ব্যবস্থায় ঘটে চলেছে, যেখানে নগর পরিকল্পনাকারিদের সামঞ্চস্যপুর্ন শহর গড়ার সদিচ্ছা ও অভিজ্ঞতা একেবারে নেই বললেই চলে। ফলে শহরে আসা মানুষের জীবিকার উপায় হিসাবে নেই কোন পরিকল্পিত ব্যবস্থা, নেই আবাসন স্থাপনের প্রচেষ্টা। জীবিকার সন্ধানে ছুটে চলা এই জনগোষ্টির মধ্যে বিরাজ করে হতাশা, হয়ে পড়ে তারা মাদকাশক্ত এবং জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন অপরাধ মুলক কর্মকান্ডে। ফলে শহরগুলোতে এ সকল অসামাজিক কর্মকান্ডের কারনে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে চলেছে। সেই সাথে ক্রটিযুক্ত যানবাহনের কালোধোয়া, শিল্পবর্জ্য ও নিম্নমানের পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থার ফলে বাতাসে ও পানিতে চলেছে মারাত্নক দুষন। পাশাপাশি এইচ আইভি/এইড এর ঝুকি বাড়ছে।
স্থানীয় অবস্থা ঃ
এসডিএস কর্মএলাকা ভৌগোলিক কারনেই প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঝুঁকিপূর্ন এলাকা হিসেবে পরিচিত। কারন এ এলাকা দেশের বৃহত্তম নদী পদ্মা, মেঘনা, পশুর এবং আড়িয়ালখাঁ দ্বারা বেষ্টিত। সে কারনে এ অঞ্চলে প্রতিবছর কোননা কোন দূর্যোগ আঘাত হানে। বিশেষ করে বন্যা, ঘুর্নিঝড়, নদীভাংগন এ এলাকার প্রধান দূর্যোগ। অব্যাহত দূর্যোগের ফলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রা প্রতিনিয়ত ব্যহত হচেছ। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এলাকার ¯^vfvweK উন্নয়ন প্রক্রিয়া । পাশাপাশি বৃদ্বি পাচ্ছে দারিদ্রতা ও বেকারত্বের হার।
দারিদ্রতার কারনে কর্ম এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থীর লেখাপড়া মাঝ পথে বন্ধ হয়ে যায়।
প্রায় প্রতি বছর বন্যা এবং ঘূর্নি ঝড়ে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা উপকরন ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়্। ফলে শিক্ষার ¯^vfvweK চলমান কার্যক্রম মারাত্নকভাবে ব্যহত হয়। এ ছাড়া নদী ভাঙ্গনের কারনে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়।
এ অঞ্চলে অনেক খাসজমি রয়েছে। কিন্তু প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে এসব খাসজমি বিতরন করা হয়না। এক শ্রেনীর জোতদার নামে বেনামে বিভিন্ন কৌশলে এসব খাস জমি ভোগ করে আসছে । এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় এলাকার ৬২% জমি ১০% মানুষের দখলে। ফলে ভুমিহীন মানুষ তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ভুমির সর্বোচ্চ ব্যবহার হচ্ছে না। এ অঞ্চলের বর্গা ও প্রান্তিক চাষিরা পর্যাপ্ত কৃষি উপকরণ সহায়তা পায়না এমনকি আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদ সমপর্কে তাদের যথার্থ ধারনা বা অভিজ্ঞতা না থাকায় তারা আজো মান্ধাতার আমলের কৃষি পদ্ধতি অনুসরন করে থাকেন ফলে কৃষি থেকে কাংখিত উৎপাদন বা আয় হচেছ না।
এসডিএস কর্ম এলাকায় সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দরিদ্র মানুষের উন্নয়নে ঋন সহায়তা দিয়ে আসছে কিন্ত তা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। এ ছাড়া উপকারভোগীদের বিষয় ভিত্তিক দক্ষতার অভাবে ঋনের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারেন না এবং ভাল বাজার ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় তারা তাদের উৎপাদিত পন্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে আশানুরুপ অর্জন হচেছ না।
এ অঞ্চলের মানুষের সরকারী বেসরকারী ¯^v¯’¨ সেবা প্রাপ্তীর সুযোগ খুবই সীমিত। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষের সেবা প্রাপ্তীর সুযোগ নেই বললেই চলে। প্রজনন ¯^v¯’¨ সম্পর্কে প্রায় ৯০% দম্পতিই অসচেতন। এ কারনে প্রসূতি মৃত্যুর হার অন্যান্য এলাকার তুলনায অনেক বেশী।
.এসডিএস কর্ম এলাকায় যৌতুক, তালাক, বাল্য বিবাহ ও বহুবিবাহের মত সামাজিক ব্যধি রয়েছে। এ সব সামাজিক ব্যধি হ্রাস করার জন্য mgwš^Z সামাজিক উদ্যোগের খুবই অভাব এমনকি সরকারী বেসরকারী বাস্তবায়নযোগ্য তেমন কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায় না। এ এলাকা পশ্চাদপদ হওয়ায় উন্নত তথ্য প্রযুক্তি সুবিধা থেকে এ অঞ্চলের মানুষ ক্রমাগত বঞ্চিত হচ্ছে বিধায় তাদের মৌলিক অধিকার ,ভোটাধিকার ও সামাজিক সচেতনতা বোধ সম্পর্কে সম্যক ধারনার অভাব রয়েছে।
৪. ভিশন ও মিশন ঘোষণা, মুল্যবোধ ও নীতি
ভিশনঃ দারিদ্রমুক্ত ন্যায্য সমাজ
মিশনঃ দূর্যোগের ঝুঁকি ও বিপদাপন্নতা হ্রাস , মানসন্মত শিক্ষা, সকলের জন্য ¯^v¯’¨ সেবা নিশ্চিতকরন, আায়বৃদ্বিমূলক কর্মকান্ডের সুযোগ সৃষ্টি ও মানবাধিকার চর্চার মাধ্যমে দারিদ্রমুক্ত ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
মূল্যবোধঃ
• গনতন্ত্র
• ধর্মনিরপেক্ষতা
• পারস্পারিক শ্রদ্বাবোধ
• জেন্ডার সংবেদনশীলতা
• ন্যয্যতা
• সৃজনশীলতা
• সকলের প্রতি শ্রদ্ধা
• বিশ্বস্ততা ও ন্যায়পরায়নতা
• কর্মকান্ডে আত্ননিবেদন
• কর্মকান্ডের গুনগত মানের উন্নয়ন।
নীতি সমূহঃ
• জনগনের অংশগ্রহন
• ¯^”QZv
• জবাবদিহিতা
• অঙ্গীকারবদ্বতা
• অংশগ্রহনমূলক নেতৃত্ব
• দায়বদ্বতা
• দায়িত্বশীল পরিচালনা
• শিক্ষনীয় পরিবেশ
• wbR¯^Zv
• বৈচিত্র্যময়তা
• অগ্রাধিকার অ্যাপ্রোচ
ইস্যুভিত্তিক কৌশল নির্ধারনঃ
৫. কর্মসূচী প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পন্থা:
৫.১ কৌশলগত ইস্যু, উদ্দেশ্য, আউটকাম, কার্যাবলী
দূর্যোগ ব্যবসহাপনাঃ
প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও বাংলাদেশ মনে হয় যেন একে অপরের সমপুরক। ভৌগোলিক অবসহানগত কারনেই বাংলাদেশে প্রায় প্রতিবছরই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগের শিকার হয়। বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশী দূর্যোগে ক্ষতিগ্রসত দেশ যা দারিদ্র বিমোচন কৌশলপত্রেও উল্লেখ রয়েছে। আমাদের দেশে ১৯৭০ সালের ঘুর্নিঝড়ে প্রায় ৫লক্ষ এবং ১৯৯১ সালের ঘুর্নিঝড়ে ১লক্ষ ৪০হাজার মানুষ মারা যায়। এছাড়া ১৯৮৮,১৯৯৮, ২০০৪ এবং ২০০৭ সালের বন্যা ও ঘুর্নিঝড় সিডরে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। বাংলাদেশের ৪১টি দূর্যোগপ্রবন জেলায় প্রতিবছরই কোন না কোন দূর্যোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়ে ব্যাপক জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রসহ হয়ে থাকে।
এসডিএস কর্মএলাকা খুবই দূর্যোগ ঝুঁকিপূর্ন এলাকা। কারন এ এলাকা দেশের বৃহত্তম নদী পদ্মা, মেঘনা , পশুর ও আড়িয়ালখাঁ দ্বারা বেষ্টিত। সে কারনে এ অঞ্চলে প্রতিবছর কোন না কোন দূর্যোগ আঘাত হানে। বিশেষ করে বন্যা, ঘুর্নিঝড়, নদীভাংগন এ এলাকার প্রধান দূর্যোগ। অব্যাহত দূর্যোগের ফলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রা প্রতিনিয়ত ব্যহত হচেছ। তাই এসডিএস মনে করে প্রাকৃতিক দূর্যোগ হয়তবা ঠেকানো যাবেনা কিন্তু ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বিভিন্ন কৌশলে বা কার্যকরী পদক্ষেপের মাধ্যমে হ্রাস করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে দূর্যোগ মোকাবেলা বিষয়ে সচেতন করা, সক্ষমতা বৃদ্ধিকরা, দুর্গত মানুষের আশ্রয়ের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য দূর্যোগ ব্যবসহাপনা বিষয়ক কর্মসূচী কৌশলগত পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উদ্দেশ্যঃ
পূর্ব প্রস্তুতির মাধ্যমে জনগোষ্ঠীর দূর্যোগের ঝুকি ও বিপদাপন্নতা হ্রাস।
জরুরী উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার মাধ্যমে জনগোষ্ঠীর জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা।
দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা ও স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ফিরিয়ে আনা।
প্রত্যাশিত ফলাফলঃ
দূর্যোগ মোকাবেলায় লক্ষিত জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে
জনগনের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসপাবে
দূর্গত মানুষের জানমাল রক্ষা পাবে
মানুষের জরুরী খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট দুর হবে
ক্ষতিগ্রসহ মানুষের আয়মুলক প্রকল্প গ্রহনের সুযোগ সৃষ্টি হবে
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিপাবে
বায়ু ও পানিবাহিত রোগ হ্রাস পাবে
ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধিপাবে
কর্মকানডঃ
জরুরী মজুদ,
বিভিন্ন পর্যায় দূর্যোগ ব্যাবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষন ও কর্মশালা
আগাম সতর্ক বার্তা প্রচার,
পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ,
বিলবোর্ড সহাপন,
স্বেচছাসেবক দল গঠন
বাড়ী ও গ্রাম উচুকরণ,
বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ,
সামাজিক প্রতিষ্ঠান উঁচুকরণ
দুর্যোগ পরিসিহতি বিশ্লষণ,
জরুরী উদ্ধার,
জরুরী স্বাসহ্যসেবা,
ত্রাণ বিতরণ,
ক্ষয়ক্ষতির জরীপ,
সুদমুক্ত ঋণ প্রদান,
ঘর নির্মাণ ও মেরামত,
ল্যাট্রিন ও নলকূপ সহাপন ও মেরামত,
কাজের বিনিময়ে অর্থ কার্যক্রম,
কৃষি উৎপাদনে সহায়তা
গবাদি পশুপাখি বিতরণ, চিকিৎসা ও খাদ্য বিতরণ,
দারিদ্র বিমোচনঃ-
বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৩৮ বছর পূর্বে। একটি জাতির জন্য স্বাবলম্বী ও স্বনির্ভর হওয়ার ক্ষেত্রে ইহা যথেষ্ট সময় কিন্তু তা হয়নি বরং দেশের মোট জন সমস্টির একটা বড় অংশ আজো দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছে। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দূর্যোগ, দেশের বিরাট একটা অংশ জুড়ে অব্যাহত নদী ভাংগন, জনসংখ্যার আধিক্য, বিশ্ব জুড়ে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানী তেল ও কৃষি উপকরণের উর্ধ্বগতি সহ রাজনৈতিক ও সামাজিক অসিহরতা দেশকে আরো দারিদ্রের দিকে ঠেলে দিচেছ। দারিদ্র বিমোচনের জন্য গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুছের ক্ষুদ্রঋণ এর মডেল বিশ্ব ব্যাপি নন্দিত হওয়ায় ২০০৬ সালে ডঃ মুহাম্মদ ইউনুছকে বিশ্ব শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ প্রথা লাখ লাখ দরিদ্র মানুষকে স্বাবলম্বি করার মাধ্যমে দেশের দারিদ্র বিমোচনে অবদান রাখছে। এসডিএস কর্ম এলাকার অধিকাংশ অঞ্চলই যোগাযোগ বিচিছন্ন, পশ্চাপদ জনপদ। কর্ম এলাকার জনসাধারনের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ লোক দারিদ্রসীমার মধ্যে বসবাস করে। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ লোক হতদরিদ্র। প্রতিবছর অব্যাহত নদী ভাংগন, বন্যা ও মৌসুমী অতি বৃষ্টিপাতের জন্য ফসল হানি ঘটছে, আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস পাচেছ এবং গরীব মানুষ আরো গরীব হচেছ।
এ সকল দরিদ্র মানুষদের সংগঠিত করে এসডিএস তার কর্ম এলাকায় ক্ষুদ্র ঋণ সহায়তা, সামাজিক সচেতনতাবোধ সৃস্টি ও সঞ্চয়ী মনোভাব সৃস্টি করে দারিদ্র বিমোচনের জন্য অগ্রনী ভূমিকা পালন করে যাচেছ। পুঁজি স্বল্পতা ও দক্ষতার অভাবে কর্ম এলাকার অধিকাংশ লোকই কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। এ অঞ্চলের বর্গা ও প্রান্তিক চাষিরা পর্যাপ্ত কৃষি উপকরণ সহায়তা পায়না এমনকি আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদ সমপর্কে তাদের যথার্থ ধারনা বা অভিজ্ঞতা না থাকায় তারা আজো মান্ধাতার আমলের কৃষি পদ্ধতি অনুসরন করার ফলে কৃষি থেকে কোন সুফল আদায় করতে পারছে না। এমতাবসহায় এসডিএস ঐ সকল কর্মহীন বেকার জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করে দক্ষতা ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়ে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানের মাধ্যমে কর্মসংসহানের সৃস্টি করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক স্বচছলতা বৃদ্ধির প্রত্যয়ে দারিদ্র বিমোচন প্রকল্প গ্রহন করেছে।
উদ্দেশ্যঃ
দরিদদ্র মানুষের আর্থসামাজিক অবসহার উন্নয়নের মাধ্যমে জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন
হতদরিদ্র মানুষের কর্মসংসহান সৃষ্টি
প্রত্যাশিত ফলাফলঃ
লক্ষ্যিত জনগোষ্ঠী সংগঠিত ও দক্ষ হবে।
হতদরিদ্র মানুষের আয়মুলক প্রকল্প গ্রহনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
কর্মকানডঃ
লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠী নিয়ে দল গঠন করা,
প্রশিক্ষণ/কর্মশালা
সঞ্চয় গড়ে তোলা,
ঋণ প্রদান করা,
প্রশিক্ষণ
আয়বৃদ্ধিমূলক কাজ নির্বাচন
অধিকারঃ-
বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ে বলা হয়েছে যে, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংসকৃতিক অধিকারসমুহ সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত হবে। এই সাংবিধানিক অধিকারগুলো নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সুষ্ঠুভাবে ভোগ করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়। বাংলাদেশে প্রায় ক্ষেত্রেই আইন ও নীতি প্রনয়ন প্রক্রিয়ায় বৃহত্তর সমাজের আশা ও চাহিদার প্রতিফলন ঘটেনা। পেছনে পড়ে থাকে দরিদ্র জনগন নারী এবং অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত শ্রেনী। অন্ন, বসত্র, বাসসহান, শিক্ষা ও চিকিৎসা এ পাচটি মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু স্বাধীনতার ৩৭ বছর পরেও এ পাচটি মৌলিক অধিকার মানুষ পুরোপুরি ভোগ করতে পারছেনা। এদেশে আইনের শাসন আজও সুদুর পরাহত মানুষ তার অধিকার থেকে বঞ্চিত
এসডিএস কর্ম এলাকার অধিকাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে। এর মধ্যে নারীর অবসহা সবচেয়ে নাজুক। কথায় আছে দরিদ্র পরিবারের সকলেই দরিদ্র কিন্তু নারী সদস্য হচেছন দরিদ্রতম। পারিবারিক সিদ্ধান্তগ্রহন, শালিসী এবং সামাজিক বিভিন্ন কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহন খুবই কম। এ এলাকার নারীরা নানাভাবে নির্যাতনের স্বীকার হচেছন। যৌতুক, তালাক, বাল্যবিবাহ,বহুবিবাহ প্রভৃতি সামাজিক ব্যধি এখনও বিদ্যমান। যৌতুকের স্বীকার হয়ে অসংখ্য নারীর সংসার ভেঙ্গেছে এমনকি জীবন পর্যন্ত দিতে হয়েছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় এ অঞ্চলে ৩% মহিলা স্বামীপরিত্যক্তা। অসচেতন এবং আর্থিক সমস্যার কারনে অনেক ক্ষেত্র তারা আইনি সহায়তা নিতে পারছেনা। এ এলাকার মানুষ এখনও তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনা। পেশী শক্তি ও কালো টাকার প্রভাব এখনও সমাজ থেকে উৎপাটন হয়নি। কারন দীর্ঘদিনের জঞ্জাল দ্রুত সরানো সম্ভব নয়। এজন্য আরও সময় আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।
আমাদের সমাজে এখনও শালিসী কার্যক্রম সমাজের প্রভাবশালী মহল নিয়নত্রন করে থাকে। এ শালিসী কার্যক্রমে সকলের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা গেলে হয়তবা আইন আদালতে যাওয়ার প্রবনতা হ্রাস পেতো।
তথ্যপ্রবাহের এ আধুনিক যুগেও আমাদের এসডিএস কর্মএলাকার জনগোষ্ঠী পৃথিবীর সর্বশেষ অবসহা সমপর্কে বা তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সচেতন নয়। এ অঞ্চলে অনেক খাসজমি রয়েছে। কিন্তু প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে এসব খাসজমি বিতরন করা হয়না। এমতাবসহায় এসডিএস কর্মএলাকায় আইনসহায়তা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে সচেতন করা এবং আইন সহায়তার মাধ্যমে নির্যাতন রোধ এবং সহানীয় জনগোষ্ঠীদের নিয়ে নাগরিক ও ভোটার শিক্ষার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ইউনিয়ন পরিষদকে নিয়ে দক্ষ শালিসী ব্যবসহা গড়েতোলা, সহানীয় পর্যায়ে তথ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও জনগনকে সমপৃক্ত করে তথ্যসেবা প্রদান করা এবং ভূমিহীনদের সংগঠিত করে খাসজমি প্রাপ্তীতে সহায়তা করার লক্ষ্যে এসডিএস অধিকার বিষয়ক কর্মসূচী গ্রহন করেছে।
উদ্দেশ্যঃ
পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীর মধ্যে আইন ও অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শালিস কার্যক্রমে দক্ষ করে গড়ে তোলা
লক্ষ্যিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে নাগরিক ও ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধি
ভুমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বিতরণ করা
সময়োপযোগী তথ্য আদান প্রদান
প্রত্যাশিত ফলাফলঃ
পারিবারিক ও সামাজিক নির্যাতন হ্রাস পাবে
লক্ষ্যিত জনগোষ্ঠী নাগরিক ও ভোটাধিকার মমপর্কে সোচচার হবে
ভূমিহীনগন বসতবাড়ি ও কৃষি জমি পাবে
এসডিএস কর্ম এলাকার মানুষ দ্রুত পৃথিবীর সর্বশেষ অবসহা সমপর্কে তথ্যসেবা পাবে
কর্মকানডঃ
সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ
উদ্বুদ্ধকরন কর্মশালা
গ্রাম শালিসী
নাগরিক ও ভোটার শিক্ষা
খাসজমি উদ্ধার ও বিতরন
পল্লী তথ্য কেন্দ্র
কৃষি ঃ
একথাটি যুগ যুগ ধরে প্রতিষ্ঠিত যে, বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। বলা হয়ে থাকে দেশের শতকরা ৮০% মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। কৃষি হচেছ বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট ভূ-সমপদের মধ্যে আবাদযোগ্য ভূমি/জমির পরিমাণ হচেছ ৮৪.৮৫ হেক্টর । এর মধ্যে সেচযোগ্য জমির পরিমাণ ৭৫.৬০ লাখ হেক্টর এবং সেচের আওতাধীন জমি রয়েছে ৪৮.১৮ লাখ হেক্টর ।
কৃষি উন্নয়ন ও কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার ইতিমধ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রধান খাত হিসাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট ও খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির কারনে বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশে যেখানে হতদরিদ্রের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১৭.৮০ শতাংশ সেখানে এর প্রভাব পরেছে ব্যাপকভাবে। সরকার উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে, কৃষি ব্যবসহাকে উন্নত প্রযুক্তির আওতায় না আনা গেলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবেনা । তাই উন্নত কৃষি যনত্রপাতি, উচচ ফলনশীল বীজ, ডিজেল, সার ও কৃষি যনত্রপাতিতে অধিকহারে ভর্তুকি প্রদান করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায়। উন্নত যোগাযোগ ব্যবসহা তৈরী হলে বা তৈরী করা গেলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এ দেশে কতগুলো প্রতিবন্ধতা রয়েছে যেমন- বাংলাদেশের কৃষককুল আজও অবহেলিত, অদক্ষ। প্রতিবেশী দেশসমুহের কৃষকদের সাথে আমাদের কৃষকরা অসম প্রতিযোগীতায় রয়েছে। দেখা গেছে সরকার ঘোষিত কৃষি ভর্তূকী অনুমোদিত হারের চেয়েও অনেক কমিয়ে নিয়ে এসেছে। অনুমোদিত মাত্রা হচেছ ১০ শতাংশ অথচ বাংলাদেশ সরকার কমাতে কমাতে এর মাত্রা এত নিচে নিয়ে এসেছে যে, যার পরিমাণ বর্তমানে মাত্র ০.৩ শতাংশ আর এ পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের সুপারিশ রয়েছে। ফলে কৃষকরা ক্রমান্নয়ে আরো দরিদ্র হচেছ।
উদ্দেশ্যঃ
পশ্চাৎপদ কৃষকদের উন্নত চাষাবাদে অভ্যসত করা
প্রত্যাশিত ফলাফলঃ
কৃষকদের উৎপাদন এবং তাদের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাবে
কর্মকানডঃ
কৃষকদের মাঝে আধুনিক কৃষি যনত্রপাতি বিতরণ
ভাল বীজ সরবরাহ
কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ
শিক্ষাঃ
শিক্ষাই জাতীর মেরু দন্ড। শিক্ষা ছাড়া উন্নয়নের কথা চিন্তা করা যায় না। যে জাতি যত শিক্ষিত সে জাতি তত উন্নত। কিন্ত দুর্ভ
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


