পাত্রীর দাবী একটাই, বরের মাথায় চুল থাকা চাই। এই সত্যটি উপলব্ধি করতে আমাদের ভুলু ভাইয়ের প্রায় তিন বছর লেগেছিল। তাতে লাভ (!) যা হলো তা হচ্ছে- উনার স্টেডিয়ামটা ফ্লাড-লাইট ছাড়াও টুয়েন্টি ফোর আওয়ার চকচক করতো। ভুলু ভাইয়ের ছিলো অসাধারণ এক কন্ঠ যা আমরা রীতিমত হিংসে করতাম। এই দুর্দান্ত কন্ঠের সুবাদে তিনি অনেক ললনাকেই ফোনে পটাতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু তার কোন মোবাইল-প্রেমই শেষ অব্দি পূর্ণতা পায়নি ওই চকচকে টাক মাথাটির জন্য।
একবার মিলি নামে এক মেয়ের সাথে প্রায় দীর্ঘ এক বছরের ফোনালাপ কিংবা প্রেমালাপের যবনিকা টানতে সিদ্ধান্ত হলো উনারা দেখা করবেন। ভুলু ভাই আমাদের কাছে আসলেন পরামর্শ নিতে কি করে উনার পঞ্চম প্রেমটাকে সার্থক পরণতি দেয়া যায়। একজন পরামর্শ দেয় তো পরচুলা লাগাতে আরেকজন হেয়ার প্লান্টেশন করতে, আরেকজন পত্রিকা নিয়ে আসে কোথায় যেন এক সপ্তাহের মধ্যে টাক মাথায় বাম্পার চুলের ফলনের নিশ্চয়তা দেয়া আছে। কিন্তু এসব কিছুই ভুলু ভাইয়ের পছন্দ হলো না। প্রথমত তিনি মিথ্যা অভিনয় করতে পারবেন না- দ্বিতীয়ত সার্জেন্টের নাম শুনলে তিনি একটু হৃদকম্প অনুভব করেন সে অর্থোপ্যাডিক হোক কিংবা পুলিশ সার্জেন্টই হোক- তৃতীয়ত বাম্পার হেয়ার ফলনের চেষ্টায় ইতিমধ্যে তিনি একবার তার চুলের এক-তৃতীয়াংশ হারিয়েছেন, ন্যাড়ারই দুইবার বেলতলায় যাওয়ার কোন কারণই নেই। অতএব, ভুলু ভাইকে বেশ কিছু দোয়া-দরুদের উপর ভরসা করেই পাঠানো হলো মোবাইল প্রেমিকার কাছে।
বেশ আগে থেকেই ভুলু ভাই এক বুক ধুকপুক নিয়ে ওয়েট করছিলেন। বুদ্ধি করেই মাথায় একটা টুপি চাপিয়ে গিয়েছিলেন। মিলির সাথে দেখা হলো। কথা বিনিময় হলো, বিস্তারিত পরিচয় বিনিময় হলো। ভুলু ভাইয়ের সাথে আড্ডাও বেশ জমে উঠলো। এবার বুঝি সত্যিই ভাগ্যের শিঁকে ছিড়তে যাচ্ছে! উত্তেজনায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেস্টুরেন্টেও ভুলু ভাইয়ের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে লাগলো। একসময় মিলি ব্যাপারটা খেয়াল করে বললো, আরে তুমি তো একেবারে ঘেমে গেছো, এক কাজ করো- টুপিটা খুলে রাখো। কথাটা শুনে ভুলু ভাইয়ের হৃদপিন্ড যেন তড়াক করে লাফ দিয়ে উঠলো। তিনি বললেন- না না, আমি ঠিক আছি। এই বলে রুমাল দিয়ে ঘাম মুছলেন। কিন্তু মিলি নাছোড়বান্দা, কোন অনুরোধই শুনবে না। অবশেষে ভুলু ভাইকে টুপি খুলতেই হলো। টুপি খুলতেই মিলির চোখ তো ছানাবড়া। অ্যা-মা তুমি তো দেখি একেবারে জয়সুরিয়া। ভুলু ভাই মনে মনে একটু খুশি হয়ে উঠলেন। এরপরই মিলি বললো- না বাবা, টাক মাথার কোন ছেলেকে আমি বিয়ে করতে পারবো না। সবাই আমাকে বলবে- টাকলুর বউ। ওফ নো! আর ভাবতে পারছি না। আমি গেলাম। ভুলু ভাইকে আরেকটা দীর্ঘশ্বাস উপহার দিয়ে হনহন করে সে বেরিয়ে গেলো।
ভুলু ভাই একা একা বসে আফসোস করতে লাগলেন- টাকা-র 'টাক' টাই দিলি 'া' দিলি না মা!
** শুধুই রম্য, কেউ আহত হলে ক্ষমাপ্রার্থী ।
(চলবে?)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


