somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জামাল হোসেন (সেলিম)
আওয়ামীলীগ-বিএনপি-জামাত বুঝিনা, সুনাগরিক বুঝি। রাজনীতি-হরতাল-ভাঙচুর বুঝিনা, দেশসেবা বুঝি। নীতিগত উন্মাদনা নয়, যার বিবেক আছে তাকেই মানুষ বলি।

ভাই কিছু খাবেন নাকি?

০৬ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-ভাই কিছু খাবেন নাকি?

-খাবো মানে!

-ভাই আজ প্রথম বেতন পাইলাম। কিছু খাবেন টাবেন না?

-তুমি বেতন পেয়েছ ভালো কথা। দেশে টাকা পাঠাও, নিজের প্রয়োজনীয়তা সারো।

-সেতো সারবোই, আপনি কিছু খাবেন টাবেন না?

-কি যন্ত্রনা! আমি কি না খেয়ে আছি নাকি?

-ভাই, ভাই, আপনি আমাদের সবকিছু। আপনার সাহায্য সহযোগীতা নিয়েই তো চলতে হবে। একটু লক্ষ্য রাখিয়েন ভাই। ……………………।

ও এই কথা! চকিতে বুঝে গেলাম আসলে ও কি বলতে চাইছে? যে দেশে আছি সে দেশে এ ধরনের প্রপোজালের সাথে আমরা পরিচিত নই। তবে দেশের কথা তো আর একেবারে ভুলে যাইনি। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নও নই। তবু ধাক্কাটা সামলাতে বেশ কিছুটা সময় লাগলো।

ওকে দোষ দেই না। এটা আমাদের যাকে বলে একেবারে কালচারে মিশে গেছে। আর এই একটা কালচার(!) আমাদের রসাতলে নিয়ে যাচ্ছে। পয়সা ছাড়া কেহ একপা নড়তে চায় না। উপকারিতা, সহযোগিতা এসব আবার কী, পয়সা ছাড়া? সহযোগিতা করবো না কখনো বলেছি নাকি? টাকা দাও, সহযোগিতা অবশ্যই করবো। সোজা সাপটা জবাব এসে যায় আজকাল। এ ছেলেটার দোষ এটুকুই, সে মাত্র দেশ থেকে এসেছে। যে পরিবেশে তার প্রতিনিয়তঃ উঠবস ছিল। এখানে সে তারই প্রয়োগ ঘটাতে চেয়েছে। আমি তার এতটুকু দোষ দেইনা।

দোষ আমাদের। আমাদের কর্তা ব্যক্তিদের। যারা আমাদের লিড দিচ্ছেন।

এই যে আমি, এখানে বড় বড় (!) কথা লিখে যাচ্ছি, এ ধরনের কথা তো আমার লিখার কথা না। আমার আরও খুশি হবার কথা, এমন একটা প্রস্তাব আমার সামনে আসার জন্য। কেননা এই আমিও তো সেই একই দেশের লোক। তাহলে কেন আমি আজ একে খারাপ দৃষ্টিতে দেখছি? আমি কি সাধু সন্যাসি? মহামানব ধরনের কোন কিছু? তা তো নই। তাহলে? আমার ভিতরকার এই পরিবর্তনটা কে তৈরি করলো?

কিছু নিয়ম কানুন, কিছু ধর্মীয় বিধিনিষেধ, সামাজিক পরিবেশ, আর সবচেয়ে বড় কথা আইনের শাসন। এখানে যে আইনের শাসনটা আছে আমাদের দেশে তা নেই। আর এখানেই আমাদের লিডারদের ব্যর্থতা। সর্বস্তরে ঘুষ বানিজ্য, অবৈধ ইনকাম চলছে বেশুমার।

এই দেশে কি অসাধু লোক নেই? কেহ কি তাহলে ঘুষ বা অবৈধ ইনকাম করে না? আছে এবং করে। তবে যে করে সে ভালো করেই জানে, ধরা খেলে রক্ষা নেই। আর এখানেই এদেশের সাথে আমাদের দেশের পার্থক্য। এরা করে হাতে গোনা কয়েকজন এবং তা অত্যন্ত গোপনে। আর আমরা করি মামা চাচা খালু মিলে সপরিবারে এবং প্রকাশ্যে।

ধোঁকা দিয়ে কিছু অর্জন করা, ঠেকিয়ে কিছু আদায় করতে পারা বা কৌশলে প্রাপ্যতার চেয়ে বেশী কিছু নিতে পারাটাকে আজকাল মন্ত্রী এমপি থেকে শুরু করে সাধারন মানুষ পর্যন্ত সকলে একটা বাহাদুরী বলে মনে করে। মনে করে এ আমাদের অধিকার। এ যে অন্যায়, গর্হিত একটা কাজ, এই সেন্সটুকুও আমাদের নেই।

একটা সুস্থ্য জাতি হিসাবে এমন তো হবার কথা নয়! তাহলে? কেন হচ্ছে এসব? উপর থেকে নজরদারীর, শেখানোর মত, দেখানোর মত কেউ নেই বলে।

এভাবেই কি চলবো আমরা? দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে অন্তহীন অন্ধাকার পথে??

পরিবর্তন হবে কি আমাদের? কবে??

আমি দিকনির্দেশনা দিতে পারবো না। সেই অধিকার বা ক্ষমতা আমার নাই। তবে ভালো কে ভালো, আর খারাপকে খারাপ বলে চেঁচামেচি করে লোকেদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবো নিঃসন্দেহে।

চারিদিকে এত চাপ চাপ কালো অন্ধকারের মাঝে এটুকু দৃষ্টি আকর্ষণও যদি কারো করতে পারি সেই বা কম কিসে?
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×