আরেকজন বন্ধু আছে যার কথা প্রায়ই মনে পড়ে। তার সাথে কদাচিৎ সামান্য কথা হয়, তাও ফেসবুকের কল্যাণে। নইলে হয়ত তাও হত না। তবুও বলছি তার কথা। কারণ আমার ছেলে বন্ধুর সংখ্যা একটু বেশিই কম। এই ছেলেটি আমার যতটা কাছে এসেছে, বন্ধু হিসেবে আর কোন ছেলে সেই সুযোগ পায় নি। সে আমার অনেক ভঙ্গুর একটা অবস্থায় আমাকে ভেঙ্গে পড়া থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। তার সেই চেষ্টা প্রায় পুরোটাই সফল হয়েছিল। আমার সেই অবস্থায় তার দেয়া মানসিক শক্তি আর সঙ্গকে আমি খড়কুটোর মত চেপে ধরে কষ্ট এবং হতাশার প্রাথমিক পর্যায় থেকে উঠে এসেছিলাম। আর সে কারণেই হয়ত নিজের অজান্তেই আমি একটু একটু করে তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছিলাম।
কিন্তু আমি নিজেকে সামলে নিয়েছি। যে মুহূর্তে বুঝতে পেরেছি আমি তাকে বন্ধু ছাড়াও আরও কোনভাবে পছন্দ করতে শুরু করেছি, ঠিক সেই মুহূর্তেই নিজেকে মনে করিয়েছি এটা আমার মনের একটা দুর্বল মুহূর্ত বই আর কিছু না। মনে করিয়েছি আমি অন্য কারও; আমি অন্য কাউকে ভালবাসি আর সেই অন্য কেউটাও আমাকে ভালবাসে। মানুষ নাকি মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আমার মনে হয়, মানুষ কোন কোন সময় তার মনকে কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যেমন আমি পেরেছিলাম। নিজেকে সেই দুর্বলতা থেকে বের করে এনেছিলাম।
তবে ঐ যে বললাম, কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, পুরোটা পারে না। তাই তার প্রতি এখনও একটা নমনীয়তা কাজ করে আমার মনে। এজন্যই পরে আমার প্রবল দুঃসময়ে যখন সে আমার পক্ষ নিল না তখন আমার বেশ খারাপ লেগেছিল। তবে কষ্ট পেয়েছি, তা না। কারণ ততদিনে আমি ওর মন-মানসিকতা, ও কীভাবে ভাবে সে সম্পর্কে অনেকটাই পরিষ্কার। তবুও অন্তত বন্ধু হিসেবে আমার বিপদের সময় তার আরও কিছুটা সম্পৃক্ততা আমি আশা করেছিলাম। তবে স্বীকার করতেই হবে, আমার সাথে মতের মিল না হওয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত সে আমার অনেক বড় একটা উপকার করেছিল। এজন্য আমি তার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ থাকবো। ধন্যবাদ বন্ধু। তোর সাথে যোগাযোগ যত কমই হোক, বা না-ও হোক, তবুও তোর জন্য বাকিটা জীবন আমার মনে কৃতজ্ঞতাবোধটুকু থেকে যাবে।

(ছবি: s3.amazonaws.com)
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০১৫ রাত ১১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



