somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘সামান্য যানজটে পড়েই গুলি চালান সাংসদপুত্র রনি’ -বিডিনিউজ২৪

১২ ই জুন, ২০১৫ রাত ১১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাজধানীতে গভীর রাতে গুলিবর্ষণে দুজন নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার সাংসদপুত্র বখতিয়ার আলম রনি সামান্য যানজটে পড়ে উত্তেজিত হয়ে গুলি চালানোর কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

রনি নিজের লাইসেন্স করা বন্দুক দিয়ে গুলি ছোড়েন বলে ‘স্বীকার করেছেন’ জানিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দীপক কুমার বলেন, “গুলিতে কেউ মারা গিয়েছিল কি না তা তার (রনি) জানা ছিল না। তাছাড়া তাকে যে পুলিশ শনাক্ত করতে পারবে সেটিও তার ধারণায় ছিল না।”

গোয়েন্দা পুলিশের এসআই দীপক বলেন, “নেশাগ্রস্ত থাকায় সে উত্তেজিত ছিল। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। তাই সামান্য যানজটে আটকা পড়ে গুলি চালিয়েছে।”

প্রায় দুই মাস আগের এ ঘটনায় গত ৩১ মে গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সাংসদ পিনু খানের ছেলে রনি গুলিবর্ষণের কথা ‘স্বীকার করেছিলেন’ বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানান।

তবে একইসঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার পরদিন ১ জুন তার গাড়িচালক ইমরান ফকির ঘটনা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিলেও সেখানে স্বীকারোক্তি দেননি রনি।

তাই অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করে তাকে চার দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ, যা গত বুধবার থেকে কার্যকর হচ্ছে।

“আদালতেও যেন তিনি গুলিবর্ষণের কথা স্বীকার করেন সেজন্য পুলিশ চেষ্টা করছে,” বলেন এসআই দীপক।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিল রাত পৌনে ২টার দিকে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে একটি কালো রঙের প্রাডো গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে তাতে অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী ও রিকশাচালক আবদুল হাকিম আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তারা।

এ ঘটনায় নিহত হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে ১৫ এপ্রিল রাতে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এরপর ২৪ মে মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে আসার এক সপ্তাহের মাথায় রনি ও তার গাড়িচালক গ্রেপ্তার হন।

ওই রাতে সাংসদপুত্র রনির গাড়িতে আরও তিনজন ছিলেন এবং তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছেন বলে পুলিশ কর্মকর্তা দীপক কুমার জানিয়েছেন।

“তাদের খোঁজা হচ্ছে। মামলায় তাদের সাক্ষী করা হবে,” বলেন তিনি।

তবে তদন্তের স্বার্থে গণমাধ্যমের কাছে ওই তিনজনের পরিচয় জানাতে চাননি এসআই দীপক।

স্বামী হত্যায় গ্রেপ্তার সাংসদের ছেলে রনিকে ‘একবার’ দেখতে গত বুধবার সন্ধ্যায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মিন্টো রোডের কার্যালয়ে উপস্থিত হন নিহত অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলীর স্ত্রী সালমা বেগম।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তার সহযোগিতায় আসামিকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে আমি দেখতে পাই।

“সে এমনভাবে বইসা ছিল, দেখে মনে হইলো মেহমান। সে যে খুনি সেটা বোঝাই যায় না।”

রনিকে সরাসরি দেখলেও তার সঙ্গে কথা বলতে না পেরে আক্ষেপ করেন সালমা বেগম। ‘খুনি’র কাছে তার নিরাপরাধ স্বামীকে হত্যার কারণ জানতে চাওয়ার ইচ্ছা ছিল তার।

সালমা বলেন, “পুলিশ ওকে বুঝতেই দেয়নি আমরা কারা। অবশ্য সে (রনি) হয়তো পরে বুঝতে পেরেছে আমরা কারা; এইজন্য কয়েকবার গলায় ঢোক গিলেছিল।”

তিনিসহ পরিবারের কারো সঙ্গে এমপি পিনু খান বা তার পক্ষের কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না জানতে চাইলে সালমা বলেন, “কেউই যোগাযোগ করে নাই। হাসপাতালে থাইকা আমার স্বামীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেসি। কেউ আমাগো সাহায্যও করে নাই।”

একমাত্র মেয়ের অনেক আগেই বিয়ে হয়েছে জানিয়ে ‘সহায় সম্বলহীন’ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তাগ্রস্ত এই নারী বলেন, “আমি এখন চলুম কেমনে?”
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১৫ রাত ১১:১৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোর্টাল – ২ গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭


তখন বেশ ঠান্ডা পড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের রাত।
বরফ পড়া শুরু হয়নি। মন্ট্রিয়লের রাস্তা জনাকীর্ণ। বাড়ি থেকে বের হলে কো-দ্যেনিশ রাস্তার শেষ প্রান্তে একটা লাইব্রেরি আছে। তার পরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×