somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গুলশান আরার একদিন

১০ ই অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৪:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নামাজ শেষে বারান্দায় বসে কুরান পড়ছিলেন গুলশানারা।আনজাম গেট পেরিয়ে বাড়িতে ঢুকছে- দেখে খুশির ঝিলিক বয়ে যায় তার চোখে মুখে।দরজা খুলে ওকে জড়িয়ে ধরে বুক ভরে শরীরের গন্ধ নেন। কতদিন পর এলো ছেলেটা। নিসঙ্গ একা জীবনে হঠাৎ ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি।খাবারের আয়োজন, আদর-যত্ন, নাস্তা-পানি আর কত কথা জমা তো আছেই।

গুলশানারা প্রকৃতই একলা মানুষ নন। তার স্বামী-সন্তানেরা ইংল্যান্ডপ্রবাসী আর কোলেপিঠে করে মানুষ করা আানজাম জীবিকার সন্ধানে দুরের শহরে।সেখানেই তার সংসার।

দেশ স্বাধীন হওয়ার কিছুদিন পর লন্ডনপ্রবাসী শরাফত আলীর সঙ্গে বিয়ে হয় গুলশানারার। বিয়ের পরই আনজামকে কোলে নিয়ে লন্ডনে পাড়ি জমান তিনি। আনজাম সাহসী-বুদ্ধিমান, তাছাড়া খাঁড়া নাক, ফর্সা রং আর দির্ঘ্যদেহী হওয়ার জন্য সহজেই নজরে পড়তো সবার। প্রতিবেশীরা প্রায়ই বলতো- আপনাদের বড় ছেলেটি পাকিস্থানীদের মতো! আনজামকে নিয়ে গুলশানারার আদিখ্যেতা শরাফত আলীর বাড়াবাড়ি মতে হতো, অন্যদিকে পড়শীদের এই ধরণের মন্তব্য একেবারেই পছন্দ করতেন না। তাই তিনি চাইতেন আনজাম কোন চাইল্ড কেয়ারে থাকুক। এটা নিয়েই তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা এবং শেষ পর্যায়ে পৃথক থাকার সিদ্ধান্ত।ছেলেমেয়ে আর স্বামীকে লন্ডনে রেখে গুলশানারা আনজামকে নিয়ে বাংলাদেশে থাকতে চান। তাই কয়েক বছর পর, কোন এক সন্ধ্যায়, আবার দেশে ফেরত আসেন আনজামকে বুকে নিয়েই।

গুলশানারার তিন ছেলেমেয়ে প্রথম প্রথম মাকে দেখার নাম করে ছুটি কাটাতে বাংলাদেশে আসতো। এখন এরা বড় হয়েছে, তাই ব্যস্ততাও বেড়েছে।তাছাড়া তাদের ছেলেমেয়েরা ছুটি কাটাবার জন্য বাংলাদেশকে একেবারেই পছন্দ করেনা। সময় পেলে ওরা সুইডেন বা অস্ট্রেলিয়া যায়।

আনজাম তার নিজের ছেলে নয়। একাত্তরের যুদ্ধের দূর্দিনে মানুষ যখন বাঁচার তাগিদে ছুটে বেড়াচ্ছিলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়, তখন তরুণী দুইবোন গুলশানারা আর নয়নতারা নিজেদের সম্ভ্রম রক্ষায় লুকিয়ে ছিলো রাতদিন। কিন্তু শেষমেষ একদিন তাদের পাড়ার নুরুদ্দিন মোল্লা ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা পাকিস্থান জিন্দাবাদ বলে নয়নতারাকে ধরে নিয়ে যায়।পুরো যুদ্ধের সময় তার আর কোন খোঁজখবর পাওয়া যায়নি। স্বাধীনতার পর, একদিন ভোরোর আলো আঁধারীতে আধাপাগল নয়নতারা তাদের বাড়ির দরজায় আছড়ে পড়ে। এতোদিন কোথায় ছিলো কিভাবে এলো কিছু বলতে পারেনি।দুদিন পর আনজামের জন্ম দিয়ে মারা যায় সে। সেই থেকে আনজাম গুলশানারার কোলে।

ভীষণ ব্যস্ততা নিয়ে আলুভাজি, সাতকরা-ইলিশ আর শুঁটকী ভর্তা করেছেন তিনি। আনজাম খেতে খেতে বলে- ইস আম্মা! পুরো দুইমাস পর পেট ভরে খাচ্ছি। প্রমোশন হওয়ায় দায়িত্ব বেড়ে গেছে তাই আগের মতো আসতে পারিনা।তোমার হাতের রান্নাও খেতে পারিনা।

চোখে পানি এসে যায় গুলশানারার। কী যে সুন্দর লাগছে ছেলেটাকে। সে জানে গুলশানারা তার মা কিন্তু বাবা কে কখনও জিজ্ঞেস করেনি। আনজাম কি জানে যে সে একজন যুদ্ধশিশু!
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৪:২৪
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোল্ডেন সেপিয়া দিগন্ত এবং ভ্যাঞ্জেলিসের অমর সুর: এক কালজয়ী সমুদ্রযাত্রার মহাকাব্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:০০




গোল্ডেন সেপিয়া দিগন্ত এবং ভ্যাঞ্জেলিসের অমর সুর: এক কালজয়ী সমুদ্রযাত্রার মহাকাব্য


সময়টা যেন হুট করেই থমকে যায়, যখন ইথারে ভেসে আসে সেই অতিপ্রাকৃত সুরের মূর্ছনা। চোখ বন্ধ করলেই মনের ক্যানভাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:২২



ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে
==================================
পিঠ ছুঁয়ে নামা মেঘবরণ তার লম্বা কালো চুল,
তারই মাঝে লুকিয়ে হাসে একটি সাদা ফুল।
চোখ দুটো তার ডাগর ডাগর, অবাক করা আলো,
দুষ্টুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×