somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টাকার টাক-টাই দিলি (রম্য)

৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৮:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পাত্রীর দাবী একটাই, বরের মাথায় চুল থাকা চাই। এই সত্যটি উপলব্ধি করতে আমাদের ভুলু ভাইয়ের প্রায় তিন বছর লেগেছিল। তাতে লাভ (!) যা হলো তা হচ্ছে- উনার স্টেডিয়ামটা ফ্লাড-লাইট ছাড়াও টুয়েন্টি ফোর আওয়ার চকচক করতো। ভুলু ভাইয়ের ছিলো অসাধারণ এক কন্ঠ যা আমরা রীতিমত হিংসে করতাম। এই দুর্দান্ত কন্ঠের সুবাদে তিনি অনেক ললনাকেই ফোনে পটাতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু তার কোন মোবাইল-প্রেমই শেষ অব্দি পূর্ণতা পায়নি ওই চকচকে টাক মাথাটির জন্য।

একবার মিলি নামে এক মেয়ের সাথে প্রায় দীর্ঘ এক বছরের ফোনালাপ কিংবা প্রেমালাপের যবনিকা টানতে সিদ্ধান্ত হলো উনারা দেখা করবেন। ভুলু ভাই আমাদের কাছে আসলেন পরামর্শ নিতে কি করে উনার পঞ্চম প্রেমটাকে সার্থক পরণতি দেয়া যায়। একজন পরামর্শ দেয় তো পরচুলা লাগাতে আরেকজন হেয়ার প্লান্টেশন করতে, আরেকজন পত্রিকা নিয়ে আসে কোথায় যেন এক সপ্তাহের মধ্যে টাক মাথায় বাম্পার চুলের ফলনের নিশ্চয়তা দেয়া আছে। কিন্তু এসব কিছুই ভুলু ভাইয়ের পছন্দ হলো না। প্রথমত তিনি মিথ্যা অভিনয় করতে পারবেন না- দ্বিতীয়ত সার্জেন্টের নাম শুনলে তিনি একটু হৃদকম্প অনুভব করেন সে অর্থোপ্যাডিক হোক কিংবা পুলিশ সার্জেন্টই হোক- তৃতীয়ত বাম্পার হেয়ার ফলনের চেষ্টায় ইতিমধ্যে তিনি একবার তার চুলের এক-তৃতীয়াংশ হারিয়েছেন, ন্যাড়ারই দুইবার বেলতলায় যাওয়ার কোন কারণই নেই। অতএব, ভুলু ভাইকে বেশ কিছু দোয়া-দরুদের উপর ভরসা করেই পাঠানো হলো মোবাইল প্রেমিকার কাছে।

বেশ আগে থেকেই ভুলু ভাই এক বুক ধুকপুক নিয়ে ওয়েট করছিলেন। বুদ্ধি করেই মাথায় একটা টুপি চাপিয়ে গিয়েছিলেন। মিলির সাথে দেখা হলো। কথা বিনিময় হলো, বিস্তারিত পরিচয় বিনিময় হলো। ভুলু ভাইয়ের সাথে আড্ডাও বেশ জমে উঠলো। এবার বুঝি সত্যিই ভাগ্যের শিঁকে ছিড়তে যাচ্ছে! উত্তেজনায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেস্টুরেন্টেও ভুলু ভাইয়ের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে লাগলো। একসময় মিলি ব্যাপারটা খেয়াল করে বললো, আরে তুমি তো একেবারে ঘেমে গেছো, এক কাজ করো- টুপিটা খুলে রাখো। কথাটা শুনে ভুলু ভাইয়ের হৃদপিন্ড যেন তড়াক করে লাফ দিয়ে উঠলো। তিনি বললেন- না না, আমি ঠিক আছি। এই বলে রুমাল দিয়ে ঘাম মুছলেন। কিন্তু মিলি নাছোড়বান্দা, কোন অনুরোধই শুনবে না। অবশেষে ভুলু ভাইকে টুপি খুলতেই হলো। টুপি খুলতেই মিলির চোখ তো ছানাবড়া। অ্যা-মা তুমি তো দেখি একেবারে জয়সুরিয়া। ভুলু ভাই মনে মনে একটু খুশি হয়ে উঠলেন। এরপরই মিলি বললো- না বাবা, টাক মাথার কোন ছেলেকে আমি বিয়ে করতে পারবো না। সবাই আমাকে বলবে- টাকলুর বউ। ওফ নো! আর ভাবতে পারছি না। আমি গেলাম। ভুলু ভাইকে আরেকটা দীর্ঘশ্বাস উপহার দিয়ে হনহন করে সে বেরিয়ে গেলো।

ভুলু ভাই একা একা বসে আফসোস করতে লাগলেন- টাকা-র 'টাক' টাই দিলি 'া' দিলি না মা!


** শুধুই রম্য, কেউ আহত হলে ক্ষমাপ্রার্থী ।

(চলবে?)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×