somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জাতির বোঝা
আমি জাতির বোঝা। তবে আমাকে আপনি জাতির ভাতিজাও বলতে পারেন। জাতির কোন উপকার করছি কিনা জানি না। জাতির থেকে কোন উপকার পাইনি এটা বলতে পারি।

ভিভিআইপিরা না চাইলেও হেল্থ চেক আপ করতে বিদেশে যেতে বাধ্য।

০৪ ঠা আগস্ট, ২০১৮ সকাল ৮:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রায়ই একটা হতাশার খবর পত্রিকায় আসে।

খবরটির শিরোনাম অনেকটা এই রকমঃ “সিঙ্গাপুরে চেক আপ করাতে গেলেন রাষ্টপতি” কিংবা “সর্দি লাগায় রাষ্ট্রপতি লন্ডনে যাচ্ছেন চেক আপ করতে”।

আমরা যারা আমজনতা কিংবা জ্যাকফ্রুট পিপল অথবা ম্যাঙ্গো পিপল তারা হয়তো মনে করি, রাষ্ট্রপতির সর্দি মনে হয় খুব কঠিন একটি রোগ যেটার চিকিৎসা এই সোনার বাংলাদেশের করা সম্ভব নয়। কিংবা রাষ্ট্রপতির চেক আপ কি এতোই কঠিন বিষয় যে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ ছাড়া করানো যাবে না। আমরা নাদান না লাকায়েক বলে এই সব চিন্তা ভাবনা করি। কিন্তু বাস্তবতা বড়ই ভিন্ন ও খুবই কঠিন।

বাংলাদেশে সর্দির চিকিৎসা আছে। এমন কি অনেক বড় বড় ধনী ব্যক্তিদের চেক আপও করা সম্ভব।
তাহলে উক্ত ভিআইপি মহোদয় কেন সামান্য চেক আপ কিংবা সর্দির হিস্টাসিন কিনতে লন্ডন ফন্ডনে উড়োজাহাজ হাঁকিয়ে বেড়ান??
এটি একটি কোটি টাকা দামের প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের সামান্য উত্তর দেয়ার জন্য আজকের এই আয়োজন।

সাধারণ হেলথ চেক আপে সাধারণ নীচের কর্মগুলো করা হয়। আরো দুই একটি কর্ম বেশীও করা হতে পারে ( সহ ব্লগার ডাক্তারগণ ভালো বলতে পারবেন।)ঃ
A typical medical exam / consultation / check-up can include:
• Height / weight check
• Blood pressure check
• Cholesterol level check
• Blood sugar test
• Throat check
• Ear check
• Eye check
• Electrocardiogram (for those at a higher risk of heart disease)
• Chest x-ray (for heavy smokers)

এই কাজগুলো করার জন্য বিদেশে যাবার আদৌ কোন প্রয়োজন আছে কি? এই কাজের জন্য বিদেশে যেতে যেই পরিমাণ টাকা খরচ হয় সেই পরিমাণ টাকা দিয়ে মাউন্ট এলিজাবেথ এর ডাক্তারকে ২ দিনের জন্য বাংলাদেশে ভাড়া করে এনে আরো ১০ জনের চেক আপ করানো সম্ভব। কিংবা ঢাকার বড় বড় ক্লিনিক যেমন শিকদার, স্কোয়ার, অ্যাপোলো, এমন কি সিএমএইচ এ করানো সম্ভব। খুবই সম্ভব।


এখন কথা হচ্ছে- এই কথা কি ভিভিআইপি মহোদয় জানেন না?

তিনি অবশ্যই জানেন। কিন্তু তিনি যেতে বাধ্য। কেননা, এই সব চেক আপের সফরে জড়িত থাকেন অনেক সামরিক, বেসামরিক আমলা। এই সরকারী সফরে ডজন খানেক লোক সফর সঙ্গী হয়ে থাকেন। যেমন- রাষ্ট্রতির, সচিব, প্রেস সচিব, এডিসি, বেয়ারা, ব্যক্তিগত চিকিৎসক, পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের উপসচিব, সহকারী সচিব, প্রটোকল সচিব, পিয়ন, বেয়ারা, ডিজি এফআই এর কর্তারা, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দার কর্তারা এবং আরো অনেক হোমরা চোমরা। এই সব কর্তারা চেক আপ সফরে সরকারী বেতন ভাতা ছাড়াও এই সময় বিমানভাড়া, হোটেল ভাড়া, পকেট খরচ ইত্যাদির জন্য দিনে প্রায় ৫/৭ শত মার্কিন ডলার লাভ করেন সরকারী তহবিল থেকে। চেকআপ করতে সময় লাগে বড় জোর ২ ঘন্টা। এই সময় রাষ্ট্রপতির সাথে ২/১ জন লোক থাকেন। বাকিরা ধুমছে সরকারী টাকায় প্রমোদ ভ্রমন, শপিং চালায় ধুমসে। এই রকম একটি চেকআপ সফরের জন্য রাষ্ট্রের কম করে হলেও ১০/১২ কোটি টাকা খরচ হয়। এই টাকার জোগান দেয় কৃষক, শ্রমিক, জনতা।

এই সফরের সময় স্থানীয় বাংলাদেশে দূতাবাস মহাব্যস্ত হয়ে পড়ে। সরকারী টাকায় রাষ্ট্রদূত মহোদয় তাদের জন্য ভুড়ি ভোজের আয়োজন করেন।

তাই বলছিলাম কি, রাষ্ট্রপতি না চাইলেও তাকে চেক আপের জন্য বিদেশে যেতেই হবে। কেননা, তিনি যেতে বাধ্য।
সামরিক বেসামরিক আমলাদের ভ্রমণ বিলাস বন্ধ করতে পারবেন এমন কোন রাষ্ট্রপতির জন্মই এই রাষ্টে এখনো হয়নি। ভবিষ্যতে যদি হয় সেটা ভবিষ্যতের বাংলাদেশ ও সেই সময়ের নাগরিকদের মহাভাগ্য বলেতে হবে।

এই লেখাটি আমাদের প্রতিবাদী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করলাম। তোমরা যদি পার এই জাতির আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনাচার, অপব্যয় বন্ধ করার দাবি তোল।

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১৮ সকাল ৮:৫১
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মুমূর্ষু কবিতা

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১১



আমি আর কবিতা লিখব না বলেও
লিখে ফেলি একটি মুমূর্ষু কবিতা–
জন্ম নেয়ার আগেই যারা অবিরাম
মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, লাথি মারছে
পদ্যের চিরায়ত চোয়ালে !
পঙক্তিতে পঙক্তিতে পথ হেঁটে
প্রচণ্ড পিপাসায় আমি পান করি
কবিতার স্নিগ্ধ জল; আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ এসেছে শরৎ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



শরৎ-প্রাতে শিউলি ঝরা ক্ষণে
দিবাকর ছড়ায় হাসি।
দিঘির জলে রক্তিম পদ্ম
ফুটেছে রাশি রাশি।

ছাতিম গাছের নিভৃত নির্জনে
সবুজ পাতার ঘ্রাণ।
সুখ আহ্লাদে ডাকছে নিসর্গ
উচাটন মন প্রাণ। 

স্নিগ্ধ  বাতাস দোলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×