somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাহাঙ্গীর ফিরোজের ৩ টি কবিতা

০৭ ই জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৫:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধিক শতধিক
জাহাঙ্গীর ফিরোজ

আলখে খুব ধীরে আস্তে আস্তে নিঃশব্দ পতন
অজান্তে অভ্যস্ত দর্পণে বদলে যায় কাল
চলন্ত ছাদের শীর্ষে চাঁদ উঁকি দেয়
কেশ বিন্যাশে অনভ্যস্ত তবুও কাকই হিপপকেটের শোভা
অচিরাৎ বিধ্বস্ত বিন্যাসে রুমাল কাকই টিসু...
কখন যে কৃষ্ণ কালো অরণ্যে একটা দুইটা শ্বেতাঙ্গ পশম ধীরে
কলনি স্থাপনে মশগুল...
ফ্যাকো শেষে লেন্সের কল্যাণে দেখা গেল
বাহুমূলে, বক্ষে ও নি¤œাঙ্গব্যাপিয়া
উপনিবেশের দুর্দান্ত প্রতাপ চালছে
এজিং নিবারক বিজ্ঞাপন, গ্রাফটিং করা মস্তকের শোভা
হোভিংয়ের মেয়েছেলে, পথপাশে বাকবাকুম ছবি
এসব দেখেনি যুবা সিঁড়ির স্বপনে বিভোর
চড়াই পথের শিরে চোখ ছিল। সূর্য নামে
জীবনের ঢালু পথে ক্ষয়। ডাইংয়ের অনুদান
ঢেকে রাখা ছাদ। তবুও যে ভেঙে পড়ে ধীরে ধীরে
সচল অর্থনীতি জীবনের। রাতের পূর্বাভাস বিকেলের রোদে
যৌবন শ্যামসম ছিল, রাধিকাও ছিল
গোপিনীরা আশে পাশে...
যে জন না বোঝে তর ধিকশত ধিক!

মন
জাহাঙ্গীর ফিরোজ

বলেছিলাম না সময় ভেঙে পড়বে
শূন্যের কোঁপা থেকে ফুল...
এক অজানা সত্যের সন্ধানে মন
যতদূর যেতে পারে
তারও ওপারের দৃশ্যাবলী
কী ভাবে ধারণ করে যন্ত্রসকল?
দেখা অদেখার পাশে যে গড়েছে পুল
সে ও আমাদের বোধগম্য বর্ননায়
বানিয়েছে বোধের অকূল
জেনেছি একক টানে ভরের অদূরে
ভরহীন শূন্যতা ছিঁড়ে
একদিন সময়ের ছিলা শব্দহীন
বিদীর্ণ টংকারে ছিন্ন হবে।
তখন তোমার খেয়াতরী
এখন তোমার দূর স্বপ্ন অভিলাষ
হে মানুষ, যে রচিবে
তাঁর প্রতি নতজানু হও এই বেলা।
সকল খেলার শেষে অশেষ মুখের দিন
সকল চাওয়ার শেষে অশেষ দুখের দিন
বিশ্বাসী মানুষের আশ্রয় আর টিকেথাক
তবু ঐশী বাণীতে অবজ্ঞা রেখে
অহেতুক দিকভ্রান্ত শূন্যচারিতা
মানুষকে যতদূর দিয়ে যেতে পারে?
তার চেয়ে আর দূর সত্যের কাছাকাছি
বিশ্বাসী মানুষের মন বলে দিতে পারে।

ব্রতী
জাহাঙ্গীর ফিরোজ

শতশতাব্দী বরফের নীচে ঢাকাছিল মেঘের ব্রতী
গ্লেসিয়ার গলে রুদ্ধপ্রাকার থেকে মুক্তি পেয়ে সতী
পাহড়ের ঢালে নেচে নেচে নূপুর খুলে সে
সমতলে এসে নদী।
মেঘ যায় উত্তরে
নদী নেমে আসে দক্ষিণে
লবনের ঘ্রাণে?
মেঘ জানে হিমবাহে জানে
নদী জানে পর্বত জানে
সাগরের মানে
সাগর তোমার চোখে
অশ্রুর একটি ফোঁটাতে
কত শতাব্দীর আনন্দ-বেদনায়
বন্দি হয়ে আছে?
হে নারী পয়োধি নালাম্বুরাশি নোনাজল
তুমি নদী ধুমযোনি নীলগিরি
অভ্র দিয়াড়ি ঝরনার জল
ঝোড়ো হাওয়া তরঙ্গ কল্লোল।
তুমি গিরিবালা বজ্র পানি গঙ্গা যমুনা
প্রখর দুপুরে বটছায়া
মাটির কলসে রাখা জল
তুমি নদী হয়ে মেঘ হয়ে
আলোর প্রপাত হয়ে
বায়ু হয়ে বর্ষা প্লাবন হয়ে
খরা হয়ে মায়া মরীচিকা হয়ে
অনন্ত প্রবাহে বয়ে চল।
তুমি ঘুম তুমি মৃত্যু তুমি জাগরণ
তুমি গতি তুমি সতী তুমি পূণ্যধাম
তুমি তাঁর ইচ্ছার ব্রতী,
তুমি বয়ে চলা নদী জল
প্রাণের মঙ্গল।

কুটুম পাখি
জাহাঙ্গীর ফিরোজ

বিকেল শেষে পাতার ফাকে একটি পাখি
ডাকছিল সে নয়ন জুড়ে কাজল আঁখি
সবুজ পাতা লুকিয়ে রাখে হলুদ দেহ
দেখতে পেল আর কি কেহ?
ওই পাখিটা ছড়ায় একা বিষাদ বাঁশি
বুকের মাঝে লুটিয়ে পড়ে কান্নারাশী।
কোন বিরহ বাঁধলো বাসা বক্ষেতে তার
কণ্ঠে কাল ঝুলছে একা একটি যে হার।
ঐ কুটুমের ডাক শুনেছে কিষান বধু
হাড়িতে চাল বাড়বাড়ন্ত মাঁচায় কদু
ঝিঙে ফুলের মাথায় বসে কোন্ ভোমরা
ঐ পাখিটার নাম কি জান আজ তোমরা?
পাখির ডাকে কুটুম আসে সাঁঝ বিকেলে
মোরগ ধরে রাধতে হবে এই ধারনা নয় সেকেলে।
বিকেল শেষে পাতার ফাঁকে একটি পাখি
কুটুম এলো কুটুম এলো যায় যে ড
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৫:০৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×