somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষ, মানবিকতা, মহানুভবতা, উদারতা এগুলো সমার্থক শব্দ, বিপরীত শব্দ নয়।

০১ লা নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকল ধর্মের উদ্দেশ্য হলো মানুষের ভিতর লুকিয়ে থাকা বা জেগে ওঠা অন্যায়, অভিচার, পাপ থেকে রক্ষা করে মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট নিজেকে সমর্পন করা বা তাঁর নির্দেশিত পথে চলে পরবর্তী জীবনে সফলকাম হওয়া। সাথে সাথে মানুষের নিজেদের ভিতর লুকিয়ে থাকা প্রভুত্বকে বিসর্জন দিয়ে এক প্রভুর বা সৃষ্টিকর্তার প্রভুত্ব মেনে নেয়া বা স্বীকার করা এবং তদানুযায়ী অন্য মানুষের ক্ষতি-সাধন না করে নিজের কাজকর্ম করা। আমি যতটুকু বুঝি বা মেনে চলার চেষ্টা করি - এটাই ইসলাম ধর্মের মূলকথা।

ইসলাম ধর্মের বিশ্নাসীদের আর একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো - এই ধর্মের মানুষেরা যেটা বিশ্বাস করে সেটা পালন করার চেষ্টা করে তাতে যদি তার জীবন বিপন্নও হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মুসলমানরা নির্যাতিত, নিপীড়িত, লাঞ্জিত কিন্তু যেখানে যে পরিস্থিতি হোক না কেন তারা চেষ্টা করে সেখানে টিকে থাকতে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা আজকের বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠি হিসেবে পরিচিত। একই ভাষা বা সংস্কৃতি এবং চেহারার সাদৃশ্য থাকা সত্বেও একমাত্র ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী বলে এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে মিয়ানমার সরকার তাদের দেশের নাগরিক হিসেবে গ্রহন করেনা। পত্র-পত্রিকায় বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্যাতনের যে ছবি দেখি বা শুনি তা বিশ্বাস করাই খুব কঠিন এবং বেদনাদায়ক। অথচ এই অসভ্য দেশের, না কোন রাজনৈতিক দল বা না কোন মানবাধিকার সংস্থা এই ব্যাপারে কোন জোরালো প্রতিবাদ করে বা নিদেনপক্ষে বক্তব্য বা বিবৃতি দেয়।

এখন সবার কাছে আমার প্রশ্ন- বাংলাদেশে আমরা যারা শান্তির ধর্ম ইসলামের অনুসারী হিসেবে মুসলমান তারা মিয়ানমারের জনগনের মতো অসভ্য হবো???, নাকি ইসলামের আসল শিক্ষা শুধু মুখে না বলে অন্তরে তা ধারন করবো এবং বাস্তবেও তার প্রতিফলন ঘটাবো আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে??

ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার নাসিরনগর উপজেলার রসুরাজ দাস (৩০) নামক এক হিন্দু যুবকের সামাজিক যোগাযোগ পেইজে পবিত্র মক্কা শরীফ নিয়ে একটি আপত্তিকর ছবি পোস্ট নিয়ে ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার নাসিরনগর, সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ১৫টি মন্দির ও শতাধিক হিন্দু বাড়ীঘরে হামলার ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারনে দুই ধরনের ছবিই আমি দেখতে পেয়েছি গতকাল। আমার দৃষ্টিতে দুইটাই অপরাধ, কোনটা কম বা কোনটা বেশী। কারো ধর্ম বিশ্বাসে অাঘাত করা যেমন অন্যায় ঠিক তেমনি এটার উপর ভিত্তি করে কোন সম্প্রদায়ের উপর প্রতিশোধ নেয়া বা নেয়ার ইচ্ছা করাটাও অন্যায়।

আমার ধর্ম বিশ্বাস বা আবেগের জায়গায় কেহ যদি আঘাত করে, তাহলে আমি কি তার পরিবার পরিজন, আত্মীয়-স্বজন বা একই ধর্মের বা জাতের সবার উপর আক্রমন করি বা ধ্বংসের উন্মাদনায় মাতবো? আমি অবশ্যই প্রতিবাদ করব, প্রয়োজনে মিছিল-মিটিং করবো, গ্রেফতারের দাবী জানাব এবং দেশের আইন অনুযায়ী বিচার চাইব। আবার এর প্রতি উত্তরে পুলিশ অজ্ঞাতনামা কয়েক হাজার লোকের নামে মামলা দেয়ার কারনে যদি সাধারন মানুষ হয়রানির স্বীকার হতে হয়, এটাও কোন মতে সমর্থনযোগ্য নয়।

বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ বলে এখানে বিভিন্ন ধর্ম বা সংস্কৃতির লোকজন পাশাপাশি দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছে এবং আমাদের ঐতিহ্যই হচ্ছে পারস্পরিক সহমর্মিতার সাথে বসবাস করা। এক একজনের ধর্ম বিশ্বাস এক একরকম হতে পারে কিন্তু আমরা যখন ক্রিকেট খেলার আনন্দ বা কোন কনসার্টের আনন্দ বা কোন উৎসবের আনন্দ উদযাপন করি বা উপভোগ করি তখন আমরা সবাই এক, এক আমাদের দেশ, নাম তার বাংলাদেশ। আর ইসলাম ধর্ম শুধু এই দেশেই নয় বরং সারাবিশ্বে প্রসারিত হয়েছে এর উদার মানবিকতা আর মানুষে মানুষে কোন ব্যবধান নাই -এই সাম্যের মহাবানীর কারনে।

মনে রাখবেন আজ যার মসজিদ বা মন্দির ভাঙ্গছেন সে ভিন কোন দেশের লোক না, সে আপনারই ভাই বা আপনারই প্রতিবেশী। তার সাথে কথায়, চেতনায়, বিশ্বাসে, দর্শনে ভিন্নতা থাকতে পারে কিন্তু মনের উপর যে আঘাত করছেন তা সহজে পূরন হবার নয়। আর কোন ধর্মই কাউকে আঘাত করে বা কারো উপসানালয় ধ্বংস করে এগুতে পারেনা, ইসলাম ধর্ম তো নয়ই। কারন কাউকে কষ্ট দিয়ে হয়ত সাময়িক নিজের পশুত্বের উল্লাসই প্রকাশিত হয় কিন্তু মানবতা বা মহানুভবতার পরাজয়ই ঘটে। আসুন আমরা সবাই যেন ইসলামের মূল শিক্ষা নিজে গ্রহন করতে পারি আর সে অনুযায়ী শান্তির সুবাতাস চারদিকে ছড়িয়ে দিতে পারি। সবাইকে ধন্যবাদ।

মোঃ শওকত হোসেন বিপু
৩১.১০.২০১৬
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৪৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একান্ত ভাবনা

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪০

একবার রিয়েক্টর ফিজিক্স ক্লাসে আমাদের একজন শিক্ষক বলেছিলেন, "এই দেশে আসলে সবাই সবার সঙ্গে বাটপারি করে।" কথাটা শুনে প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু যতদিন গেছে, চারপাশটা যতটুকু দেখেছি, ততই মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×