somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেবদূতের নগর ভ্রমণ

১৯ শে জুন, ২০০৬ সকাল ১১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একদিন গভীর রাত্রিতে স্বর্গ হইতে এক দেবদূত আমাদের এই "ধনধান্যে পুষ্পে ভরা " বসুন্ধরার সকল দেশের রাণী বাংলাদেশের দুর্দশা অবলোকন করিবার নিমিত্তে বন্দর নগরীর বুকে অবতরণ করিলেন । কিন্তু বিধি বাম ! দেবদূত যেই স্থানে ল্যান্ড করিলেন সেই স্থান ছিলো বস্তুত ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল ! সীসাময় বিষাক্ত বাতাস হইতে রক্ষা পাইতে মুখে মাস্ক পড়িয়াছিলেন বলিয়া অন্ধকারে দৃষ্টিভ্রম ঘটিয়াছিলো। তাই আর শেষ রক্ষা হইলো না। দেবদূত ম্যানহোলের ভিতর ভাসিতে ভাসিতে অবশেষে কর্ণফুলির জেটিতে আসিয়া পড়িলেন । দেবদূত এক মাছের ট্রলারে উঠিবার চেষ্টা করিলেন । জেলেরা মুথোশ পরা দেবদূতকে চোর মনে করিয়া আচ্ছামতো উত্তম-মধ্যম দিয়া ছাড়িয়া দিল । দেবদূত ছিন্নবস্ত্ররক্তাক্ত শরীর লইয়া রাস্তায় আসিয়া দাড়াঁইলেন । তখন দেখা দিলো নতুন বিপত্তি । কোথা হইতে চকিতে দুই মহিলা আসিয়া তাহার দুই হাত ধরিয়া টানিতে লাগিলেন । তাহাদের টানাটানিতে দেবদূতের প্রাণ ওষ্ঠাগত হইবার জোগাড় হইলো । ইতিমধ্যে সৌভাগ্যক্রমে কোথা হইতে এক পুলিশ ভ্যানের আগমন ঘটিল । মহিলাদ্্বয় তড়িত দেবদূতকে ধাক্কা মারিয়া অশ্ললীল গালি পাড়িতে পাড়িতে মুহুর্তের মধ্যে উধাও হইয়া গেল । দেবদূত টলিতে টলিতে মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়িয়া গেলেন । এক পুলিশ কাছে আসিয়া দেবদূতকে মাতাল মনে করিয়া পাছায় কষিয়া এক লাথি ঝাড়িল । অতপর তাহাকে চ্যাংদোলা করিয়া হিন্দী ছবির স্টাইলে পিক আপের ভিতর ছুড়িয়া ফেলিল । দেবদূতের সমস্ত হাড়গোড় মড়মড় করিয়া উঠিল ।

আরো অনেক লাথি-গুঁতা, কিল-চাপপর মারিবার পর তাহাকে থানার ওসির সামনে হাজির করা হইলো । ওসি কিয়তক্ষণ নিরীক্ষণ করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন-
ঠিক করিয়া বল, তুই চোর না মাতাল?
দেবদূত কহিলেন, আমি দেবদূত ।
ওসি বিচক্ষণ হাসি দিয়া কহিলেন, আই সি! ব্যাটা তাহলে গুপ্তচর ! কার ? বুশ না লাদেনের ?
দেবদূত বোকার মতো কহিলেন, আমি কৃষ্ণের দূত ।
কৃষ্ণ ! মানে- লাল কৃষ্ণ আদভানি ? তা কার কাছে পাঠাইয়াছেন, সরকারী না বিরোধী দলের কাছে?
তিনি আমাকে সাধারণ মানুষের কাছে পাঠাইয়াছেন ।
মাই গুডনেস ! পাবলিক ডিলিংস ! ভেরি ডেঞ্জারাস ! এই সেন্ট্রি, ব্যাটাকে 14 নাম্বার সেলে ঢুকিয়ে দড়ি দিয়ে বাঁধ । আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফোন লাগাই ।

দেবদূতকে দড়ি দিয়া শক্ত করিয়া চৌকির সহিত বাঁধা হইলো । আপাদমস্তক দড়িবেষ্টিত হইয়া দেবদূত উদাস নেত্রে এমনভাবে ছাদের দিকে তাকাইয়া রহিলেন, যেন এখনি ছাদ ভেদ করিয়া স্বয়ং কৃষ্ণ দেথা দিবেন । কিন্তুদেবদূত তো আর দ্রৌপদী নহেন যে "কৃষ্ণ ডাকিবামাত্রহাজির হইতে বাধ্য থাকিবেন "। অধিকন্তুকৃষ্ণ তথন বৈকুনঠে প্রেমলীলায় মত্ত । তাই দেবদূত কৃষ্ণের দেখা পাইলেন না । ইত্যেবসরে ওসি সাহেব এক মস্ত বড় তেল চকচকে ডান্ডা লইয়া প্রবেশ করিলেন । সেই ডান্ডা দর্শনে দেবদূত জ্ঞান হারাইলেন, ওসির সাগরেদের হাতে কি ছিলো তা আর দেথিবার অবকাশ পাইলেন না ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্ভীক অভিযাত্রা

লিখেছেন আকিব হাসান জাভেদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩

আমি চলি ঐ প্রান্তে,
যেখানে অসৎ থেকে মানুষ হয়েছে সৎ।
আমি চলি উড়ে উড়ে,
ডানাহীন পাখির মতো,
যেখানে দুর্বলতাকে জয় করে
হয়েছে দুঃসাহস।
আমি চলি শক্তির সাথে,
দেহ যায় না ঝুঁকে।
করি না প্রণাম,
করি না চাটুকারিতা আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তবুও বেঁচে আছি

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:১৫

এই নিথর নগ্ন শরীরের প্রতিটা পল্লবের করুণ আর্তচিৎকার
পৃথিবীর মাটি ভেদ করে কোনদিনও
ওই মৃত কানে পৌঁছাবে না
আমি জেনে গেছি ।

বিপন্ন আকাশের গায়ে লেপ্টে থাকা
দেবতাদের প্রতারণার ফাঁদ আর মিথ্যা প্রলোভনের গল্পগুলি
আমার শুনতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৩



জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

১৫ আগস্ট আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম জুলাই মিউজিয়ামে। সেখানে গিয়ে মনে হলো- এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের বিরুদ্ধে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×