somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আনন্দ রোজারিও-র কবিতা

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৮:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরিযায়ি গান

আলোর উৎসমুখ যে তুমি হে ধেণু
পিপাসার্ত আমি,পান করাও তোমার কাম্যজল
হরষিত হোক ধূম উদ্গীরণের অগ্নি-
পুনর্বার স্নাত হই

দস্যুচিহ্নিত কোন ভূমি নয়
আমরা যেচে নিয়েছিলাম রাত্রিপ্লাবী ঘৃণা আর
পিতার মুর্খমুখোশ

পাহাড় থেকে যারা ফিরেছিলো ধ্বস্ত ছিল তাদের হস্তযুগল
অক্ষিকোটর থেকে উৎপাটিত তাদের চোখ
ত্রস্তকান্ত আমরা সবাই ছিলাম আয়ূধবিহীন
আমাদের পদতল থেকে একটু একটু করে ভেসে গিয়েছিল
একটি বাশিঁ আর ভেষজের নম্র বিজ্ঞান
তপোবন লুণ্ঠিত বলে আমাদের মাতৃনাম সহসা নিখোঁজ

তোমরা বলেছ বলেই নদীবক্ষ্যে উঠেছে ঘূর্ণি
সহসা ধূলার আড়াল থেকে তবুও সরিয়ে নিয়েছে বস্ত্রাবরণ
সেই প্রথম আমরা জ্ঞাত হই- যৌনতায় কোন গন্ধভেদ নেই
দণ্ডহীন তামসবিকার,হে ধেণু,তারপর
রক্তপাত চলেছে কপট কীড়ায়-নগরে-ধর্মক্ষেত্রে-ঘুমন্ত শিয়রে
তবুও আয়ূষ্মান-তোমরাই কবি,আমরাতো প্রদোষের প্রতিবিম্বগণ

হে ধেণু,পশুচিহ্নিত নখাগ্রে কোন দূরনীরিক্ষ জ্যোৎস্না নয়
তখন চমকিত হয় আত্মহত্যার মতোন যৌনগন্ধী মেঘ
আর আমরা দাড়িয়ে রয়েছি প্রান্তর ছেড়ে খাদের কিনারে
যুযুধান মৃত্যুরহিত

তবুও প্রাণবন্ত করছ হে ধেণু,অবীজি ব্রীহি আর সুপক্ক গোধূমচূর্ণ
খল খল করে বয়ে চলেছে সে কোন খরসান নদী
তীরে তার অরণ্যচারী মৃগদল আর হৃতবান ফলবীথি

নিজেরই ছায়ার ভিতরে শুনছি দ্রিমি দ্রিমি গান
ঝলসিত মাংসে মেশাচ্ছি বহুকাল ধরে
আমাদের আনন্দিত কুন্দকুসুম
হে ধেণু,সে আমার বেদনার বনচর বোন

যতবার দেখেছি তাকে,ততবার অপসৃয়মান পিতা
চতুর্দিক থেকে ভাসিয়ে দিচ্ছেন জায়মান চারটি প্রবল মুখ
আর হাহাকার

হে ধেণু,তৃষ্ণার্ত আমি,যাচমান অন্ধকারে
কুচভারে নত নই,আলোর উৎস ছেড়ে
যে তুমি আমার প্রতীম
আমাকেই উপ্ত করি আমার নিভৃতে





ছায়াপাখি/আনন্দ রোজারিও

এ গান শুনেছি আমি খরসান হাওয়ার ভিতরে
অনন্ত পাখির প্রায় আমিও জেনেছি-
যে সকল পাতা ঝরে পড়ে
নবীন মুকুল এসে ক্ষত সেরে রাখে তার
তবু কেন মনে পড়ো তুমি হে মুরলী মোহন?
রচো কেন গুপ্ত প্রণয়? নিঝুম মধুক্ষরা দিন?

গাছে গাছে বিলাপের ফুল ফুটে ওঠে
তাই আমি ক্ষীণ স্রোতধারা পার হয়ে যাই
অপার পায়ের নীচে সুরভিত পথরেখা
স্তব্ধপ্রায় মুথাঘাস
রথ চলে গেছে বহু দূর
যে গেছে এ পথে আজ তার কোন নাম নয়-
ধুলি ধুসরিত মায়া পড়ে আছে পথের উপরে

এই পথ হ্রস্ব মনে হয়,যদিও সুদূর

পাখি তুমি কোন গান গাও?
কেন তাকে ফিরে ফিরে ডাকো?
যে যায় লাবণ্য বনে সে কি আর ফিরে আসে?

এই হেতু দুপুরের কোনে কোনে
খরসান হাওয়া ওঠে,বারবার ঝরে পড়ে পাতা

কত হাহাকারে পাখি তুমি নিরাকার ছায়া

২৫ জানুয়ারি/২০০৯
পাতাবৃত্যান্ত

আমি পাতাদের লোক।
দুএকটা শোক ছুয়েঁ আছি।
হেঁটে হেঁটে পাড়াগুলো পার হই।
শীর্ণ শীর্ণ পাড়া।ধুলো নেই। বালি নেই।
মর্মরিত ঝরে পড়া নেই।
আকাশের ঘুরে আসা নেই।

দু’একটা পুলিশ সহসা ছুটে আসে।
ঘিরে ধরে বলে- কার বাড়ি যেতে চাও?
শালিকের? ঝিনুকের? চেনা কোনো হাওয়াদের?

খয়েরি পুলিশ চেয়ে থাকে।
গোল গোল চোখ- জ্বলে আর নেভে।
পায়ের পাতার কাছে অন্ধকার ফুসে ওঠে।

আমি পাতাদের লোক।
আলো ভালবাসি।
সবুজের মর্মে জেগে থাকি।
তোমরা তো ছায়াতে বিভোর!

কার পানে যাই?
কোনদিকে ফিরে ফিরে যেতে চাই?
ঠিক মনে নেই।
এখন দুপুর-
ভোর বেলা ডেকেছিলে।

শুধু জানি-
শিশির ভেজানো পথে যারা হেটে যায়,
তাদের পায়ের চিহ্ণ জেগে থাকে ঘাসে।


January 30/09
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিদায় বন্ধু

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৫১

ইফতার করে আজ সন্ধ্যের দিকে একটু হাটতে আর চা খেতে বের হয়েছিলাম। বিগত কয়েকদিনের মতোই গিয়ে দেখি চায়ের রেস্টুরেন্ট আজও বন্ধ। উপায় না দেখে ছোট একটা দোকান থেকে মেশিনে তৈরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডার্ক ওয়েব সংবাদ : অনুসন্ধানী রিপোর্ট

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১২

ডার্ক ওয়েব সংবাদ : অনুসন্ধানী রিপোর্ট এর সত্যতা কতটুকু ?
সাধারণ মানুষ জানতে চায় !




বাংলাদেশ কি বিক্রি হচ্ছে ডা*র্ক ওয়েবে ?
Redlineinvestigation নামে ডা*র্ক ওয়েবের কেবল ফাইলে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট ফাঁস... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান বনাম ইজরাইল আমেরিকা যুদ্ধ; কার কি লাভ?

লিখেছেন খাঁজা বাবা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮



২০০৬ থেকে আহমাদিনেজাদ ইজরাইলকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে, আমেরিকা ২০০২ থেকে ইরানে হামলার প্ল্যান করছে, নেতানিয়াহু ৪০ বছর ধরে স্বপ্ন দেখছেন ইরানে হামলা করার। তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যাবাদী কাউবয় "ট্রাম্প" এবং ইরান যুদ্ধের খবর

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯


দিনের শুরুটা হলো ট্রাম্পের মিথ্যা দিয়ে। তিনি লিখলেন: "ইরানে সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করবে।" পরে জানা গেলো, ট্রাম্প যথারীতি মিথ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার হারিয়ে যাবার গল্প

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:৩২

তোমাকে আমি কোথায় রাখি বলো,
চোখের ভিতর রাখলে
ঘুম ভেঙে যায় বারবার,
বালিশের নিচে রাখলে
স্বপ্নে এসে কাঁদো।

তুমি কি জানো
আমার এই শরীরটা এখন
পুরোনো বাড়ির মতো,
দরজায় হাত দিলেই কেঁপে ওঠে,
জানালায় হাওয়া লাগলেই
তোমার নাম ধরে ডাকে।

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×