পরিযায়ি গান
আলোর উৎসমুখ যে তুমি হে ধেণু
পিপাসার্ত আমি,পান করাও তোমার কাম্যজল
হরষিত হোক ধূম উদ্গীরণের অগ্নি-
পুনর্বার স্নাত হই
দস্যুচিহ্নিত কোন ভূমি নয়
আমরা যেচে নিয়েছিলাম রাত্রিপ্লাবী ঘৃণা আর
পিতার মুর্খমুখোশ
পাহাড় থেকে যারা ফিরেছিলো ধ্বস্ত ছিল তাদের হস্তযুগল
অক্ষিকোটর থেকে উৎপাটিত তাদের চোখ
ত্রস্তকান্ত আমরা সবাই ছিলাম আয়ূধবিহীন
আমাদের পদতল থেকে একটু একটু করে ভেসে গিয়েছিল
একটি বাশিঁ আর ভেষজের নম্র বিজ্ঞান
তপোবন লুণ্ঠিত বলে আমাদের মাতৃনাম সহসা নিখোঁজ
তোমরা বলেছ বলেই নদীবক্ষ্যে উঠেছে ঘূর্ণি
সহসা ধূলার আড়াল থেকে তবুও সরিয়ে নিয়েছে বস্ত্রাবরণ
সেই প্রথম আমরা জ্ঞাত হই- যৌনতায় কোন গন্ধভেদ নেই
দণ্ডহীন তামসবিকার,হে ধেণু,তারপর
রক্তপাত চলেছে কপট কীড়ায়-নগরে-ধর্মক্ষেত্রে-ঘুমন্ত শিয়রে
তবুও আয়ূষ্মান-তোমরাই কবি,আমরাতো প্রদোষের প্রতিবিম্বগণ
হে ধেণু,পশুচিহ্নিত নখাগ্রে কোন দূরনীরিক্ষ জ্যোৎস্না নয়
তখন চমকিত হয় আত্মহত্যার মতোন যৌনগন্ধী মেঘ
আর আমরা দাড়িয়ে রয়েছি প্রান্তর ছেড়ে খাদের কিনারে
যুযুধান মৃত্যুরহিত
তবুও প্রাণবন্ত করছ হে ধেণু,অবীজি ব্রীহি আর সুপক্ক গোধূমচূর্ণ
খল খল করে বয়ে চলেছে সে কোন খরসান নদী
তীরে তার অরণ্যচারী মৃগদল আর হৃতবান ফলবীথি
নিজেরই ছায়ার ভিতরে শুনছি দ্রিমি দ্রিমি গান
ঝলসিত মাংসে মেশাচ্ছি বহুকাল ধরে
আমাদের আনন্দিত কুন্দকুসুম
হে ধেণু,সে আমার বেদনার বনচর বোন
যতবার দেখেছি তাকে,ততবার অপসৃয়মান পিতা
চতুর্দিক থেকে ভাসিয়ে দিচ্ছেন জায়মান চারটি প্রবল মুখ
আর হাহাকার
হে ধেণু,তৃষ্ণার্ত আমি,যাচমান অন্ধকারে
কুচভারে নত নই,আলোর উৎস ছেড়ে
যে তুমি আমার প্রতীম
আমাকেই উপ্ত করি আমার নিভৃতে
ছায়াপাখি/আনন্দ রোজারিও
এ গান শুনেছি আমি খরসান হাওয়ার ভিতরে
অনন্ত পাখির প্রায় আমিও জেনেছি-
যে সকল পাতা ঝরে পড়ে
নবীন মুকুল এসে ক্ষত সেরে রাখে তার
তবু কেন মনে পড়ো তুমি হে মুরলী মোহন?
রচো কেন গুপ্ত প্রণয়? নিঝুম মধুক্ষরা দিন?
গাছে গাছে বিলাপের ফুল ফুটে ওঠে
তাই আমি ক্ষীণ স্রোতধারা পার হয়ে যাই
অপার পায়ের নীচে সুরভিত পথরেখা
স্তব্ধপ্রায় মুথাঘাস
রথ চলে গেছে বহু দূর
যে গেছে এ পথে আজ তার কোন নাম নয়-
ধুলি ধুসরিত মায়া পড়ে আছে পথের উপরে
এই পথ হ্রস্ব মনে হয়,যদিও সুদূর
পাখি তুমি কোন গান গাও?
কেন তাকে ফিরে ফিরে ডাকো?
যে যায় লাবণ্য বনে সে কি আর ফিরে আসে?
এই হেতু দুপুরের কোনে কোনে
খরসান হাওয়া ওঠে,বারবার ঝরে পড়ে পাতা
কত হাহাকারে পাখি তুমি নিরাকার ছায়া
২৫ জানুয়ারি/২০০৯
পাতাবৃত্যান্ত
আমি পাতাদের লোক।
দুএকটা শোক ছুয়েঁ আছি।
হেঁটে হেঁটে পাড়াগুলো পার হই।
শীর্ণ শীর্ণ পাড়া।ধুলো নেই। বালি নেই।
মর্মরিত ঝরে পড়া নেই।
আকাশের ঘুরে আসা নেই।
দু’একটা পুলিশ সহসা ছুটে আসে।
ঘিরে ধরে বলে- কার বাড়ি যেতে চাও?
শালিকের? ঝিনুকের? চেনা কোনো হাওয়াদের?
খয়েরি পুলিশ চেয়ে থাকে।
গোল গোল চোখ- জ্বলে আর নেভে।
পায়ের পাতার কাছে অন্ধকার ফুসে ওঠে।
আমি পাতাদের লোক।
আলো ভালবাসি।
সবুজের মর্মে জেগে থাকি।
তোমরা তো ছায়াতে বিভোর!
কার পানে যাই?
কোনদিকে ফিরে ফিরে যেতে চাই?
ঠিক মনে নেই।
এখন দুপুর-
ভোর বেলা ডেকেছিলে।
শুধু জানি-
শিশির ভেজানো পথে যারা হেটে যায়,
তাদের পায়ের চিহ্ণ জেগে থাকে ঘাসে।
January 30/09

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



