somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুভা কুসুম

২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক.
মডেল স্কুলের পাশে লম্বা চালাঘরটা। দুটো ঘর। একটা ধোপাখানা। অন্যটা নারানকাকুর হোমাপ্যাথী। মালিক রত্তন মোল্লা। লম্বা দোহারা চেহারা। রুটির দোকান ছিল। বন্ধ করে দিয়েছেন। পান খেতে খেতে বলেন- তোমাগো দাদী হলেন গে মোগোলগো মাইয়া। তার একটা উজ্জত আছে না!
একটা খটো মটো টেবিল , একটা নড়বড়ে টেবিল আর পাতা ছেড়া মেটিরিয়া মেডিকা... এই নিয়ে নারান কাকুর হোমাপ্যাথী। রোগী পত্তর নাই। চলে না।
একদিন আরেকটা টেবিল পড়ল অই ঘরে। নারান কাকু বললেন, ভাড়া দিতে অসুবিদা। সাবলেট আর কি। সাবেলেটে ওটা একটা রাজনীতির অফিস। ইউপিপি। ইউনাইটেড পিপলস পার্টি। বেড়ার গায়ে কাজী জাফরের ছবি। আর নয়াযুগ পত্রিকা।রাজনীতির লোকটি মুনসুর মোল্লা। কালো। মুখ গম্ভীর। হাফ শার্ট। মাথায় লেনিন টুপি। পায়ে সাদা কেডস। একদিন বিকেলে আমাদের ঝালমুড়ি খাওয়ালেন। বললেন, কাল ভোর ভোর আসপি।
ভোরেই এসেছিলাম। কিন্তু দেরী হয়ে গেল-খোল খুঁজতে খুঁজতে। খোল পাইতো করতাল পাই না। ততক্ষণে ইউপিপির অফিসের সামনে মুনসুর মোল্লা দ্রুত পায়চারী করছেন। হাতের মুঠো একবার খুলছেন আর বন্ধ করছেন। মাথা ঝাকাতে ঝাকাতে বিরক্তির সুরে বললেন-দেরী করলা ক্যান কমরেড। বিপ্লবের টেরেন কি তোমাগো জন্যি বইসা থাকপি?
ট্রেন বসে থেমেছিল কিনা জানি না। কিন্তু সেদিন আমাদের পাছায় বেতের দাগ বসে গিয়েছিল। প্রভাতফেরীতে আমরা কজন তারস্বরে গাইছি.. মুক্তির মন্দির সোপান তলে... কত প্রাণ হল বলিদান। মুছে যাবে অশ্রুজলে...। কানা কেষ্টোর মতো কি আর গাইতে পারি। আমাদের প্রভাত ফেরীটা লঞ্চঘাটে মোড় নিতেই পল্টা বলল, অই তর ছোটো মামা আইছে। হাতে ঝোলা গুড়। পেছন থেকে লাল ঝান্ডা নিয়ে একটা মিছিল বেরিয়ে গেলো।
আমি কি তখন ঝোলা গুড়ে আছি। মুনসুর মোল্লা বললেন, জোরে জোরে গাও। বিপ্লব আইতাছে। গানের জোরে মুনি সিংয়ের শোদনবাদীগো চাপা দ্যাও। হালাগো জইন্য বিপ্লবের দেরী হইতাছে।
বাড়ী ফিরে দেখি বাবা রেগে মেগে আছেন। পাশে ছোটোমামা। বাবা ঝপাঝপ বেতের বাড়ি মারতে থাকলেন। বললেন- হারামজাদা, তুই রাজাকারদের মিছিলে গিছিলি। রাজাকারের লগে মিছিল করছিস! বললাম- বিপ্লবের মিছিল...। বাবা আরও রেগে গেলেন। বললেন, তর বিপ্লবের পোঙা মারি।
বিজিতেন ডাক্তারের তিন টাকার দাওয়াই আমার পাছার দাগ মুছতে পারনি। আমার বিয়ের বাসররাতে মহা সমস্যা হয়ে গিয়েছিল। বারবার লুকোনোর চেষ্টা করলেও ঠিকই বউয়ের কাছে ধরা পড়ে গেলাম। নতুন বউমুখ ফাটিয়ে বুক ফাটিয়ে বলে বসল- এইডা কি? সে রাতে আমার কোনো ব্যাখ্যাই কাজে দিল না। বিড়ালও মারা হল না। অনেকগুলো রাত কালরাত্রি হয়ে গেল।
বাবা বেত মারতে মারতে হাপিয়ে উঠলেন। নারিকেল গাছের গোড়ায় উবু হয়ে বসে ফোপাতে লাগলেন। ছোটো মামা আমার ছিড়ে যাওয়া প্যান্ট পাল্টে দিতে দিতে বলল- ও হল খুনী। মালেঙ্গার খুনী মুনসুর। একাত্তরে যারা পলাইছিল মালেঙ্গার বিলে তাদের নিজির হাত ব্রাশ ফায়ার করে মারিছে। মালেঙ্গা গ্রামের কোনো হিন্দু ফ্যামিলি এর হাত থিকা রেহাই পা্য় নাই। আওয়ামী লীগের কোনো মুসলমানরেও বাচায়া রাখে নাই। ঘরবাড়ি লুট করছে। জ্বালায়া পুড়ায়ে দিছে। এতদিন পলায়া ছিল।
কি আর করা। স্কুলে পড়তে পড়তে শুনি কমডে কাজী জাফর আহমদ জিয়াউর রহমানের সরকারে শিক্ষা মন্ত্রী হিসাবে যোগ দিয়েছেন। আর মুনসুর মোল্লাও নারানকাকুকে দোকান থেকে বের করে দিয়েছেন। কাকুর সংগতি নেই। এরপর বটতলায় মেটিরিয়া মেডিকা নিয়ে বসলেন। কাজী জাফর তখন জিয়ার দলে যোগ না দিলেও মুনসুর মোল্লা কিন্তু ইউপিপিতে ফিরে এলেন না। তার ট্রেন কিন্তু বসে রইল না। ট্রেনের নাম হয়ে গেল জাতীয়তাবাদী। তখন তিনি আর খুনী মুনসুর না, বিপ্লবী মুনসুর না, কালা মুনসুর। এরপর জিয়া মারা গেলে এরশাদের সংগে। তিনি এখন বিএনপির একটা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×